আজকে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠনতন্ত্রের সংশোধন পহেলা ডিসেম্বর ১৯৮১ইং আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য একটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠনতন্ত্র, সংশোধিত সংস্করন -পহেলা ডিসেম্বরঃ১৯৮১ইং
নাম
১। এই প্রতিষ্ঠানের নাম হইবে “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ”।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
২। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি বিধান, নর-নারী ও ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান এবং মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের স্বীকৃতি, মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সকল সাম্প্রদায়িকতার বিলোপ সাধন, কৃষক-শ্রমিকসহ সকল মেহনতি ও অনগ্রসর জনগণের উপর শোষণ অবসানের অন্য পূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক স্বাধীনতা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষণমুক্ত ও সুষম সাম্যভিত্তিক এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, সর্বাঙ্গীন গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও ক্রমিক যান্ত্রিকীকরণ এবং সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ পদ্ধতির প্রচলন, কৃষি ও শিল্পের প্রসার এবং উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন ও বণ্টন নিয়ন্ত্রণে কৃষক শ্রমিকের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান, মানুষের সাধারণ জীবন-যাত্রার মানোন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অধিকতর কর্মসংস্থান, সমাজের প্রয়োজনের সহিত সামন্তসাপূর্ণ গণমুখী সার্বজনীন সুলত গঠনাত্মক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন, অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, স্বাস্থ্যরক্ষাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারণে মৌলিক সমস্যাবলীর সু-সমাধান, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বয়ম্ভর অর্থনীতির সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা, ব্যক্তিগত সম্পত্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, বিচার ব্যবস্থার কালোপযোগী জনকল্যাণকর পরিবর্তন সাধন এবং গণজীবনের সর্বস্তর হইতে দুর্নীতির মূলোচ্ছেদ করা- এই সকল নীতিসমূহ ও উদ্দেশ্যাবলী সমগ্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত উদ্যম সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় বাস্তবে রূপায়িত করিতে অবিচল নিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তার সহিত সর্বতোভাবে আত্মনিয়োগ করিবে ।
(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার সকল প্রচেষ্টায় সাহায্য ও সহযোগিতা করিবে এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত মুক্তির সংগ্রামকে সমর্থন করিবে
পতাকা
৩। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতাকা হইবে ডানের দুই তৃতীয়াংশ সবুজ এবং বামের এক তৃতীয়াংশ লাল। পতাকার সবুজ অংশের উপরিভাগের দক্ষিণ কোণে সমদূরত্বসম্পন্ন চারটি লাল বর্ণের তারকা খচিত থাকিবে পতাকার আকারে অনুপাত ৫ঃ৩।
গঠন প্রণালী
৪। নিম্নলিখিত সাংগঠনিক ইউনিট সমবায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে :-
(ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল
(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি ।
(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ-
(১) সভাপতিমণ্ডলী, (২) সম্পাদকমণ্ডলী, (৩) কোষাধ্যক্ষ, (৪) ২৭ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় (পার্লামেন্টারী) পার্টি।
(ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারী বোর্ড ।
(চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক অনুমোদিত জেলা আওয়ামী লীগসমূহ, বিভিন্ন নগর ও ঢাকা মহানগরী আ লীগ এবং উহাদের অন্তর্ভুক্ত শাখা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানসমূহ ।
৪। (১) এই গঠনতন্ত্রের ২ ধারায় বর্ণিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতি ও উদ্দেশ্য বিশ্বাস করিয়া নির্ধারিত ফরমে (ফরম-ক) প্রদত্ত ঘোষণাপত্রে দস্তখত করিয়া দ্বি-বার্ষিক দুই টাকা চাঁদা প্রদান করিয়া ১৮ বৎসর বয়স্ক বা তদূর্ধ্ব বয়স্ক বাংলাদেশের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক যাঁহারা
(ক) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অর্থতত্ত্ব, জাতীয় সংহতি ও রাষ্ট্রীয় আদর্শ বিরোধ জননিরাপত্তা বিরোধী ও হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত রহিয়াছেন বলিয়া প্রতীয়মান নহেন;
(খ) কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন নাই কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন নাই,
(গ) অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য নহেন,
(ঘ) কোন প্রকার ধর্ম, পেশা এবং জন্মগত শ্রেণী বৈষম্যে বিশ্বাস করেন না।
(ঙ) আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কোন সংগঠনের সদস্য নহেন।
(চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ কর্তৃক নির্দেশিত ন্যূনতম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও যে কোন নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিবেন, এবং
(ছ) দ্বি-বার্ষিক চাঁদা নিয়মিত পরিশোধ করেন, তাঁহারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য হইতে পারিবেন ।
(জ) সংগঠনে দুই প্রকারের সদস্য পদ থাকিবে । যথা- প্রাথমিক (অস্থায়ী সদস্য) ও পূর্ণাঙ্গ সদস্য। দলের সদস্য পদ প্রার্থীকে দলের প্রাথমিক বা শাখা কমিটির নিকট নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত করিতে হইবে এবং দ্বিবার্ষিক চাঁদা বাবদ ২.০০ (দুই টাকা) দরখাস্তের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
প্রাথমিক বা শাখা কমিটির সদস্যদের সাধারণ সভায় প্রার্থীর সদস্যপদ অনুমোদিত হইলে তিনি অনুমোদনের তারিখ হইতে এক বৎসর পর্যন্ত প্রাথমিক সদস্য বলিয়া গণ্য হইবেন । প্রাথমিক সদস্যের মেয়াদ পূর্ণ হইলে সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রাথমিক সদস্যকে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ প্রদানের জন্য দলীয় জেলা কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে। জেলা কার্যনির্বাহী সংসদ দলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ প্রদান করিতে পারিবেন। পূর্ণাঙ্গ সদস্য না হইলে কেহ সংগঠনের কোন স্তর বা টায়ারে কোন কর্মকর্তা নির্বাচিত হইতে পারিবেন না ।
৪ (২) সদস্য পদের মেয়াদঃ
বাংলা বৎসরের পহেলা বৈশাখ হইতে পরবর্তী বৎসরের চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে। এই উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ অন্তে ৪- (১) ধারায় নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান করিয়া নির্ধারিত ফরমে (ফরম-খ) দস্তখত করিয়া সদস্যপদ পুনরুজ্জীবিত করা যাইবে ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তাগণ
৫। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিম্নলিখিত কর্মকর্তা থাকিবেন :-
সভাপতি-মণ্ডলী
(১) একজন সভাপতি,
(২) দশ জন সভাপতি-মণ্ডলীর সদস্য,
(৩) সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে সদস্য (তিনি সদস্যের অধিকার ভোগ করিবেন) ।
সম্পাদক-মণ্ডলী
(ক) সাধারণ সম্পাদক
(খ) দুইজন যুগ্ম সম্পাদক
(গ) সম্পাদক সংগঠন বিভাগ (সাংগঠনিক সম্পাদক)
(ঘ) সম্পাদক প্রচার বিভাগ (প্রচার সম্পাদক)
(ঙ) সম্পাদক দপ্তর ও আবাস বিভাগ (দপ্তর সম্পাদক)
(চ) সম্পাদক শ্রম বিভাগ (শ্রম সম্পাদক)
(ছ) সম্পাদক কৃষি বিভাগ (কৃষি সম্পাদক)
