আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসন। পাল বংশের মাধ্যমে বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসনের সূত্রপাত হয়। পাল বংশের প্রথম শাসক গোপাল বাংলার উত্তর এবং পূর্ব অংশের প্রায় সমগ্র অঞ্চলই রাজ্যভুক্ত করেন এবং তাঁর সময়কাল (৭৫০ – ৭৮১) হতেই বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসনের সূত্রপাত হয়। উল্লেখ্য যে, পাল বংশের শাসনকাল ছিল ৮৫০ – ১১৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বছর শাসন করে। মৌর্য বংশ ও সেন বংশের শাসনকাল হলো যথাক্রমে খ্রিস্টপূর্ব ৩২৪ থেকে ১৮৫ খ্রিস্টপূর্ব এবং ১০৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ।
বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসন

অষ্টম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালে বাংলার বংশানুক্রমিক শাসন এই ইউনিটের বিষয়। শশাঙ্ক পরবর্তী শতকে বাংলার ‘মাৎস্যন্যায়ম্’ যার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন। প্রথম তিনটি পাঠে আলোচিত হয়েছে দীর্ঘ চার শতাব্দীকাল ধরে বিরাজমান পাল বংশের শাসনের তিনটি পর্যায়।
ধর্মপাল ও দেবপালের উদীয়মান প্রতিপত্তি, প্রথম মহীপালের পূর্বে পাল সাম্রাজ্যের অবনতি ও মহীপাল কর্তৃক পুনরুদ্ধার, দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে সংঘটিত সামন্তবিদ্রোহের ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে পালদের ক্ষমতার অবসান এবং রামপাল কর্তৃক বরেন্দ্র পুনরুদ্ধার আলোচনা করে পাল শাসনের মুখ্য বিষয়সমূহ তুলে ধরা হয়েছে। পাল যুগের সামগ্রিক মূল্যায়ন ও কৃতিত্বসমূহ বিশ্লেষণ করে পাল যুগের গৌরব আলোচনা করা হয়েছে চতুর্থ পাঠে।
পালদের প্রায় সমসাময়িককালে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় (বঙ্গে ও সমতটে) পৃথক রাজনৈতিক সত্তার বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। এই অঞ্চলের প্রধান দুটি রাজবংশের (দেব ও চন্দ্র) শাসন স্থান পেয়েছে পঞ্চম পাঠে। অষ্টম শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা যে একের পর এক বৈদেশিক আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছিল তার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক শক্তিগুলো হলো- উত্তর ভারতীয় শৈল বংশ, কান্যকুব্জের রাজা যশোবর্ম, কাশ্মিররাজ ললিতাদিত্য, ভগদত্ত বংশীয় কামরূপরাজ শ্রীহর্ষ প্রমুখ। এসব বিদেশী শত্রুর উপর্যুপরি আক্রমণে বাংলার রাজনৈতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর ফলে তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হয়। মহাস্থানগড়ের বৈরাগী ভিটায় খননে পাল ও গুপ্তযুগের অন্তবর্তী স্তরে স্তুপাকার ধ্বংসাবশেষ এই অস্থির অবস্থারই সাক্ষ্য বহন করে।
