বৈরাম খাঁর পতন – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “আকবর” বিষয়ের “নাবালক বাদশাহ” বিভাগের একটি পাঠ। বৈরাম খাঁর সম্পর্ক ছিল তুরানের (মধ্য-এশিয়া) তুর্কমান জাতির সঙ্গে—হয়দরাবাদের নিজামও তুর্কমান। ঐতিহাসিক কাসিম ফিরিশ্তার মতানুসারে ইরানের কারাকুইলু তুর্কমানদের একটি শাখা বাহারলুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তৈমূরের প্রসিদ্ধ সর্দারদের মধ্যে আলীশাকর বেগ তুর্কমান ছিলেন অন্যতম, তাঁকে হমদান, দীনওয়ার, খুজিস্তান ইত্যাদি স্থানে শাসক নিযুক্ত করা হয়েছিল। আলীশাকরের সন্তানদের মধ্যে এক পুত্র ছিলেন শের আলী বেগ । তৈমূরী বাদশাহ হুসেন বায়করার পর যখন তুরানে তাঁদের সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, তখন শের আলী কাবুলের দিকে ভাগ্যপরীক্ষা করতে আসেন ।
বৈরাম খাঁর পতন
একবার পরাজিত হলেও তিনি সাহস ত্যাগ করেননি, শেষে যুদ্ধেক্ষেত্রেই তার মৃত্যু হয়। তাঁর পুত্র ইয়ার আলী ও পৌত্র সয়ফ আলী আফগানিস্তানে চলে আসেন। বাবর ইয়ার আলীকে গজনীর হাকিম নিযুক্ত করেন। কিছুদিন পরেই তার মৃত্যু হলে তাঁর পুত্র সয়ফ আলীকে ওই পদ দেওয়া হয়। তিনিও খুব শীঘ্রই প্রাণত্যাগ করেন।
অল্পবয়স্ক বৈরাম তাঁদের পরিবারের সঙ্গে চলে যান। সেখানেই কিছুদিন লেখাপড়া করতে থাকেন। তারপর সমবয়স্ক শাহজাদা হুমায়ূনের পরিচারক নিযুক্ত হন। সাহিত্য-সঙ্গীতে বৈরামের অত্যন্ত অনুরাগ ছিল। শীঘ্রই তিনি মনিবের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। তেরো বছর বয়সেই এক যুদ্ধে তিনি খুব বীরত্বের পরিচয় দেন। তার সেই সুখ্যাতি বাবরের কানে পৌঁছলে তিনি শাহজাদার সঙ্গে বৈরামকে দরবারে হাজির করতে বলেন । বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ূন বাদশাহ হলে তিনি তাঁর ছায়া হয়ে থাকতে শুরু করেন। হুমায়ূন চম্পানের (গুজরাত) দুর্গ অবরোধ করেন।
কিন্তু আত্মসমর্পণের কোনো সম্ভাবনা না দেখে চল্লিশজন মোগল বীর মই বেয়ে দুর্গে প্রবেশ করে, তাদের মধ্যে বৈরামও ছিলেন। দুর্গ অধিকৃত হয়। চৌসায় শেরশাহের সঙ্গে যুদ্ধে বৈরাম খাঁ সঙ্গে ছিলেন। কনৌজেও যুদ্ধ করেছিলেন তিনি। কনৌজে পরাজয়ের পর মোগল সেনা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। যে যেদিকে পারে, পালায়। বৈরাম খাঁ তাঁর পুরনো বন্ধু সম্ভলের মিয়া আব্দুল ওয়াহাবের নিকটে পৌঁছান। তারপর লখনউয়ের রাজা মিত্রসেনের সঙ্গে জঙ্গলে দিন কাটাতে থাকেন।
শেরশাহের। হাকিম নাসির খাঁ তাঁর সন্ধান পান। তাঁকে ধরে নিয়ে যেতে আদেশ করেন শেরশাহ। নাসির খাঁ চেয়েছিলেন, বৈরামকে কতল করে দেবেন, কিন্তু বন্ধুদের চেষ্টায় কোনোরকমে রক্ষা পান। অবশেষে তাঁকে শেরশাহের সম্মুখে হাজির হতে হয়, শেরশাহ এক মামুলী মোগল সর্দারকে গুরুত্ব না দিয়ে মাফ করে দেন। তারপর বৈরাম খাঁ গুজরাতের সুলতান মাহমুদের কাছে যান, কিন্তু তিনি তাঁকে তাঁর মনিবের সঙ্গে দেখা করার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকেন।
৯৫০ হিজরীতে (১৫৪৩-৪৪ খ্রিস্টাব্দে) যখন হুমায়ূন ইরান থেকে প্রত্যাবর্তন করে কাবুল অধিকারের পর সিন্ধুর দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন বৈরাম খাঁ নিজের লোকজন সঙ্গে নিয়ে হুমায়ূনের পক্ষাবলম্বন করে যুদ্ধ শুরু করেন। এ সংবাদ পেয়ে হুমায়ূনের আনন্দের সীমা থাকে না। ভারতে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি, সেজন্য তিনি ইরানের পথে রওনা দিয়েছিলেন।