(জ) সম্পাদক শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ (শিক্ষা সম্পাদক)
(ঝ) সম্পাদক সাংস্কৃতিক বিভাগ (সাংস্কৃতিক সম্পাদক)
(ঞ) সম্পাদক সমাজ কল্যাণ বিভাগ (সমাজ কল্যাণ সম্পাদক)
(ট) সম্পাদক আন্তর্জাতিক বিভাগ (আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক)
(ঠ) সম্পাদিকা মহিলা বিভাগ (মহিলা সম্পাদিকা )
(ঢ) সম্পাদক যুব বিভাগ (যুব সম্পাদক)
(ড) কোষাধাক্ষ ।
সভাপতি, সভাপতি-মণ্ডলীর সদস্য, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক-মণ্ডলীর অন্যান্য সদস্য (মহিলা সম্পাদিকা ও যুব সম্পাদক ব্যতীত) নিজ নিজ পদে দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল কর্তৃক কাউন্সিলারদের মধ্য হইতে সরাসরি নির্বাচিত হইবেন। গঠনতন্ত্রের ২৩ (ঘ) ধারা মতে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ প্রধান পদাধিকার বলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা হইবেন। উক্ত ধারা মতে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রধান পদাধিকার বলে যুব সম্পাদক হইবেন । উপরিউক্ত কর্মকর্তা ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যগণের কার্যকাল দুই বৎসর হইবে। পরবর্তী নির্বাচন। পর্যন্ত তাহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল
৬। নিম্নলিখিত নিয়ম অনুসারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে।
(ক) প্রতি দুই বছর অন্তর জেলা আওয়ামী লীগসমূহ ও বিভিন্ন নগর আওয়ামী লীগ ও ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ। যারা নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচিত কাউন্সিলার সমবায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে।
জেলা আওয়ামী লীগসমূহ ও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী নগর ও ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আহুত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ কর্তৃক নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে তাহাদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল সভায় তাহাদের নিজস্ব কর্মকর্তা ও তাহাদের জেলা হইতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নির্বাচন করিয়া তাঁহাদের পূর্ণ ঠিকানাসহ নামের তালিকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে অবশ্যই প্রেরণ করিবে ।
(খ) প্রত্যেক জেলায় প্রতি ৫০ হাজার জনসংখ্যার জন্য একজন করিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হইবেন । বিভিন্ন নগর ও ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ হইতে প্রতি ২০ (বিশ) হাজার জনসংখ্যার জন্য একজন করিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হইবেন। ভগ্নাংশের বেলায় জেলাসমূহ প্রতি ২৫ হাজার বা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার জন্য একজন এবং নগর ও ঢাকা মহানগরীর প্রতি ১০ হাজার বা তদুর্ধ্ব জনসংখ্যার জন্য একজন কাউন্সিলার নির্বাচন করিবে ।
(গ) কোন জেলা, নগর বা মহানগরী আওয়ামী লীগ কোন কারণবশত যদি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যা সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক কাউন্সিলার ও তাহাদের নিজস্ব কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের গঠনী অনুসারে নির্বাচন করিতে না পারে তাহা হইলে বাংলাদে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ উক্ত জেলা, নগর বা মহানগরের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নিখি সংখ্যক কাউন্সিলর মনোনয়ন দান করিতে পারিবে।
(ঘ) উপরোক্ত নির্বাচিত বা মনোনীত কাউন্সিলরগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে হয়। দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে-কোন শাখায় প্রাথমিক সদস্যভুক্ত ৫০ সদস্যকে কো-অপট করিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্যভুক্ত করিয়া লইবেন ।
৭। (গ) ধারার উল্লেখিত মনোনীত কাউন্সিলরগণ নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সর্বপ্রকার অধিকার ভোগ করিবেন। কিছু মনোনয়নের পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে ঐ সব জেলা বা নগর ও মহানগরী আওয়ামী লীগের নির্বাচনের ব্যবস্থ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে করিতে হইবে।
উক্ত জেলা, নগর ও মহানগরী উহার নিজস্ব কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নির্বাচন করার পর নির্বাচিত সদস্যগণ উক্ত জেলা বা নগর ও মহানগরী আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক মঞ্জুরী প্রাপ্ত হওয়ার পর আপনা আপনি মনোনীত কাউন্সিলরদের স্থলাভিষিক্ত হইবে। মনোনয়ন দান হইতে নূতন নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তীকালের জন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ উক্ত জেলা, নগর ও মহানগরী পূর্ববর্তী কমিটিকে বা তদস্থলে এডহক কমিটি গঠন করিয়া উহাকে দৈনন্দিন কার্য চালাইয়া যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবে।
৮। মনোনয়ন, কো-অপশন বা কোন শাখা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ত্রুটি-বিচ্যুতির অজুহাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল অন্যায়রূপে গঠিত হইয়াছে বলিয়া অভিযোগ করা চলিবে না এবং কাউন্সিলের কোন কার্য বা সিদ্ধান্ত কারণে রদ, বাতিল, বে-আইনী বা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত বলিয়া বিবেচিত হইবে না।
৯। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত কো-অপশনকৃত বা মনোনীত কাউন্সিলরগণ সভায় যোগদান করিবার পূর্বে দ্বি-বার্ষিক ১০.০০ টাকা চাঁদা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান না করিলে কাউন্সিল সভায় যোগদান করিতে পারিবেন না।
১০। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোন কাউন্সিলর যদি তাঁহার নির্বাচনের প্রথম চার মাসের মধ্যে তাঁহার দ্বি-বার্ষিক ১০.০০ টাকা চাঁদা পরিশোধ না করেন তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যকরী সংসদ তাঁহার কাউন্সিল সদস্যপদ খারিজ করিয়া তদস্থলে নূতন কাউন্সিলর মনোনীত করিতে পারিবে, তবে সদস্যপদ খারিজ করার পূর্বে উক্ত সদস্যকে ৭ দিনের মধ্যে দেয় চাঁদা পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দিয়া পোষ্টাল রেজিট্রেশন যোগে নোটিশ দিতে হইবে ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটি
১১। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি জাতীয় কমিটি থাকিবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলা হইতে একজন সদস্য যিনি স্ব স্ব জেলা কর্তৃক মনোনীত হইবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ জন কর্মকর্তা ও কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি কর্তৃক মনোনীত ১১ জন সদস্য সমন্বয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটি গঠিত হইবে।
(খ) জাতীয় কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যকরী সংসন ও কাউন্সিলের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করিবে ।
(গ) যে কোন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলকে সহায়তা করিবে।
(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যকরী সংসদের সিদ্ধান্ত ও কার্যাবলী পর্যালোচনা করিতে পারিবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী, বা বিশেষ অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবসমূহ কার্যকরী করিতে পারিবে ।
(ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হিসাব নিকাশ গ্রহণ ও অনুমোদন করা।
(চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপিল বিবেচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
