আজকে আমদের আলোচনার বিষয় ১৯৪৭ সালের যুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠা প্রস্তাব
১৯৪৭ সালের যুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠা প্রস্তাব

১৯৪৭ সালের যুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠা প্রস্তাব
ভারতীয় উপমহাদেশের বিভক্তিকরণ যখন প্রায় চূড়ান্ত, এমনি এক ঐতিহাসিক সময়ে বাংলার চিফ মিনিস্টার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে “স্বাধীন, সার্বভৌম, অখন্ড বাংলা” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
এর ভিত্তিতে মে মাসে বাংলা কংগ্রেসের সভাপতি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শরৎচন্দ্র বসুর সঙ্গে ঐকমত্যে উপনীত হয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তা ‘বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব’ নামে পরিচিত।
এই উদ্যোগের সাথে আরো সংশ্লিষ্ট ছিলেন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সেক্রেটারী আবুল হাশিম, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সংসদীয় নেতা কিরণ শংকর রায় প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। যদিও এ উদার, অসাম্প্রদায়িক প্রস্তাব তৎকালীন কংগ্রেস, মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও ব্রিটিশ সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এ প্রচেষ্টা সফল হলে ১৯৪৭ সালেই ভারত-পাকিস্তানের পাশাপাশি অখন্ড বাংলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতো। ভিন্নভাবে লেখা হতো বাঙ্গালির ইতিহাস ।
যুক্ত বাংলা প্রস্তাবের কারণ
স্বাধীন অখন্ড বাংলা রাষ্ট্রের ধারণা গড়ে ওঠার পিছনে কি কারণ ছিল এ সম্পর্কে পন্ডিত ও গবেষকরা বিভিন্ন মতামত দিয়ে থাকেন-
বাংলা বিভক্তি প্রতিরোধ:
অধিকাংশ পন্ডিত মনে করেন যে, এটি ছিল বাংলা বিভক্তি রোধের উদ্দেশে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর একটি বিকল্প প্রস্তাব । কংগ্রেস, মহাসভা সহ অবাঙালি হিন্দু নেতাদের বড় অংশই বাংলা বিভক্তির পক্ষে ছিলেন। এই হিন্দু নেতারাই হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বঙ্গভঙ্গ রদ করিয়েছিলেন।
তারাই আবার ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভাগ দাবি করেন। যে মুসলমান নেতারা ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হওয়ায় খুশি হয়েছিলেন তাঁরাই ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভাগের বিরুদ্ধে ছিলেন। মূলত ১৯৪৬ সালে দাঙ্গার ফলে অন্তবর্তী সরকারে কংগ্রেস ও লীগ সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের দরুণ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, তখন কংগ্রেস নেতা নেহেরু ও প্যাটেল ভারত ও বাংলা এবং পাঞ্জাব বিভক্তির দাবি উত্থাপন করেন।
অথচ বাংলার মুসলমান নেতারা বাংলার অখন্ডতার পক্ষপাতী ছিলেন। এসময় বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের প্রথম থেকে কংগ্রেস ও মহাসভার বাংলা বিভক্তির প্রচেষ্টা চাঙ্গা হলে বাংলার মুসলিম লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম এই প্রদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রস্তুাব করেন। এদের প্রস্তাব ছিল, ‘বাংলাদেশ” পাকিস্তান বা হিন্দুস্তান কোন রাষ্ট্রেই যোগ দেবে না।
এটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে। প্রথমে বাংলার অধিকাংশ মুসলমান নেতাই এ প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন। সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘বাংলাদেশ বাঙালিদের এবং এটি অবিভাজ্য।’
হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রয়াস:
বাঙালি হিন্দুরা ভারতীয় জাতীয়তা ও অখন্ড ভারতের আদর্শে বিশ্বাসী থাকলেও তারা বাংলার জাতীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুন্ন রাখতে চেয়েছিল। বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের ইস্যুতে হিন্দু- মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরলেও বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্বার্থে আবার তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ফিরে আসে। বাংলার হিন্দু-মুসলমান নেতারা সম্মিলিতভাবে বাঙালির জাতীয়তা মজবুত করার চেষ্টা চালান।
১৯২৩ সালে স্বরাজ পার্টির নেতা সি. আর. দাস বাঙালি মুসলমান নেতা এ.কে. ফজলুল হক ও সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের প্রশ্নে বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষর করেন। এসময় থেকে বাঙালি ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি, বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় সত্তার প্রয়াস লক্ষ করা যায়। যদিও ১৯৩৭ সালে বাংলা প্রাদেশিক সরকারকে কেন্দ্র করে দু’সম্প্রদায়ের মতানৈক্য আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
কিন্তু ১৯৪০-এর দশকে এই সম্পর্কের সংকট সমাধান হতে থাকে। মূলত শক্তিশালী কেন্দ্ৰীয় শাসনের আওতায় বাংলার স্বাতন্ত্র্য ও স্বায়ত্তশাসন ইস্যুতে মতদ্বৈততা কমতে থাকে। ১৯৪০ সালে লাহোর প্রভাবের পর মুসলমানরা ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভাগ এবং হিন্দুরা পাঞ্জাব ও বাংলা বিভাগের দাবি উত্থাপন করে। অবশ্য মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্বার্থপরতার কারণে বাংলার মুসলমানরা বাংলাকে স্বাধীন ও সার্বভৌম করার বিষয় চিন্তা করেন।
বাঙালি হিন্দু নেতাদের কেউ কেউ এ বিষয় সহমত পোষণ করেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাংলা বিভাগের প্রচেষ্টার বিপরীতে তারা যুক্ত বাংলা দাবিতে কিছু উদ্যোগ নেন। কংগ্রেসের বাঙালি নেতৃবৃন্দের মধ্যে শরৎ বসু, কিরণ শংকর রায় এবং মুসলিম লীগের নেতাদের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম ছিলেন এই সম্প্রীতির উদ্যোক্তা।
ঐতিহাসিক কারণ:
ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাংলার একটি স্বতন্ত্র সত্তা সুদীর্ঘকাল থেকে লক্ষণীয়। অষ্টম শতকে পাল বংশের প্রতিষ্ঠা থেকে প্রায় ৫০০ বছর ধরে বাংলা ছিল নিয়ন্ত্রণমুক্ত এক স্বাধীন ভূখন্ড। বাংলার স্বাধীন সুলতান ও শাসকদের আমলে বাঙালি জাতীয়তার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হিন্দু- মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক ভৌগোলিক ঐক্য এবং ভাষা ও কৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের জাতীয় জীবনের স্বাতন্ত্র্য অবস্থান গড়ে ওঠে।
মুঘল ও ব্রিটিশদের সময় বাঙালি জাতীয়তার অগ্রগতি নানা কারণে ব্যাহত হয় এবং হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ক্রমশ দুরত্ব বেড়ে যায়। যদিও ব্রিটিশ আমলে বিভিন্ন সময় আবার ঐক্যের প্রয়াস নেয়া হয়। ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের প্রাক্কালে বাংলাকে বাইরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গৃহীত হয়।
বাঙালি মুসলমান বনাম অবাঙালি মুসলমান দ্বন্দ্ব:
১৯৪০ সালের পর অবাঙালি মুসলিম লীগ নেতৃত্ব ও বাঙালি মুসলমান নেতৃত্বের মধ্যে ভিন্ন জাতিসত্তার দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষণীয়। ফজলুল হকের সঙ্গে কেন্দ্ৰীয় নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণ ছিল অবাঙালি নেতাদের বাংলার মুসলমানদের সমস্যার প্রতি অবহেলা।
বহু বিষয় ও ঘটনা ফজলুল হক, আবুল হাশিম ও সোহরাওয়ার্দী মতো নেতাদের মনে এ ধারণার জন্ম দিয়েছে জিন্নাহর প্রস্তাবিত পাকিস্তান বাংলার জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। ফজলুল হক প্রথম থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব ও লাহোর প্রস্তাবকে পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করার বিপক্ষে ছিলেন। যদিও পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, কিন্তু বাংলার ব্যাপারে তাঁদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।