বৈরাম খাঁও সঙ্গে ছিলেন। শাহী কাফেলায় সবসুদ্ধ সত্তরজনের বেশি লোক ছিল না। ইরান থেকে ফিরে হুমায়ূন কন্দাহার অবরোধ করেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল, ভ্রাতা কামরানকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রক্তারক্তি যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত করবেন। তাঁকে বোঝানোর জন্য হুমায়ূন বৈরাম খাঁকে কাবুলে পাঠান, কিন্তু তাঁকে কি বোঝানো সম্ভব? কন্দাহার দখল করে বৈরাম খাঁকে সেখানকার হাকিম নিযুক্ত করেন। কন্দাহার-জয়ের ব্যাপারে হুমায়ূন স্বয়ং বলেছেন—
রোজ নওরোজ বৈরামাস্ত ইমরোজ ।
দিলে আহবাব বেগম’স্ত ইমরোজ ।
আজ নববর্ষ দিন বৈরাম আছে।
আজ বন্ধুদের মন নিশ্চিন্ত ।
৯৬১ হিজরীতে (১৫৫৩-৫৪ খ্রিস্টাব্দে) লোকে কুৎসা রটায় যে বৈরাম খাঁর স্বাধীন হওয়ার মতলব রয়েছে, কিন্তু বৈরাম খা অকৃতজ্ঞ ছিলেন না। একদিন হুমায়ূন স্বয়ং কন্দাহারে এসে উপস্থিত হলেন। বাদশাহ যাতে তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে যান, সেজন্য তিনি খুব আগ্রহ প্রকাশ করলেন, কিন্তু কন্দাহারও খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, সেখানকার জন্য বৈরাম খাঁকে বাদ দিয়ে অপর কোনো যোগ্য শাসক পাওয়া সম্ভব নয় । আকবরের আমলেও বহু দিন যাবৎ কন্দাহার বৈরাম খাঁর শাসনাধীনে ছিল।
তাঁর নায়েব শাহ মুহম্মদ কন্দাহারী তাঁর সপক্ষে কাজ করতেন। হুমায়ূন ভারতের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সাতলুজের তীরে মাছিওয়াড়ায় পৌলেন। জানতে পারলেন, এপারে বেজওয়াড়ায় ত্রিশ হাজার পাঠান ঘাঁটি গেড়েছে। তারা কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোয়াচ্ছিল। রাতের আলো নিশ্চিত লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে সাহায্য করে।
নিজের এক হাজার অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে বৈরাম তাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করলেন। শত্রুর সংখ্যা সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল না। অবিরত শরবর্ষণে পাঠানরা ভয় পেয়ে গেল। সমস্ত মালপত্র ফেলে পালিয়ে গেল তারা। এই বিজয় উপলক্ষ্যে হুমায়ূন তাঁকে ‘খানখানা’ উপাধি দান করেন।
তর্দিবেগ বৈরামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, কিন্তু হেমুর নিকট পরাজিত হয়ে পলায়ন করলে বৈরাম সুযোগ পেয়ে যান এবং পথের কাঁটা দূর করে দেন। আকবর মসনদে বসার দিন আবুল ম-আলী কিছু গোলমাল পাকাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বৈরাম যেমন চমৎকারভাবে ব্যাপারটাকে সামলে ফেলেন, সেটা তাঁরই কৃতিত্ব বলা যেতে পারে। হেমচন্দ্রের কাছে পরাজিত হয়ে মোগল আমির হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, তিনি কাবুলে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বৈরাম বাধা দেন ।
হুমায়ূনের মৃত্যুর পর আকবরের সাম্রাজ্য তত্ত্বাবধানের ভার ছিল বৈরাম খাঁর উপর। খানখানারে যোগ্যতা ও প্রভাব দেখে মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত আগে হুমায়ূন তাঁর ভাগিনেয়ী সলীমা সুলতান বেগমের সঙ্গে বৈরাম খাঁর বিবাহ নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন। আকবরের দ্বিতীয় রাজ্যবর্ষ-পূর্তি উৎসবে খুব ধুমধামের সঙ্গে সেই বিবাহ সম্পন্ন হয়। দরবারে কিছু মোগল সর্দার এবং অনেক বেগমই এই সম্বন্ধ-স্থাপনে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তৈমূর-বংশের শাহজাদীর বিবাহ হবে এক তুর্কমান সর্দারের সঙ্গে, এটা তাঁরা কিভাবে মেনে নিতে পারেন?