(ছ) সংসনীয় পার্টি পরিচালনার জন্য নিয়মাবলী প্রণয়ন করা ।
(জ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ পদাধিকার বলে জাতীয় কমিটির কর্মকর্তারূপে কার্য পরিচালনা করিবেন।
(ঝ) জাতীয় কমিটি বৎসরে অন্তত ২টি অধিবেশনে মিলিত হইবে ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ
১২। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ, কোষাধ্যক্ষ এবং সভাপতিমণ্ডলী কর্তৃক মনোনীত আরও ২৭ জন সদস্য সমন্বয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ গঠিত হইবে।
১৩। গঠনতন্ত্রের ১২ ধারায় বর্ণিত কার্যনির্বাহী সংসদের ২৭ জন সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী কর্তৃক মনোনীত হইবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা নির্বাচনের ২১ দিনের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর অনুমোদনক্রমে দলের সভাপতি কার্যনির্বাহী সংসদের উক্ত ২৭ জন সদস্যের মনোনয়ন ঘোষণা করিবেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভা
১৪ । সভাপতির নির্দেশ বা অনুমোদনক্রমে সাধারণ সম্পাদক যে কোন সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল সভা আহ্বান করিতে পারিবেন। দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী অধিবেশন ব্যতীত বৎসরে অন্ততঃ একবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভা আহ্বান করিতে হইবে । এতদ্ব্যতীত ন্যূনপক্ষে শতকরা ২০ (কুড়ি) জন বা ৫ ভাগের এক ভাগ- (কাউন্সিলর) স্বাক্ষর ও আলোচ্য বিষয় সম্বলিত রিকুইজিশনপত্র সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতির নিকট দাখিল করিবার ৩০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নিজে বা সভাপতির নির্দেশে কাউন্সিল সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন । এক-তৃতীয়াংশ জন সদস্য উপস্থিত হইলে কাউন্সিল সভার কোরাম হইবে কিন্তু মুলতবী সভার জন্য কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
১৫ । (ক) উপরোক্ত যে কোন কাউন্সিল সভায় সভাপতি এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর যে কোন সদস্য বা তাহাদের অনুপস্থিতিতে সদস্যদের যে কেহ নির্বাচিত হইয়া সভাপতিত্ব করিবেন।
(খ) রিকুইজিশনপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে যদি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান না করেন তবে রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ ৩০ দিন পরে নিজেরাই ২১ দিনের নোটিশ দিয়া সভা আহ্বান করিতে পারিবেন ।
১৬। কার্যনির্বাহী সংসদের নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের বিশেষ বা বার্ষিক বা দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইবে।
১৭ । কাউন্সিলের বিশেষ বার্ষিক বা দ্বি-বার্ষিক অধিবেশনে সমস্ত জেলা, নগর ও মহানগরী আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণক্রমে তাহাদের জেলা নগর ও ঢাকা মহানগরী হইতে নির্বাচিত কাউন্সিলরের সমসংখ্যক ডেলিগেট পাঠাইতে পারিবে। উক্ত ডেলিগেটগণ প্রত্যেকে ১০.০০ টাকা হারে চাঁদা প্রদান করিয়া উক্ত অধিবেশনে যোগদান করিতে পারিবেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল সভায় নির্বাচিত, কো-অপশনকৃত মনোনীত কাউন্সিলরগণ ব্যতীত অন্য কোন লোক বিনা আমন্ত্রণে যোগদান বা অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।
১৮ । কাউন্সিলের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভা, বার্ষিক সভা বা বিশেষ সভার জন্য সাধারণত ১৫ দিনের ও জরুরী সভার ৭ দিনের নোটিশ দিতে হইবে। নোটিশে আলোচ্য বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করিতে হইবে। সংবাদপত্র মারফতেও অধিবেশনের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করিতে হইবে ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সভা
১৯। সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করিবেন। সভাপতির নির্দেশক্রমে সাধারণ সম্পাদক উক্ত সংসদের সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। সভাপতির নির্দেশক্রমে সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান না করিলে, সভাপতি নিজেই সভা আহ্বান করিতে পারিবেন। কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ১৩ জন সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হইবে। সাধারণতঃ সভাপতির সহিত আলোচনাক্রমে সাধারণ সম্পাদক ও নি নোটিশে সভাপতিমণ্ডলীর সভা আহ্বান করিবেন। জরুরী সভা যে কোন সময় ডাকিতে পারিবেন। সভাপতিমণ্ডলী সভায় ৭ জন সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হইবে।
২০। কার্যনির্বাহী সংসদের সভার জন্য সাধারণত ৭ দিনের নোটিশ দিতে হইবে। কিন্তু জরুরী সভার জন্য কোন নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশের প্রয়োজন হইবে না। আবশ্যক হইলে সংবাদপত্রের মাধ্যমেও নোটিশ দিয়া সভা আহবান করা চলিবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের কার্যাবলী ও ক্ষমতা
২১। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল নিম্নলিখিত কার্যাবলী সম্পন্ন ও ক্ষমতাসমূহ প্রয়োগ করিবে
(ক) গঠনতন্ত্রের ৫ ধারায় উল্লেখিত কর্মকর্তা নির্বাচন
(খ) আওয়ামী লীগের নীতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে কোন প্রস্তাব গ্রহণ;
(গ) আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করিবার প্রস্তাব গ্রহণ;
(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য সাধন করার প্রয়োজনে যে কোন কর্মপন্থা গ্রহণ করা;
(ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সংসদীয় (পার্লামেন্টারী) বোর্ড গঠন করা:
(চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল বিনা শর্তে বা শর্তাধীনে যে কোন ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদের উপর ন্যস্ত করিতে পারিবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের কার্যক্রম ও ক্ষমতা
২২। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ নিম্নলিখিত কার্যাবলী সম্পন্ন ও ক্ষমতাসমূহ প্রয়োগ করিবে
(ক) শাখা আওয়ামী লীগসমূহকে মঞ্জুরী প্রদান বাতিল করা, পুনঃনির্বাচনের ব্যবস্থা করা বা প্রয়োজনবোধে যে কোন শাখা কমিটি বাতিল করিয়া তদস্থলে এডহক কমিটি গঠন করা এবং এডহক কমিটি গঠনের ৩ মাসের মধ্যে উক্ত শাখার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় ৩ মাস পরে এডহক কমিটি বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে ।
(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল, জাতীয় কমিটি, কার্যনির্বাহী সংসদ বা অন্য কোন কমিটি বা সংসদীয় বোর্ডের সদস্যপদ বা আওয়ামী লীগের কোন কর্মকর্তার পদ শূন্য হইলে কো-অপশন বা মনোনয়ন যারা তাহা পূরণ করা।
(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় দল, বা ইহার কোন সদস্যের প্রতি নির্দেশ, উপদেশ ও নিয়ন্ত্রণাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা সভাপতি-মণ্ডলীর থাকিবে এবং উপরোক্ত সদস্যের কেহ উহা অমান্য করিলে অথবা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানের নীতি ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কোন কাজ করিলে সভাপতি-মণ্ডলী উহা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদে পেশ করিতে পারিবে।
(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটিতে দাখিল করিবার উদ্দেশ্যে বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করা।
(ঙ) ১০,০০০.০০ টাকা অনুরে যে কোন ব্যয় অনুমোদন করা ।
(চ) সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক কর্মচারী নিয়োগ বা বরখাস্ত অনুমোদন করা ।
