আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ প্রশিক্ষন ব্যবস্থা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
প্রশিক্ষন ব্যবস্থা

প্রশিক্ষণ
১৯৭১ সালের মে নাগাদ ৫০ শতাংশ বিদ্রোহীকে নিরস্ত্র করা হয়। বাকিরা তাদের পূর্ব পরিকল্পিত নিরাপদ ঘাঁটিতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ভারতীয়রা সীমান্ত বরাবর ৫৯টি ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। এসব ক্যাম্পে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসজ্জিত করা হতো। তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে ছিল উদ্বুদ্ধকরণ এবং আদর্শিক দীক্ষা দান।
মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দানে ভারতীয়রা একজন মেজর জেনারেলকে নিযুক্ত করে। এসব ক্যাম্পে যেসব মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল অস্ত্র চালনা। তবে কমান্ডো প্রশিক্ষণ এবং বিস্ফোরক, মাইন, গ্রেনেড প্রভৃতি ব্যবহারের ওপরও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হতো।
প্রশিক্ষণার্থীদের বোঝানো এবং অপপ্রচার চালানোর জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে এমএনএ, এমপিএ এবং অধ্যাপকদের নিয়ে যাওয়া হয়। তারা গেরিলাদের নিয়োগ করছিলেন। দেশের অভ্যন্তরে এভাবে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গড়ে ওঠে ।
এ সময় নদী যোগাযোগ বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ভারতীয়রা পানির নিচে প্রশিক্ষণ দানের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা সম্ভাব্য প্রশিক্ষণার্থীদের প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতো। এরপর তাদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হতো।
প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৩০০ বিদ্রোহীকে আগরতলা থেকে কোচিনে পাঠানো হয়। জানা যায়, প্রায় ৩০০ ডুবুরিকে পশ্চিম বঙ্গে ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশীতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ভারতী নৌবাহিনী ও পাকিস্তান নেভির কয়েকজন স্বপক্ষত্যাগী প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীদের তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় :
- বিজ্ঞানে স্নাতক তাদেরকে দেওয়া হয় দুই মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণ।
- স্নাতক ডিগ্রির নিচে তাদেরকে হালকা অস্ত্র, মর্টার, রকেট লাঞ্চার ও গ্রেনেড ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মানচিত্র পঠন এবং কমান্ডো কৌশলও শিক্ষা দেওয়া হয় তাদের।
- ম্যাট্রিকের নিচে : তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় অন্তর্ঘাতক হিসেবে। তাদের বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক, মাইন ও গ্রেনেড ব্যবহার এবং সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উড়িয়ে দেওয়ার প্রশিক্ষণও যথাযথ দেওয়া হয়।
লক্ষ্ণৌ ও দেরাদুনে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ কেন্দ্রে আর্টিলারি ও সিগনাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আরো জানা গেছে যে, ৮ জন রুশ বিশেষজ্ঞের একটি দল ভারতে বিদ্রোহীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

বিদ্রোহীদের অভ্যন্তরে একটি কমান্ড কাঠামো প্রতিষ্ঠায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রকে স্পেশাল অফিসার কমিশন প্রদান করা হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্ববধানে এসব তরুণ অফিসারকে ৩ মাসের একটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জানা যায় যে, দেরাদুনে ভারতীয় সামরিক একাডেমিতে এ ধরনের প্রায় ৬০০ তরুণ অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
