বরিশাল বিভাগের রাজাকারের তালিকা

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১) ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের লড়াই। এই মুক্তিযুদ্ধে পুরো জাতি অংশগ্রহণ করলেও, কিছু সংখ্যক ব্যক্তি দেশদ্রোহী হিসেবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দোসর হয়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। তাদের ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ব্যাহত করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনে সহায়তা করা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়, তার মধ্যে বরিশাল বিভাগও অন্যতম। বরিশাল অঞ্চল ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, কারণ এ অঞ্চলে নদী-নালা, খাল-বিল ও সমুদ্রপথের সংযোগ ছিল। এই অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের দমন করতে পাকিস্তানি বাহিনী রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতা নেয়।

Bangladesh Genocide Archive” ২০০৮ সালের ৪ঠা এপ্রিল অনলাইনে প্রকাশিত একটি নথিতে বরিশাল বিভাগের রাজাকারদের আংশিক তালিকা প্রকাশ করে। যদিও এটি সম্পূর্ণ তালিকা নয়, তবু ইতিহাসের একটি নৃশংস অধ্যায় হিসেবে এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বরিশাল বিভাগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বরিশাল বিভাগ বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের একটি।
১৯৯৩ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলা নিয়ে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয়।
এর পূর্বে এই অঞ্চল ঢাকা (১৮২৯–১৯৬০) ও খুলনা (১৯৬০–১৯৯২) বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বরিশাল অঞ্চলকে “বাংলার ভেনিস” বলা হয়, কারণ এখানে অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য নদনদীগুলো হলো — কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, মেঘনা, ধানসিঁড়ি, সন্ধ্যা, বিষখালী ও পায়রা নদী

এ অঞ্চলে অধিকাংশ জনগণ মুসলিম হলেও, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে।
তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই অঞ্চল পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাজাকার বাহিনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

রাজাকার শব্দটি এসেছে ফারসি শব্দ “রাযাকার” (رضا کار) থেকে, যার অর্থ “স্বেচ্ছাসেবক”।
কিন্তু ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে “রাজাকার” শব্দটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী দোসর ও বিশ্বাসঘাতকদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয় ১৯৭১ সালের ৫ মে, পাকিস্তানি সামরিক প্রশাসনের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল টিক্কা খান-এর আদেশে।

তাদের মূল কাজ ছিল —

  • পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে স্থানীয় মুক্তিকামী জনতার গতিবিধি জানানো,

  • মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়া,

  • গণহত্যা ও লুণ্ঠনে সহায়তা করা,

  • বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ জনগণের ওপর সন্ত্রাস চালানো।

 

 

বরিশাল বিভাগের রাজাকার কার্যক্রম

বরিশাল বিভাগ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়াবহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সাক্ষী।
বিশেষত বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরগুনা জেলায় রাজাকার ও আলবদর বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও নিরীহ মানুষের গ্রেপ্তার কার্য সম্পন্ন করেছিল।

১৯৭১ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বরিশাল শহর ও আশেপাশের এলাকাগুলোতে রাজাকারদের সক্রিয়তা ছিল সর্বাধিক
তারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং নারীদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায়।

 

বরিশাল বিভাগের রাজাকারের তালিকা

বরিশাল জেলার রাজাকারের তালিকা

রাজাকার নিলু করিকর- আগৈলঝাড়া, বরিশাল

পটুয়াখালী জেলার রাজাকারের তালিকা

রাজাকার মশু মিয়া
রাজাকার মহিউদ্দিন
রাজাকার আলাউদ্দীন সিকদার

পিরোজপুর জেলার রাজাকারের তালিকা

রাজাকার মানিক খন্দকার।
রাজাকার আশরাফ আলী শিকদার
রাজাকার হারুন
রাজাকার হামিদ জমাদার
রাজাকার মোসলেম খাঁ
রাজাকার হামিদ মজুমদার
রাজাকার শুকুর মৃধা
রাজাকার সরদার সুলতান মাহমুদ
রাজাকার ইসমাইল হোসেন
রাজাকার এ্যাডভোকেট আজিজ মল্লিক
রাজাকার সালেহ আহমেদ
রাজাকার ব্যারিস্টার আখতারউদ্দিন
রাজাকার মান্নান
রাজাকার আশ্রাব আলী শিকদার
রাজাকার আজিজুল হক মোক্তার
রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদী
রাজাকার শর্ষিনার পীর আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ
রাজাকার মওলানা আব্দুর রহীম

 

বরগুনা জেলার রাজাকারের তালিকা

রাজাকার দুলাল মেম্বার
রাজাকার ইমামুদ্দিন
রাজাকার শামসু
আজাহার মির্জা।
রাজাকার ইমামুদ্দিন
রাজাকার চানমিয়া
রাজাকার শামসু
রাজাকার নুরুদ্দিন খলিফা
রাজাকার ইমামুদ্দিন
রাজাকার শামসু
রাজাকার খলিলুর রহমান
রাজাকার আব্দুল হক

ঝালকাঠি জেলার রাজাকারের তালিকা

রাজাকার মোতাহার গোমস্তা
রাজাকার ওয়াজেদ গোমস্তা
রাজাকার ওসি সেকান্দার,
রাজাকার সিআই শাহ আলম

Leave a Comment