(ছ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের যে কোন সদস্য বিনা কারণে বা সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে পর পর তিনটি সাধারণ সভায় অনুপস্থিত থাকিলে তাহার নাম কার্যনির্বাহী সংসদের তালিকা হইতে খারিজ করা কিছু খারিজ করিবার পূর্বে উক্ত সদস্যকে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক কারণ দর্শাইবার জন্য পোষ্টাল রেজিষ্ট্রেশন যোগে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে। (জ) ১৬ ধারা মতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের নির্বাচনী বা বার্ষিক বা বিশেষ অধিবেশন আহ্বান ও তাহার স্থান ও আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা।
(ঝ) আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ করিবার তারিখ নির্ধারণ করা, বিভিন্ন শাখার নির্বাচনের তারিখ ধার্য করা এবং বাংলাদেশ আদমশুমারী অনুসারে ৬ (খ) ধারায় উল্লেখিত জনসংখ্যার ভিত্তিতে কোন জেলা বা নগর বা ঢাকা মহানগরী হইতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য কত জন সদস্য নির্বাচিত হইবেন উহা হিসাব করিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনের পূর্বে উপযুক্ত নোটিশ প্রদান করা।
(ঞ) আবশ্যক বোধে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগীয় সম্পাদকের কার্যক্রম নির্ধারণ করা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্মকর্তাদের কার্যাবলী ও ক্ষমতা
২৩। (ক) সভাপতি তিনি প্রতিষ্ঠানের সর্বপ্রধান কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হইবেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল, কেন্দ্রীয় কমিটির সকল অধিবেশন, কার্যনির্বাহী সংসদ ও সভাপতি মণ্ডলীর সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং প্রয়োজন বোধে প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রের যে কোন ধারা ব্যাখ্যা করিয়া রুলিং দিতে পারিবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে একজন সদস্যের প্রস্তাবক্রমে এবং অন্য একজন সদস্যের সমর্থনক্রমে সভাপতিমণ্ডলীর যে কোন সদস্য উক্ত অধিবেশন বা সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(খ) সভাপতিমণ্ডলীর ক্ষমতা সভাপতিমণ্ডলী গঠনতন্ত্রের ১৩নং ধারা অনুসারে কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মনোনীত করিবেন এবং প্রয়োজনবোধে গঠনতন্ত্রের যে কোন ধারা ব্যাখ্যা সম্পর্কে কাউন্সিল বা কার্যনির্বাহী সংসদের মতামত লইতে পারিবেন এবং প্রয়োজনবোধে সভাপতির মাধ্যমে কার্যনির্বাহী সংসন বা কাউন্সিল সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।
সভাপতি, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সহিত আলোচনা করিয়া সভাপতিমণ্ডলীর অনুমোদনক্রমে বিষয় নির্বাচনী কমিটির সদস্যগণকে মনোনীত করিবেন। সভাপতিমণ্ডলী কার্যনির্বাহী সংসদ বা কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন ক্ষমতা গ্রহণ ও প্রয়োগ করিতে পারিবেন। আওয়ামী লীগের আদর্শ, নীতি, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও কর্মসূচীর বিষয়ে প্রশিক্ষণদানসহ সভাপতিমণ্ডলী সকল প্রকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ও সিদ্ধান্ত লইতে পারিবে।
সভাপতিমণ্ডলী সম্পাদকমণ্ডলীর সহিত আলাপ-আলোচনা ক্রমে রাষ্ট্রের ঐক্য, কল্যাণ, নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন। সভাপতিমণ্ডলী কার্যনির্বাহী সংসদ কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে জরুরী ও অতি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন ।
সকল প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সভাপতিমণ্ডলীর একমাত্র লক্ষ্য হইবে প্রতিষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন উন্নতি, অগ্রগতি ও শ্রীবৃদ্ধি, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের প্রত্যেকে নির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব পালন করিবেন। সভাপতিমণ্ডলী সদস্যদের মধ্যে যৌথভাবে দায় দায়িত্ব বণ্টন করিবেন। সভাপতিমণ্ডলী আবশ্যক বোধে বিভিন্ন বিভাগীয় সম্পাদকের কার্যক্রম নির্ধারণ করিবেন।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ সাধারণত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমতে সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন। কোন কারণে সদস্যবৃন্দ যদি কোন বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছিতে না পারেন তবে অধিকাংশ সদস্যের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(গ) সাধারণ সম্পাদক- তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মসচিব বলিয়া পরিগণিত হইবেন। তিনি সমস্ত বিভাগীয় সম্পাদককে তাঁহাদের বিভাগীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবার জন্য উপদেশ ও নির্দেশ দিতে পারিবেন। মাসে অন্ততঃ একবার তিনি বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সভা ডাকিবেন এবং উক্ত সভায় বিভাগীয় কাযালীর অগ্রগতি সম্বন্ধে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার কার্যনির্বাহী সংসদের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
ডিও কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নিয়োগ, বরখান্ত, বেতন বৃদ্ধি বা হ্রাস, ছুটি মঞ্জুর শান্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবেন। সভাপতিমণ্ডলী, কার্যনির্বাহী সংসদ জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লী কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত যাহাতে বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে কার্যকরী হয় তাহার বিধি ব্যবস্থা করিবেন। সাধা সম্পাদক প্রত্যেকটি কাউন্সিল সভায় প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী সম্বন্ধে রিপোর্ট পেশ করিবেন।
এতভিন্ন যে ত কাউন্সিল বা জাতীয় কমিটি তাহার উপর ন্যস্ত করিবে তাহাও তিনি প্রয়োগ করিবেন। তিনি বিভাগীয় সম্পাদকের নিম্ন নিজ বিভাগীয় কার্যাবলী ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের যে কোন কাজ সম্পাদন করিবার জন্য যে কোন যুগ্ম সম্পাদক অ বিভাগীয় সম্পাদকের উপর ভার দিতে পারিবেন এবং তাহারা তাহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন।
সাধারণ সম্পাদক কার্য উপলক্ষে অনুপস্থিত থাকিলে অনুপস্থিতকালের জন্য তাহার সমস্ত কার্য ও দায়িত্ব পালনের ভার ক্রমানুসারে যুগ সম্পাদকদ্বয়ের উপর এবং যুগ্ম সম্পাদকদ্বয় অনুপস্থিত থাকিলে তাহাদের সমস্ত দায়িত্ব ক্রমানুসারে বিভাগীয় সম্পাদকদের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(ঘ) বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলী-
তাঁহারা নিজ নিজ বিভাগীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন এবং সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নির্দেশ ও উপদেশাবলী কার্যকরী করিবেন । বিভাগীয় সম্পাদকগণ নিজ নিজ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলী সমাধানের জন্য কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহবানের প্রয়োজন মনে করিলে সাধারণ সম্পাদককে উক্ত সমস্যা জানাইয়া সভা আহ্বানের অনুরোধ করিতে পারিবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রত্যেক কাউন্সিল সভায় বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলী সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট মারফত তাঁহাদের স্ব বিভাগের কার্যাবলীর অগ্রগতি সম্পর্কে কাউন্সিলরগণকে অবহিত করিবেন।
মহিলা সম্পাদিকা
বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ প্রধান পদাধিকার বলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিল সম্পাদিকা হইবেন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানের একটি মহিলা ফ্রন্ট গঠন করিয়া সারাদেশে মহিলাগণকে সদস্যভুক্ত করিবেন । তাঁহার অধীনস্থ মহিলা ফ্রন্টের যাবতীয় ব্যয়ভার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তহবিল হইতে বহন করা হইবে। মহিলা সম্পাদিকা নারী জাতির বিভিন্ন সমস্যা এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নীতি ও উদ্দেশ্য প্রচার করিবেন।
এতদুদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিলা সম্পাদিকার সহায়তা ও পরামর্শক্রমে বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলা ও ইউনিটের মহিলা সম্পাদিকাদের নেতৃত্বে জেলা, নগর ও ঢাকা মহানগর থানা, ইউনিয়ন ও ইউনিট পর্যন্ত অনুরূপ উপ-সংসদ গঠন করিবার ক্ষমতা থাকিবে ।
যুব সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রধান, পদাধিকার বলে যুব সম্পাদক নির্বাচিত হইবেন । তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানে একটি যুব ফ্রন্ট গঠন করিয়া সারাদেশে যুব সমাজকে সদস্যভুক্ত করিবেন। দেশের যুবশক্তিকে সুসংহত করিয়া দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণার্থে যুবশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো, যুব সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং যুবশক্তিকে সেবামূলক কাজে প্রবৃত্ত করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে সফল করিয়া তোলাই হইবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব শাখার উদ্দেশ্য।
এই উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি যুব সম্পাদকের নেতৃত্বে জেলা, নগর ও মহানগর, থানা, ইউনিয়ন ইউনিট পর্যন্ত অনুরূপ উপ-সংসদ গঠন করিবেন ।
প্রতিষ্ঠানের সমস্ত অর্থ তাঁহার নিকট গচ্ছিত থাকিবে। তিনি সাধারণ সম্পাদকের নিকট হইতে লিখিত রশিদ পাইয়া অর্থ প্রদান করিবেন। ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদকের যুক্ত স্বাক্ষরে উঠানো যাইবে।
সংসদীয় বোর্ড
২৪ । (ক) বাংলাদেশ আইন সভার নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে প্রার্থী মনোনীত করার জন্য একটি সংসদীয় (পার্লামেন্টারী) বোর্ড গঠিত হইবে।
(খ) উক্ত বোর্ড ১১ জন সদস্য সমবায়ে গঠিত হইবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আইন সভার আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের নেতা- এই ৩ জন পদাধিকার বলে উক্ত বোর্ডের সদস্য থাকিবেন । বাকী ৮ জন সদস্য আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সদস্যদের মধ্য হইতে কাউপিল কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন ।
বোর্ডের কার্যকাল কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। পদাধিকারবলে যে ৩ জন সদস্য থাকিবেন তাহাদের মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিক পদের অধিকারী হইলে তাঁহাদের অতিরিক্ত পদের জন্য নির্দিষ্ট আসনে কাউন্সিল কর্তৃক নুতন সদস্য নির্বাচিত হইবেন।
(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি পদাধিকারবলে উরু বোর্ডের সভাপতি থাকিবেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে উক্ত বোর্ডের সম্পাদক থাকিবেন।
(ঘ) উক্ত বোর্ড নির্বাচন সম্পৰ্কীয় যাবতীয় কার্য সম্পন্ন করিবেন। বোর্ড নির্বাচনী কর্মসূচী প্রণয়ন ও নির্বাচন: পরিচালনার জন্য যে কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে পারিবে। নির্বাচনে যাঁহারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী হইবেন তাঁহারা উক্ত বোর্ডের নিকট মনোনয়ন প্রার্থনা করিয়া যে দরখাস্ত দাখিল করিবেন তাহার অনুরূপ এক কপি দরখাস্ত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদকের মাধ্যমে লিখিত রশিদ লইয়া বা পোষ্টাল রেজিষ্ট্রেশন যোগে পাঠাইবেন।
জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ উক্ত মনোনয়ন প্রার্থীদের গুণাগুণ ও জনপ্রিয়তা প্রভৃতি বিষয় পুরাপুরিভাবে বর্ণনা করিয়া তাঁহাদের সুপারিশ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বোর্ডের কাছে পাঠাইবেন। সংসদীয় বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করিবে। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ।
সংসদীয় পার্টি
২৫। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সদস্য আইনসভা বা পরিষদের সভা নির্বাচিত হইবেন তাঁহারা উক্ত আইন সভা বা পরিষদে আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টি গঠন করিতে ও উহার নিজস্ব কর্মকর্তা নির্বাচন করিতে বাধা থাকিবেন। সংসদীয় পার্টিভুক্ত প্রত্যেক সদস্য উক্ত পার্টির সিদ্ধান্ত মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন। উক্ত পার্টির সংখ্যাগুরু সদস্যদের সিদ্ধান্তই পার্টির সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে; কিন্তু উক্ত সংসদীয় পার্টি প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রের মূল নীতি বা কোন ধারার বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেনা ।
(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির একজন লীডার ও একজন ডেপুটি লীডার থাকিবেন এবং প্রয়োজনবোধে উক্ত পার্টি অন্যান্য কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করিয়া নির্বাচন দ্বারা তাহা পূরণ করিতে পারিবেন ।
(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির সদস্যগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের উপদেশ ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় তাহাদের বিরুদ্ধে ২২-(গ) ধারা প্রযোজ্য হইবেন ।
(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টি এই ধারার (ঘ) উপধারা মতে কর্মকর্তা নির্বাচন করিবার পর কর্মকর্তাগণ এক বৈঠকে মিলিত হইয়া তাঁহাদের নিজ নিজ কার্যাবলী স্থির করিয়া লইবেন। কিন্তু যদি ইহা স্থির করিতে তাহারা অক্ষম হন তাহা হইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ উহা চূড়ান্তভাবে স্থির করিয়া দিবেন ।
(ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির সদস্যগণ তাঁহাদের পার্টির তহবিলে ৫.০০ টাকা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তহবিলে ২০.০০ টাকা, নিজস্ব জেলা আওয়ামী লীগ তহবিলে ১৫.০০ টাকা ও নিজস্ব থানা আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল | দ্বিতীয় খ তহবিলে ১০.০০ টাকা এনে মোট ৫০.০০ টাকা মাসিক চাঁদা দিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় বাংলাদেশ আওয়া লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ তাঁহাদের বিরুদ্ধে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাখার পারস্পরিক সম্পর্ক ও মর্যাদা
২৬। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অধীনে ঢাকা মহানগরে একটি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে। এবং প্রত্যেক জেলায় একটি করিয়া জেলা আওয়ামী লীগ এবং চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী পৌর এলাকায় জেলার মর্যাদা সম্পন্ন একটি করিয়া নগর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে ।
(খ) প্রত্যেক জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে প্রতি থানায় একটি করিয়া থানা আওয়ামী লীগ এবং জেলা সদরে থানার মর্যাদাসম্পন্ন পৌর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে।
(গ) ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগের অন্তর্গত প্রতি ওয়ার্ডে একটি করিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে এবং সেইগুলি থানা আওয়ামী লীগের মর্যাদাসম্পন্ন হইবে ।
(ঘ) ঢাকা মহানগরের ওয়ার্ডসমূহের প্রতি ইউনিটে একটি করিয়া ইউনিট আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে এবং ইহা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক ইউনিটরূপে গণ্য হইবে ।