যুক্ত বাংলা প্রস্তাবের প্রাক্কালে ভারত ও বাংলার রাজনীতি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালের দ্রুত পরিবর্তনশীল অবস্থার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে সক্ষম হয় যে, দু’দিন পূর্বে অথবা পরে ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দিতে হবেই। তাছাড়া ভারতবর্ষে তখন স্বাধীন লাভের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠায় আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলির বিখ্যাত ফেব্রুয়ারি ঘোষণার (১৯৪৭) পর এটি একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়।
তিনি তাঁর ঘোষণায় সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ব্রিটেন ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ভারতবর্ষ থেকে শাসনব্যবস্থা গুটিয়ে নিতে চায়। এ সময়ের মধ্যে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমঝোতা না হলে প্রাদেশিক সরকারে হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হতে পারে এমন আভাস ছিল। বলা যায়, এর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টির ইঙ্গিত প্রচ্ছন্নভাবেই ফুটে ওঠে।
সুযোগ পেয়ে কাল বিলম্ব না করে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর নেতৃত্বে কট্টরপন্থী ‘হিন্দু মহাসভা কলকাতাকে কেন্দ্র করে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু প্রধান অঞ্চলসমুহ নিয়ে পশ্চিম বাংলা প্রদেশ গঠনের দাবী তোলে এবং তা ভারত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করণের আন্দোলন শুরু করে।
এটলির ফেব্রুয়ারি ঘোষণার তিন সপ্তাহের মধ্যে অখন্ড ভারত ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এতদিনকার প্রবক্তা কংগ্রেস পার্টির ওয়ার্কিং কমিটি সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে পাঞ্জাব ও বাংলাকে বিভক্তকরণের সুপারিশ সম্বলিত প্রস্তাব গ্রহণ করে। বাংলা বিভক্তি আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতাস্থ বাঙালি অবাঙালি শিল্প ও বণিক সমিতিসমূহ স্বত:স্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে।
পাশাপাশি প্রভাবশালী হিন্দুত্ববাদী পত্র-পত্রিকাসমূহ যেমন- অমৃতবাজার পত্রিকা, আনন্দবাজার পত্রিকা, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড ইত্যাদি বাংলা বিভক্তি প্রশ্নে ব্যাপকভাবে হিন্দু জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ওপরে উল্লেখিত সবগুলো উৎস ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে তা এক ভিন্ন মাত্রায় উত্থিত হয়।
রাজনীতির এমন পরিস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দীর সাথে আবুল হাশিম, ‘স্বাধীন অখন্ড বাংলা রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসেন। সোহরাওয়ার্দী আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব দেয়ার আগে বিভিন্ন বক্তৃতায় বাংলা বিভক্তির পশ্চাতে সক্রিয় হিন্দু মন-মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গী, এ দাবির অসারতা, বাংলা বিভক্তির পরিণতি, বাংলার ঐক্যবদ্ধ অপরিহার্যতা, স্বাধীন অখন্ড রাষ্ট্রে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক ও এর ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন।
১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিলের এক বক্তৃতা অধিকাংশ দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি এতে বলেন যে, “বাংলা দ্বিধাবিভক্ত করার জন্য মহলবিশেষ থেকে আন্দোনের সূত্রপাত হয়েছে। এর একমাত্র কারণ যে, হিন্দুদের একটি শ্রেণী মনে করে বঙ্গীয় মন্ত্রিসভায় তাদের যথোপযুক্ত অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