আকবর সাবালক হলে তিনি আর খানবাবার হাতে কাঠের পুতুল হয়ে থাকতে ইচ্ছুক ছিলেন না। ওদিকে বৈরামও নিজেকে সর্বেসর্বা করে তুলেছিলেন। তার ফলে তাঁর শত্রুসংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। দরবারে পরস্পরের রক্তপিপাসু দু’টি দল হয়ে গেল, বিরোধী দলের মাথার উপর ছিল আকবরের হাত।
বৈরাম খাঁর তরোয়াল ও রাজনীতি শেষ পর্যন্ত হেরে গেল। তাঁকে ধরে এনে আকবরের সামনে উপস্থাপিত করা হয়। আকবর বললেন—খানবাবা, এখন তিনটিই পথ। আপনার যেটা পছন্দ, সেটাই বেছে নিন : (১) রাজকার্য চাইলে চাঁদেরী ও কালপী জেলা নিয়ে নিন, সেখানে গিয়ে শাসনকার্য চালাতে থাকুন; (২) দরবারে থাকা যদি পছন্দ হয়, তাহলে আমার কাছে থাকুন, আগের মতোই আপনার পদ ও সম্মান বজায় থাকবে; (৩) যদি হজ করতে চান, তাহলে তার বন্দোবস্ত করা যেতে পারে। খানখানা তৃতীয় পথটিকেই সমীচীন বোধ করেন।
হজের জন্য জাহাজ ধরতে তিনি সমুদ্রের দিকে যেতে যেতে পাটনে (গুজরাত) উপস্থিত হলেন। ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে বিশাল সহসলঙ্গ সরোবরে নৌবিহার করছিলেন। সায়ংকালীন নামাজের সময় হয়েছিল। খানখানা নৌকো থেকে তীরে নামলেন। সেই সময় মুবারক খাঁ লোহানী ত্রিশ-চল্লিশ জন পাঠানকে সঙ্গে নিয়ে সাক্ষাৎ করার অজুহাতে সেখানে এলেন। বৈরাম হাত মেলানোর জন্য এগিয়ে গেলেন।
এমন সময় লোহানী তাঁর পিঠে ছোরা বসিয়ে বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিলেন। খানখানা # সেখানেই পড়ে গিয়ে তড়পাতে শুরু করেন। লোহানী বললেন—মাছিওয়াড়ায় তুমি আমার পিতাকে হত্যা করেছিলে, তারই প্রতিশোধ নিলাম আমি।
বৈরামের পুত্র ও হিন্দী সাহিত্যের ভাবী মহান কবি আব্দুর রহীম তখন চার বছরের শিশু। আকবর সংবাদ পেয়ে খানখানার বেগমদের দিল্লীতে নিয়ে আসেন। বৈরামের পত্নী তথা নিজের পিতৃষ্বসার (গুলরুখ বেগম) কন্যা সলীমা সুলতানের সঙ্গে আকবর স্বয়ং বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বৈরাম পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। সলীমা বানু আকবরের অত্যন্ত প্রভাবশালী বেগমদের অন্যতম ছিলেন ।
তৃতীয় রাজ্য-বর্ষোৎসবে (১৫৫৮-৫৯ খ্রিঃ) শেখ গদাঈকে সদরূস্-সদর নিয়োগ করা হয়। গদাঈ শিয়া ছিলেন, বৈরামও তাই। আমিরদের মধ্যে খুব বেশি সংখ্যায় ছিলেন সুন্নী। ভারতের ইসলাম সুন্নী। তখনও পর্যন্ত এমন কখনও হয়নি যে ওইরকম উচ্চপদে কোনো শিয়াকে নিযুক্ত করা হয়েছে। বৈরাম খাঁর সেই কাজ সমস্ত সুন্নী আমিরকে একজোট হতে সাহায্য করেছিল।
সেটাও বৈরাম খাঁর পতনের এক বড় কারণ ছিল। আকবরের মাতা হামিদা বানু (মরিয়ম মাকানী), তাঁর ধাত্রীমাতা মাহম আনকা, দুগ্ধ-ভ্রাতা আদহম খান, তাঁর সম্বন্ধী তথা দিল্লীর হাকিম সাহাবুদ্দীন বৈরাম খাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের শিরোমণি ছিলেন। তাঁরা আকবরকে এ কথাও বুঝিয়েছিলেন যে বৈরাম খাঁ কামরান মির্জার পুত্রকে সিংহাসনে বসাতে চান।