(ঙ) প্রত্যেক থানা আওয়ামী লীগের অধীনে প্রতি ইউনিয়ন এবং শহর বা পৌর এলাকায় একটি করিয়া ইউনিয়ন, শহর বা পৌর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে ।
(চ) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ গঠন করার সময় প্রত্যেক গ্রাম হইতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সদস্য গ্রহণ করিতে হইবে ।
(ছ) চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের অধীনে যদি একাধিক থানা থাকে তবে উহা ঠিকই থাকিবে কিন্তু যদি কোনটিতে শুধু মাত্র একটি থানা থাকে তবে প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থানার মর্যাদা পাইবে ।
জেলা আওয়ামী লীগ (সাংগঠনিক)
২৭। বাংলাদেশের প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলায় নিম্নলিখিত সদস্যগণ সমবায়ে একটি জেলা আওয়ামী কাউন্সিল গঠিত হইবে
(ক) প্রতি থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত ২৫ জন সদস্য ।
(খ) প্রতি জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক উহার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে প্রতি থানা হইতে কো-অপশানকৃত ৫ জন করিয়া সদস্য।
২৮। (ক) জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের মোট সদস্যের এক পঞ্চমাংশ কাউন্সিলার সভায় উপস্থিত হইলেই কোরাম হইবে ।
(খ) প্রত্যেক কাউন্সিলারকে প্রতি দুই বৎসরের জন্য ৫.০০ টাকা চাঁদা দিতে হইবে ।
(গ) জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিলারদের দেয় উরু চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে জেলা কার্যনির্বাহী সংসদ গঠনতন্ত্রের ১ ও ১০ ধারায় উল্লেখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে ।
২৯। প্রত্যেক জেলা আওয়ামী লীগে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা থাকিবেন এবং জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল উহার দ্বি- বার্ষিক নির্বাচনী অধিবেশনে উক্ত কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে
(ক) সভাপতি
(খ) ৩ জন সহ-সভাপতি
(গ) সাধারণ সম্পাদক
(ঘ) সাংগঠনিক সম্পাদক
(ঙ) প্রচার সম্পাদক
(চ) অফিস সম্পাদক
(ছ) শ্রম সম্পাদক
(জ) কৃষি সম্পাদক
(ঝ) শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক
(ঞ) সমাজ কল্যাণ সম্পাদক
(ট) মহিলা সম্পাদিকা (জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা ফ্রন্ট)
(ঠ) যুব সম্পাদক (জেলা আওয়ামী লীগের যুব শাখা)
(ড) কোষাধ্যক্ষ।
৩০। উপরোক্ত জেলা আওয়ামী লীগ কর্মকর্তাগণ ও জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত ২৫ জন সদস্য সমবায়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ গঠিত হইবে এবং ৭ জন সদস্য সভায় উপস্থিত হইলেই কোরাম হইবে।
৩১। জেলার যে সমস্ত বিষয় সম্বন্ধে এই গঠনতন্ত্রে কোন উল্লেখ নাই সে সমস্ত ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিয়মাবলী প্রযোজ্য হইবে । জেলা আওয়ামী লীগের অধীনস্থ থানা, শহর, পৌর ইউনিয়ন চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের অধীনস্থ থানা, পৌর ওয়ার্ড নির্দিষ্ট সময়ে স্ব স্ব কমিটি গঠনে ব্যর্থ হইলে জেলা আওয়ামী লীগ ৬ (গ) ৩৭ ধারার অনুরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারেন ।
ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ
৩২। ঢাকা পৌর এলাকায় বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন একটি মহানগর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে
৩৩ । নিম্নলিখিত সদস্যগণ সমবায়ে ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে;
(ক) মহানগরীর অন্তর্গত প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত ১০ জন সদস্য ।
(খ) মহানগরী আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক উহার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে কো-অপশনকৃত ১৫ জন সদস্য ।
৩৪। ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ নিম্নলিখিত কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে।
(ক) সভাপত্তি
(খ) পাঁচ জন সহ-সভাপতি
(গ) সাধারণ সম্পাদক
(ঘ) দুই জন যুগ্ম সম্পাদক
(ঙ) সাংগঠনিক সম্পাদক
(চ) প্রচার সম্পাদক
(ছ) অফিস সম্পাদক
(জ) শ্রম সম্পাদক
(ঝ) শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
(ঞ) সমাজ কল্যাণ সম্পাদক
(ট) মহিলা সম্পাদিকা মহানগরী আওয়ামী লীগ মহিলা ফ্রন্ট)
(ঠ) যুব সম্পাদক (মহানগরী আওয়ামী লীগ যুব শাখা)
(ড) কোষাধ্যক্ষ
(ঢ) সদস্য সংখ্যা ৩৪
৩৫। (ক) মহানগরী আওয়ামী লীগ অন্তর্গত প্রত্যেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ থানা আওয়ামী লীগের মর্যাদাসম্পন্ন হইবে এবং মহানগরী আওয়ামী লীগের অনুরূপ কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে। ৩৬ (ক) (ঘ) (৫) উপধারা এবং ৪১ ধারাও উহার প্রতি প্রযোজ্য হইবে ।
(খ) মহানগরী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ইউনিট আওয়ামী লীগগুলি প্রাথমিক ইউনিট বলিয়া গণ্য হইবে এবং এক্ষেত্রে ৩৮, ৩৯ ও ৪১ ধারা প্রযোজ্য হইবে ।
(গ) মহানগর আওয়ামী লীগ অন্যান্য ক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতি প্রযোজ্য নিয়ম কানুন অনুসরণ করিবে।
থানা আওয়ামী লীগ
৩৬। প্রতি থানায় একটি করিয়া থানা আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে। থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল নিম্নোক্তভাবে গঠিত হইবে
(ক) প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ১০ জন সদস্য ।
(খ) প্রত্যেক পৌর আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ১০ জন সদস্য।
(গ) শহর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ৭ জন সদস্য।
(ঘ) থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক উহার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে কো-অপশানকৃত ১৫ (পনের) জন সদস্য
(ঙ) উপরোক্ত কাউন্সিলের প্রত্যেক সদস্যকে দ্বি-বার্ষিক ৩.০০ টাকা হারে চাঁদা প্রদান করিতে হইবে ।
৩৭। থানা আওয়ামী লীগ নিম্নলিখিত কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে এবং অন্যান্য ব্যাপারে উহার প্রতি জেলার নিয়মাবলী প্রযোজ্য হইবে,
(ক) সভাপতি
(খ) ৩ জন সহ-সভাপতি
(গ) সাধারণ সম্পাদক
(ঘ) সাংগঠনিক সম্পাদক
(ঙ) প্রচার সম্পাদক
(চ) অফিস সম্পাদক
(ছ) এ সম্পাদক
(জ) কৃষি সম্পাদক
(ঝ) শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
(ঞ) সমাজকল্যাণ সম্পাদক
(ট) মহিলা সম্পাদিকা মহিলা ফ্রন্ট
(ঠ) যুব সম্পাদক-যুব শাখা
(ড) কোষাধ্যক্ষ
পৌর ও শহর আওয়ামী লীগ
৩৮ । প্রত্যেক পৌর এলাকায় ও শহরে নিম্নলিখিত সদস্যগণ সমবায়ে পৌর ও শহর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে:
(ক) প্রত্যেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ১৫ জন সদস্য । (গ) প্রত্যেক পৌর ও শহর আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে কো-অপশনকৃত ১৫ জন সদস্য (গ) পৌর ও শহর আওয়ামী লীগসমূহ ৩৫ ধারার বর্ণনা অনুযায়ী কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে এবং অন্যান্য ব্যাপারে উহাদের ক্ষেত্রে থানা আওয়ামী লীগের নিয়মাবলী প্রযোজ্য হইবে । (ঘ) পৌর ও শহর আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন প্রাথমিক ইউনিট রূপে গণ্য হইবে এবং উহার ক্ষেত্রে ৩. ৪০ ৩৪২ ধারা প্রযোজ্য হইবে।
প্রাথমিক আওয়ামী লীগ
৩৯। (ক) প্রত্যেক ইউনিয়নে বা নগর ও মহানগরী আওয়ামী লীগের অন্তর্গত প্রত্যেক ইউনিটে বস্তুতপক্ষে ৫০০ (পাঁচশত) জন সদস্য অবশ্য সংগ্রহ করিতে হইবে।
(খ) উপরোক্ত শাখা আওয়ামী লীগগুলির প্রাথমিক সদস্যগণই যথাক্রমে ঐ শাখাসমূহের কাউন্সিলার বলিয়া গণ্য হইবেন ।