” বাংলা বিভাগের দাবিটি তাদের একাংশের তীব্র হতাশা থেকে উদ্ভূত বলে উল্লেখ করে সোহরাওয়ার্দী বলেন, “এমন কি হিন্দু স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বঙ্গ বিভাগ আত্মহত্যার সামিল। স্বাধীন বাংলা হবে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ধর্নাঢ্য ও সমৃদ্ধশালী দেশ – সেখানে জনগণ উন্নত জীবন যাত্রার মাঝে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে এবং একটি মহান জাতি হিসেবে উন্নতির সোপানে উপনীত হতে সক্ষম হবে।
সত্যিকার অর্থে প্রাচুর্য ভরা একটি দেশ হবে এই বাংলা এবং বাংলা স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে যাবার পর বাঙালি জাতিই হবে বাংলার ভবিষ্যতের নিয়ন্তা।” সোহরাওয়ার্দী আরো বলেন, “অখন্ড বাংলা কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যে হবে সমৃদ্ধশালী এবং কালের আবর্তে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী ও প্রগতিশীল রাষ্ট্ররূপে স্বীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হবে সেই দেশ। বাংলা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে তা স্বপ্ন বা কল্পনা হবে না ।”
সোহরাওয়ার্দী এক পর্যায়ে বলেন, “আমি বরাবরই বাংলার ভবিষ্যৎ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করে আসছি, কোনরূপ ভারতীয় রাষ্ট্রসংঘের অংশ হিসেবে নয়। অনুরূপ কোন রাষ্ট্র একবার সংস্থাপিত হলে, তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার ওপর। … বাংলা যদি মহান হতে চায় তবে সে শুধু তার নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই তা হতে পারবে। তাকেই নিজের সম্পদের অধিকারী ও নিজের ভাগ্যের নিয়ন্তা হতে হবে।
বাংলার ওপর অন্যের শোষণের উচ্ছেদ করতে হবে। ভারতের স্বার্থের যূপকাষ্ঠে বাংলাকে বলি দেয়া যাবে না। কাজেই হিন্দু সমাজের যে মুষ্টিমেয় সংখ্যক লোক হয়তো হালকাভাবে বাংলাকে ভাগ করার কথা বলেন তাদের কাছে আমার আবেদন, অশেষ ক্ষতি ও দুর্ভোগের ধাত্রী এই আন্দোলন প্রত্যাহার করুন। আমরা সকলে একাত্ম হয়ে উদ্যোগী হলে নিশ্চয়ই এমন একটি ভবিষ্যৎ শাসন প্রকল্প উদ্ভাবন করতে পারব।”
সোহরাওয়ার্দীর যোগ্য সহযোগী আবুল হাশিম পর ২৯ এপ্রিল এক বিবৃতিতে এ পরিকল্পনার স্বপক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরে বাংলা বিভক্তির আন্দোলনে মদদ দানের জন্য বিদেশী পুঁজি এবং ভারতীয় দোসরদের দায়ী করেন। তিনি হিন্দুদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, তারা বাংলার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোন এক সম্প্রদায়ের পক্ষে অপরকে পদানত করে রাখা সম্ভব নয়।
তিনি মন্তব্য করেন যে, “উদ্ভূত সংকট নিরসনের পন্থা হচ্ছে গভীর দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধীন করা, একে বিভক্ত করা নয়।”
বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তির ধারা
শরৎচন্দ্র বসুর কলকাতাস্থ ১নং উডবার্ন পার্কের বাসভবনে ১৯৪৭ সালের ২০ মে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস নেতাদের এক সম্মেলন আহ্বান করা হয়। সেখানে মুসলিম লীগের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, আবুল হাশিম এবং এ. এম. মালিক, অন্যদিকে হিন্দু নেতাদের মধ্যে শরৎ বসু, কিরণ শংকর রায় ও সত্যরঞ্জন বখশী উপস্থিত ছিলেন।
তবে লীগের নাজিমুদ্দিন গ্রুপের সদস্যরা, যেমন নুরুল আমিন, ইউসুফ আলী চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন না। সভায় আলোচনান্তে স্বাধীন বৃহত্তর বাংলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মুসলিম লীগের পক্ষে আবুল হাশিম এবং কংগ্রেসের পক্ষে শরৎ বসু প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির মূল বিষয় ছিল নিরূপ:
১. বাংলা হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে এ রাষ্ট্রের সম্পর্ক কি হবে, তা সে নিজেই নির্ধারণ করবে।
২. হিন্দু ও মুসলমানের সংখ্যা অনুপাতে আসন সংখ্যা বন্টন করে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে আইনসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকবে। হিন্দু ও তফসিলী হিন্দুদের মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে অথবা উভয়ের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আসন বন্টন করা হবে।
নির্বাচন হবে একটি এলাকা থেকে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনমূলক (Multiple) এবং ভোট হবে বন্টনধর্মী (Distributive) সর্বোচ্চ আসন সংখ্যাভিত্তিক (Cumulative) নয়। কোন প্রার্থী যদি নির্বাচিত তার নিজ সম্প্রদায়ের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট লাভ করেন এবং অন্য সম্প্রদায়ের প্রদত্ত ভোটের ২৫% পান, তা হলে তিনি নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন।
যদি কোন প্রার্থী এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন, তা হলে যিনি নিজ সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ ভোট লাভ করবেন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
৩. স্বাধীন বাংলার এরূপ পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকার মেনে নিলে কিংবা ঘোষণা দিলে বাংলা বিভক্ত হবে না, এরূপ ঘোষণা দিলে বাংলার বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেয়া হবে এবং চিফ মিনিস্টার পদ বাদে সমসংখ্যক মুসলমান ও হিন্দু (তফশিলী হিন্দুসহ) সদস্য নিয়ে একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। এ মন্ত্রিসভায় চিফ মিনিস্টার হবেন একজন মুসলমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন একজন হিন্দু।
৪. নতুন সংবিধান অনুযায়ী আইনসভা ও মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়া পর্যন্ত হিন্দু (তফসিলী সম্প্রদায়সহ) এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সামরিক বাহিনী ও পুলিশসহ সকল চাকরিতে সমান অংশ থাকবে। এসব চাকরিতে কেবল বাঙালিদেরই নিয়োগ করা হবে।
৫. ইউরোপীয় সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে বঙ্গীয় আইনসভায় ৩০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে মুসলমান ও অমুসলমান সদস্য সংখ্যা হবে যথাক্রমে ১৬ জন মুসলমান এবং ১৪ জন হিন্দু। উপর্যুক্ত প্রস্তাবগুলো শরৎ বসু নিজেই মুসাবিদা করেন, নাকি সোহরাওয়ার্দীও সাথে ছিলেন- সে কুয়াশা গবেষকরা এখানো ভেদ করতে পারেন নি। পরে প্রায় সবগুলো পত্র-পত্রিকায়ই এই প্রস্তাবগুলো প্রকাশিত হয়।
বঙ্গীয় মুসলিম লীগের অনেকেই সন্দেহ করেন যে, প্রস্তাবগুলো রচনার পূর্বে শরৎ বসুর সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব গুলো প্রকাশিত হবার পর দৈনিক আজাদ মন্তব্য করেছিল যে, শরৎ বসু যেহেতু অখন্ড বাংলা চান না সেহেতু আন্দোলন থেকে সরে যাবার জন্যই প্রস্তাবগুলো করেছেন- যাতে করে মুসলিম লীগ ওগুলো না মানে।
শোনা যায় শরৎ বসু বৈঠকে প্রস্তাবগুলো সামনে এনে বলেছিলেন, এভাবেই লীগ যদি এগুলো মেনে নেয় তবেই তিনি অখন্ড বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন ।
যুক্ত বাংলা প্রস্তাবের ব্যর্থতার কারণ
সাংগঠনিক কারণ:
প্রস্তাবের সংগঠকগণ কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবর্গকে একই সমান্তরালে এনে প্রস্তাব গ্রহণে বাধ্য করাতে না পারায় স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।
প্রশাসনিক কারণ:
১৯৩৭-১৯৪৭ এ এক দশক যাবত বাংলার প্রশাসনে মুসলমানদের প্রতিপত্তি ছিল বলে কংগ্রেস ও হিন্দু সম্প্রদায় প্রশাসন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনের সুযোগ না পেয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের সম্পৃক্তহীনতা জন্ম নেয়। ফলে হিন্দু ও মুসলামানদের মধ্যকার ঐক্যের বন্ধন শিথিল হয়ে পড়ে।
একই সময়ের মধ্যে বাংলার চিফ মিনিস্টার ফজলুল হক ও সোহরাওয়ার্দী উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিয়ে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্দেশে বহুবার প্রয়াস চালান। কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ হাই কমান্ডের বিরোধিতার কারণে সে উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
জনসংখ্যার বিভাজন:
জনসংখ্যার বিভাজন স্বাধীন বাংলা আন্দোলনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিম বাংলায় হিন্দু ও পূর্ববাংলায় মুসলিম জনবসতি বেশি থাকায় হিন্দুদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধের সৃষ্টি হয়। পশ্চিম বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বঙ্গভঙ্গের ফলে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। কারণ কলকাতা ও খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকা তাদের দখলে থাকবে।
তারা বুঝেছিল যে, এর ফলে মুসলমানদের সঙ্গে ভাগাভাগি না করে তারা নিজেরা একক শাসন ক্ষমতা লাভ করবে। এটি তাদের বাংলা বিভক্তির আন্দোলনকে জোরদার করে।
প্রাধান্যের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা:
১৯৩৭-১৯৪৭ সালে মন্ত্রিসভায় মুসলিম প্রাধান্যের কারণে কংগ্রেস ও হিন্দু নেতৃবৃন্দ প্রশাসন থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের বন্ধন শিথিল হয়ে পড়ে। ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট তারিখে সংঘটিত ভয়াবহ ‘কলকাতা দাঙ্গা’ এবং এর অব্যবহিত পরে নোয়াখালীর দাঙ্গার পর বাংলার হিন্দু সম্প্রদায় শংকিত হয়ে পড়ে এবং হিন্দু-মুসলমানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাট ফাটল ধরে।
তাছাড়া এই সুযোগে হিন্দু মালিকানাধীন পত্রিকাগুলো সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানোর সুযোগ লাভ করে বিভিন্ন গুজব ছড়ায়।
বিলম্বিত প্রয়াস:
যুক্ত বাংলা প্রয়াসের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল বিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণ করা। বাংলার গভর্নর বারোজ সহ অখন্ড স্বাধীন বাংলা উদ্যোগের প্রবক্তারা সে কথা বহুবার উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে প্রাবটি কমপক্ষে আরো এক বছর পূর্বে উত্থাপিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা খুব বিলম্বে এসেছে।
ফলে ১৯৪৮ সালের জুন মাসে দেশ বিভাগের পরিকল্পনা থাকলেও ১৯৪৭ সালের ২ জুনের মধ্যে ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন এ ব্যাপারে (অখন্ড বাংলা) সোহরাওয়ার্দীকে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সম্মতি সংগ্রহ করতে বলেন। সোহরাওয়ার্দী স্বাধীন বাংলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল।
বিলম্বে পরিকল্পনাটি প্রকাশ করায় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি। ফলে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ডোমিনিয়ন মর্যাদায় বাংলার তৃতীয় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারের সম্মতি থাকা সত্ত্বেও সর্বভারতীয় স্বার্থে সেই পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়েছে।
যুক্ত বাংলার উদ্যোগটি যখন নেয়া হয় তখন রাজনৈতিক বিভেদ, সন্দেহ চরম আকার ধারণ করেছিল, জনগণও ছিল সাম্প্রদায়িক আবেগে বিভক্ত। ফলে অখন্ড স্বাধীন বাংলার মহৎ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
কংগ্রেসের অসহযোগিতা:
সোহরাওয়ার্দীর বিপক্ষে বাংলার হিন্দুদের বড় একটা অংশকে সংগঠিত করলেও অখন্ড বাংলা আন্দোলনের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সেটা খুব বড় কারণ ছিল না। আন্দোলনের ভাগ্য মুখ্যত কেন্দ্ৰীয় পর্যায়ে নির্ধারিত হয় এবং এ প্রয়াস ব্যর্থ হওয়ার মূলে ছিল কংগ্রেস হাইকমান্ডের ভেটো প্রদান।
যেখানে একটা পর্যায় পর্যন্ত যুক্ত বাংলার ক্ষেত্রে মুসলিমলীগের মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সম্মতি ছিল, সেখানে কংগ্রেসের নেতৃস্থানীয় অংশ বিশেষ করে জওহরলাল নেহেরু ও সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল আগাগোড়া এর ঘোর বিরোধিতা করতে থাকেন।
তাঁদের মত পরিবর্তন করাতে কিরণ শংকর রায় এমনকি মহাত্মা গান্ধী পর্যন্ত সমর্থ ছিলেন না। ফলে কংগ্রেসের অনড় অবস্থান ভারত বিভাগ ত্বরান্বিত করে এবং অখন্ড বাংলা গঠনের স্বপ্ন ব্যর্থ করে দেয় ।
সারসংক্ষেপ
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে ঐ বছরের প্রথম দিক থেকেই বাংলার দু’অংশ পূর্ববাংলা ও পশ্চিম বাংলাকে অখন্ড ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যোগ নেন। কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষস্থানীয় অবাঙালি নেতৃবৃন্দের বিরোধিতার কারণে তা ব্যর্থ হয়। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ভারত বিভাগের সঙ্গে বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাগের পরিকল্পনা করে।
কংগ্রেস ও পরে মুসলিম লীগ তা মেনে নিলে বাংলা বিভাগ অনিবার্য হয়ে ওঠে। অবশ্য এরপরও সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার ব্যাপারে এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখেন। ৩০ জুন মাউন্টব্যাটেন কলকাতা এলে তিনি তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। যদিও ভাইসরয় এ পকিল্পনাকে নাকচ করে দেন।
১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলার চিফ মিনিস্টার হিসেবে সোহরাওয়ার্দীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও পরের দিনই অর্থাৎ ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পূর্ববাংলা পাকিস্তানের অংশে এবং পশ্চিমবাংলা ভারতের অংশে যায়। যুক্ত বাংলা গঠনের সকল উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার এখানেই যবনিকাপাত ঘটে ।
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
১। এম.এ. রহিম, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস (১৭৫৭-১৯৪৭), ঢাকা, আহমদ পাবলিশিং হাউস, ২০০২।
২। সিরাজউদ্দিন আহমদ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ঢাকা, ভাস্কর প্রকাশনী, ১৯৯৬।
৩। আবু আল সাঈদ, সাতচলি-শের অখন্ড বাংলা আন্দোলন, পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, ঢাকা, আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৯।
৪। ড. মো. মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭-১৯৭১), ঢাকা, সময় প্রকাশনী, ১৯৯৯।
৫। হারুন-অর-রশীদ, “অখন্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ”, সিরাজুল ইসলাম সম্পাদিত, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭০৪-১৯৭১), ১ম খন্ড, ঢাকা, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ১৯৯৩।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নঃ
১। সংক্ষেপে ১৯৪৭ সালের বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তির বর্ণনা দিন ।
২। বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি সম্পর্কে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া আলোচনা করুন ।
রচনামূলক প্রশ্নঃ
১। ১৯৪৭ সালে যুক্তবাংলা প্রস্তাবের কারণ বর্ণনা করুন। বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি ব্যাখ্যা করুন ।
২। বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া ও ব্যর্থতার কারণ আলোচনা করুন ।