এইসব লোক বৈরামের সর্বনাশ করার জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন। খানখানার পরামর্শদাতারা বলছিলেন—“আকবরকে বন্দী করো।” কিন্তু বৈরাম ওইরকম অকৃতজ্ঞ হতে রাজি ছিলেন না। যখন জানা গেল যে বৈরামের ভাগ্য-রবি অস্ত যেতে বসেছে, তখন তাঁর বহু সহায়ক-সঙ্গীই দূরে সরে যায়।
আকবর নিজের অবস্থান সুদৃঢ় দেখে তাঁর শিক্ষক মীর আব্দুল লতীফকে দিয়ে নিম্নলিখিত বার্তা লিখিয়ে পাঠিয়ে দিলেন— “যেহেতু আপনার ইমানদারি ও ভক্তির উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে, সেহেতু আমি গুরুত্বপূর্ণ রাজকার্য আপনার হাতে ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের আনন্দ-বিলাসে মগ্ন রয়েছি। এখন আমি শাসনকার্যের ভার স্বহস্তে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এতদিন আপনি মক্কা হজ করতে যাওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করতেন, তাই এবার আপনি হজ করতে গেলেই ভালো হয়। ভারতের পরগণাগুলোর মধ্যে একটা ভালো জায়গির আপনার ব্যয়-নির্বাহের জন্য দেওয়া হবে, আপনার গোমস্তা জায়গিরের আয় আপনাকে পাঠাবে।”
মাহম আনকা সাধারণ মহিলা ছিলেন না। সে-সময় আকবরের উপর তাঁর পূর্ণ প্রভাব ছিল। আবুল ফজল লিখেছেন—“নিজের (বৈরাম খাঁর) অসাধারণ বুদ্ধি ও রাজভক্তির দরুন রাজকার্য হস্তগত করে নিয়েছিলেন। হুমায়ূনের ভারতের সিংহাসন পুনরধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং আকবরের আমলের প্রথম চার বছরে তিনিই সাম্রাজ্যের ভিত সুদৃঢ় করে তোলেন ও তার বিস্তার ঘটান।”
তিনিই দু’টি বড় রাজ্য গওয়ালিয়র ও জৌনপুর ১৫৫৮-৬০ খ্রিস্টাব্দে জয় করে আকবরের সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং রণথম্ভোরও অধিকার করার ব্যর্থ প্রয়াস চালান। মালওয়াও তিনি অধিকার করে নিতে পারতেন যদি না দরবারে বৈরামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হতো ।
বৈরামের পত্নী সলীমা সুলতান বেগম ছিলেন হুমায়ূনের সহোদর ভগ্নি গুলরুখ বেগমের কন্যা। তাঁর জন্ম ৯৬১ হিজরীতে (১৫৫৩-৫৪ খ্রিস্টাব্দে)। সেই হিসেবে ৯৬৫ হিজরীতে (১৫৫৭-৫৮ খ্রিস্টাব্দে) যখন বৈরামের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র চার-পাঁচ বছর, অর্থাৎ ১৫৬০ খ্রিস্টাব্দে বৈরামের মৃত্যুর সময়ে তাঁর বয়স ছিল সাত-আট বছর।
তিনি খুব সুশিক্ষিতা ও বুদ্ধিমতী মহিলা ছিলেন। সলীমা বানুর মৃত্যু হয় ১০২১ হিজরীতে (১৬১২-১৩ খ্রিস্টাব্দে) তাঁর জন্য আকবর মোল্লা বদায়ুনীকে দিয়ে দুইবার ‘সিংহাসন বত্তীসী’ ফারসিতে ‘খিরদ-আজা’ নামে তরজমা করান। ফারসিতে তাঁর একটি পদ্য আছে—
কাকুলত্-রামত্ জে-মস্তী রিতায়ে-জাঁ গুত্ অম্ ।
মস্ত্ বুদম কী সবাব হরফে পরীশা গুত্’ অম্ ।