৪০। (ক) প্রত্যেক ইউনিয়ন পৌর বা ইউনিট আওয়ামী লীগে থানার অনুরূপ কর্মকর্তা ছাড়াও ২৫ জন সদস্য সমবায়ে একটি কার্যনির্বাহী সংসদ গঠিত হইবে।
(খ) কর্মকর্তা ও প্রত্যেক কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যকে দ্বি-বার্ষিক ২.০০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হইবে।
৪১। ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ইউনিটগুলি ছাড়া পৌর এলাকার বা ইউনিয়নের অন্তর্গত যে সমস্ত ইউনিট থাকিবে তাহাদের আলাদা কোন ইউনিট আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে না।
৪২। জেলা, মহানগর, নগর, থানা, শহর, পৌর বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভা ও কার্যনির্বাহী সংসদের সভার ক্ষেত্রে যথাক্রমে গঠনতন্ত্রের ১৮ ও ২০ ধারা প্রযোজ্য হইবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা
৪৩। (ক) কোন সদস্য আওয়ামী লীগের আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মসূচী, গঠনতন্ত্র, নিয়মাবলী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করিলে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল, কার্যনির্বাহ সংসদ, সংসদীয় বোর্ড বা সংসদীয় পার্টির বিরুদ্ধে কোন কার্য করিলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ তাঁহার বিরুদ্ধে যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির নিকট প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে আপীল করা চলিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ।
(গ) আপীলের আবেদনপত্র সাধারণ সম্পাদক প্রাপ্তির রশিদ দিয়া গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় কমিটির নিকট পেশ করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় জাতীয় কমিটির যে কোন সদস্য সভাপতির অনুমতি লইয়া বিষয়টি বিবেচনা ও সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উত্থাপন করিত পারিবেন।
(ঘ) জাতীয় কমিটি সভা আহ্বানের নোটিশ দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে উক্ত আপীলের দরখাস্ত সাধারণ সম্পাদকের নিকট পেশ করিতে হইবে । সাধারণ সম্পাদক এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়গুলি জাতীয় কমিটির কার্যসূচীভুক্ত করিতে বাধ্য থাকিবেন ।
(ঙ) শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করিয়া উপযুক্ত কারণ দর্শাইবার জন্য সুযোগদানের উদ্দেশ্যে সাধারণ সম্পাদক পোষ্টাল রেজিষ্ট্রেশনযোগে নোটিশ দিতে বাধ্য থাকিবেন।
(চ) শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হইলে অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে যে কোনরূপ শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের থাকিবে।
(ছ) প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি প্রদানের জন্য নিম্নতম যে কোন শাখা । আওয়ামী লীগের লিখিত অনুরোধপত্র পাওয়ার পর থানা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ নিজেদের সিদ্ধান্তসহ উক্ত অনুরোধপত্র জেলা কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট পাঠাইবেন। জেলা কার্যনির্বাহী সংসদ এ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়া উক্ত বিষয় বিবেচনা পূর্বক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট প্রেরণ করিবেন।
এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ স্ব কোন সদস্যের বিরুদ্ধে উপরোক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবশ্যকতা বোধ করিলে জেলা কার্যনির্বাহী সংসদে সিদ্ধান্ত আপন করিয়া বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট প্রেরণ করিবেন ।
(জ) প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ক্ষমতা একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের থাকিবে।
(ঝ) প্রত্যেক শাখা আওয়ামী লীগকে তাহার ঊর্ধ্বতন শাখার নিকট হইতে মঞ্জুরী গ্রহণ করিতে হইবে। ইহা ছাড়া আবশ্যকবোধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ যে কোন শাখাকে সরাসরি মঞ্জুরী প্রদান করিতে পারিবে।
(ঞ) কোন শাখা আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কোন গোলযোগ বা বিরোধ দেখা দিলে ঊর্ধ্বতন শাখা উ নিষ্পত্তি করিতে পারিবে । কিন্তু এই নিষ্পত্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট আপীল করা চলিবে এবং সেই ক্ষেত্রে উহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ।
প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল
৪৪। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সংক্রান্ত গোলযোগ নিষ্পত্তির জন্য একজন আহ্বায়ক সহ ৫ সদস্য সমবায়ে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে এবং এই ট্রাইব্যুনালের উপর যে কোন ক্ষমতা ন্যস্ত করিতে পারিবে। এই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট আপীল করা চলিবে। কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ।
আওয়ামী লীগ তহবিল
৪৫। (ক) প্রত্যেক কাউন্সিলারের ১০.০০ টাকা হারে চাঁদা।
(খ) আইন সভা বা পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের মাসিক ২৫.০০ টাকা হারে চাঁদা
(গ) প্রত্যেক জেলার মঞ্জুরী ফী বাবদ ৫.০০ টাকা।
(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার দফতর কর্তৃক প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বিক্রয়লব্ধ অর্থ ।
(ঙ) এককালীন দান ।
(চ) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ।
(ছ) সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ।
(জ) সাহায্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ।
(ঝ) প্রাথমিক সদস্য শ্ৰেণীভুক্ত হওয়ার জন্য দেয় বি-বার্ষিক চাঁদার অংশ ।
জিলা বা নগর আওয়ামী লীগ তহবিল
(ঞ) জিলা বা নগর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল সদস্যদের প্রত্যেকের দ্বি-বার্ষিক ৫.০০ টাকা হারে চাঁদা
(ট) প্রত্যেক থানা বা পৌর এলাকার এবং নগর আওয়ামী লীগের অধীনস্থ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মঞ্জুরী ফী বাবদ ১৫.০০ টাকা।
(ঠ) আইনসভার স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের মাসিক ১৫.০০ টাকা হারে চাঁদা ।
(ড) এককালীন দান।
থানা আওয়ামী লীগ তহবিল
(ঢ) প্রত্যেক কাউন্সিলারের দ্বি-বার্ষিক ১.০০ টাকা হারে চাঁদা।
(ণ) প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামী লীগে মঞ্জুরী ফী বাবদ ২.০০ টাকা।
(ত) আইন সভার স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের ২০.০০ টাকা হারে চাঁদা।
(থ) এককালীন দান
ইউনিয়ন বা পৌর এবং মহানগরের অন্তর্গত ইউনিট আওয়ামী লীগ তহবিল
(দ) কর্মকর্তা ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের প্রত্যেকের দ্বি-বার্ষিক ১.০০ টাকা হারে চাঁদা ।
(ধ) এককালীন দান ।
আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টি তহবিল
(ন) ২৫(৩) উপধারা অনুযায়ী সংসদীয় পার্টির প্রত্যেক সদস্যের মাসিক ৫.০০ টাকা চাঁদা ।
(প) সদস্যের এককালীন দান ।
৪৬। আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভুক্ত হওয়ার জন্য দেয় বি-বার্ষিক ২.০০ টাকা চাঁদা নিম্নোক্ত হারে বিভিন্ন শাখার মধ্যে ভাগ করা হইবে
(ক) প্রাথমিক ইউনিট ১.০০ টাকা ।
(খ) থানা-৪০ পয়সা।
(গ) জেলা-৪০ পয়সা।
(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০ পয়সা।
(ঙ) মহানগরী বা নগরের অন্তর্গত কোন থানা আওয়ামী লীগ না থাকায় উপরোক্ত ২.০০ টাকা চাঁদার ১.০০ টাকা ইউনিট আওয়ামী লীগ, ৬০ পয়সা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ২০ পয়সা মহানগরী বা নগর আওয়ামী লীগ এবং অবশিষ্ট ২০ পয়সা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাইবে ।
আওয়ামী লীগ তহবিল পরিচালনা
৪৭। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় জেলা, ঢাকা মহানগরী বা নগর, থানা, ইউনিয়ন বা পৌর মহানগরী বা নগরের ইউনিট দিয়া সকল চাঁদা বা দান গ্রহণ করিবেন এবং আয়ব্যয়ের হিসাব রাখিবেন আদায়কৃত অর্থ বাংলাদেশের যে কোন তফসিলভুক্ত ব্যাঙ্কে জমা রাখা হইবে। ব্যাঙ্কে গচ্ছিত অর্থ নিজ নিজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ্যের যুক্ত স্বাক্ষরে উঠানো যাইবে। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের সময় সকল সাধারণ সম্পাদক তাহাদের নিজ নিজ শাখার আয়-ব্যয়ের হিসাব অগ্রে অডিট করাইয়া দাখিল ও প্রকাশ করিবেন।
বিবিধ বিধান
৪৮ । জেলা, মহানগরী, নগর, থানা, শহর, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বৎসরে অন্ততঃ দুইবার কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করিবে। ইহা ছাড়া এক তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত রিকুইজিশনপত্র সাধারণ সম্পাদকের নিকট পেশ করার ৩০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক অধিবেশন আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় ১৫(খ) ধারা অনুসারে রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে পারিবেন ।
৪৯। জেলা, মহানগরী, নগর, থানা, শহর, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অন্তত। মাসে একবার আহবান করিতে হইবে। ইহা ছাড়া ১০ জন সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত রিকুইজিশনপত্র প্রাপ্তির ১০ দিে মধ্যে সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ ৪৯ ধারায় ২৫ কর্মপন্থা অবলম্বন করিতে পারিবেন।
৫০ । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহবানের জন্য ২১ জন সদস্যের রিকুইজিশনপত্র প্রতি ১০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। সাধারণ স ছাড়াও রিকুইজিশনপত্রের এক কপি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নিকট প্রদান করিতে হইবে। রিকুইজিশনপত্র প্রাপ্তির দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতি সভা আহ্বান না করিলে রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ নিজেরাই ৭ দিনে নোটিশ প্রদান করিয়া সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।
৫১। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের পর হইতে পরবর্তী নির্বাচনকা সময়ের মধ্যে কোন সরকারী পদ গ্রহণ করতে পারিবে না।
এতন্ত্রির রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ডেপু হাইকমিশনার, ট্রেড কমিশনার, কনসাল, আইন সভার সভাপতি বা সহ-সভাপতি, মন্ত্রী, ষ্টেটমন্ত্রী, ডেপুটি মধু পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী, পলিটিক্যাল সেক্রেটারী, সরকারী দলের চীফ হুইপ, এডভোকেট জেনারেল বা উ পদসমূহের অনুরূপ কোন সরকারী চাকুরী বা পদ গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্য গঠনতন্ত্রের ৫, ২৯, ৩৪ ও ৩ ধারায় বর্ণিত কোন কর্মকর্তা থাকিতে পারিবেন না।
আওয়ামী লীগের কোন কর্মকর্তা যদি উপরোক্ত পদসমূহের কেন একটি গ্রহণ করেন তবে উক্ত পদপ্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগ কর্মকর্তার পদ ত্যাগ করিয়া সংশ্লি কর্তৃপক্ষের নিকট তাহার দায়িত্বভার বুঝাইয়া দিবেন। অন্যথায় এক মাস পরে উক্ত কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠানের আপনাআপনি শূন্য বলিয়া গণ্য হইবে ।
৫২। আওয়ামী লীগের কোন সদস্য অন্য কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হইতে পারিবেন না কিংবা অন্য কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সহিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনরূপ রাজনৈতির সম্পর্ক রাখিতে পারিবেন না। যদি কোন সদস্য উপরি উক্ত বিধান লংঘন করেন তা হইলে তার সদস্য পদ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে ।
৫৩। অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কোন ভূতপূর্ব বা বর্তমান সদস্য আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভূক্ত হইতে চাহিলে তিনি তাঁহার নিজের জেলার জেলা আওয়ামী লীগের অনুমতি চাহিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট পত্র দিবেন।
সংশ্লিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমতি ছাড়া উপরোক্তরূপ কোন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভুক্ত করা যাইবে না। তবে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত উপরোক্ত ব্যক্তির মনঃপুত না হইলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট উ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করিতে পারিবেন এবং এই ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ ইচ্ছা করিলে সরাসরিভাবেও যে কোন ব্যক্তিকে প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভুক্ত হইবার অনুমতি নিতে পারিবে। কিন্তু প্রত্যেক অবস্থায়ই নবাগত সদস্যগণ দুই বৎসরের মধ্যে আওয়ামী লীগের কোন কর্মকর্তার পদ গ্রহণ করিতে পারিবেন না।
৫৪। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কোন কর্মকর্তা বা কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ পরিষদ দলের যে কোন সদস্য আওয়ামী লীগের নিম্নতম যে কোন শাখার যে কোন সভা বা অধিবেশনে যোগদান করিয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না।
(খ) প্রত্যেক জেলা, মহানগরী, নগর, থানা, পৌর বা শহর আওয়ামী লীগের যে কোন কর্মকর্তা অথবা কার্যনির্ব সংসদ সদস্য নিম্নতম যে কোন শাখার যে কোন সভা বা অধিবেশনে যোগদান করিয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না।
৫৫ । অত্র গঠনতন্ত্রে যেসব বিষয়ের উল্লেখ নাই সেসব বিষয়ে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ বা জাতীয় কমিটির থাকিবে ।
৫৬। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নির্বাচন, বার্ষিক বা বিশেষ অধিবেশনে অনুমতি সাপেক্ষে উপস্থিত তাহার অংশ বিশেষ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের জোটাধিক্যে অত্র গঠনতন্ত্রের বিধানসমূহ যা যে কোন বিধান বা পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করা চলিবে ।
(খ) গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করিবার উদ্দেশ্যেই যদি কাউন্সিল সভা আহবান করা হয় তবে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাধিক্যের ভোটে উহা করা চলিবে।
(গ) কাউন্সিলের নির্বাচনী সাধারণ বা বিশেষ অধিবেশনকে উপরোক্ত (খ) উপধারায় উল্লেখিত কাউন্সিল হিসাবে গণ্য করিতে হইলে কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বানের নোটিশে উক্ত বিষয় কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।
৫৭। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি- একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন সদস্য সমন্বয়ে একটি নির্বাচন কমিশন সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে । (টায়ারে) কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত হইবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যময় নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারিবেন না । নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি লইয়া কমিশন সর্বদা কাজ করিবে ।
৫৮ । আওয়ামী লীগের কোন সদস্য একযোগে ইউনিয়ন, থানা, জেলা বা কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মকর্তার পদ গ্রহণ করিতে পারিবেন না । যে কোন একটি স্তরেই কেবলমাত্র কর্মকর্তা থাকা যাবেই। “৫৯ । অত্র সহ সংশোধিত ধারাগুলিই সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে । অর সহ সংশোধিত ধারাগুলির সহিত অসামঞ্জস্য বা পরিপন্থী বাতিল ও ফলহীন গণ্য হইবে।”
