কুমিল্লা ও ময়নামতি সেক্টর

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ কুমিল্লা ও ময়নামতি সেক্টর। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

কুমিল্লা ও ময়নামতি সেক্টর

 

কুমিল্লা ও ময়নামতি সেক্টর

 

কুমিল্লা ও ময়নামতি সেক্টর

কুমিল্যাকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখা হয় নি। প্রাথমিক যুদ্ধের পর ১১৭তম ব্রিগেড ময়নামতি দূর্গে পিছু হটে আসে। যে-কোনো দিক থেকে শত্রুর হামলা মোকাবেলায় ময়নামতিকে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এসব কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতার পেছনে আরো তিনটি প্রতিরক্ষা ব্যূহ রচনা হয়।

সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শত্রু ময়নামতির প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করতে সক্ষম হয় নি। ১১৭তম ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এমএইচ আতিফ আত্মসমর্পণে ভারতীয়দের আহ্বান উপেক্ষা করেন।১৯৬৪ সালে হকি ক্যাপ্টেন হিসেবে অলিম্পিকে তিনি যেভাবে লড়াই করেছিলেন ঠিক সেভাবে তিনি ১৬ই ডিসেম্বর শেষদিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন।

পাকবাহিনী কুমিল্লায় এসেই তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদরদের নিয়ে গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হায়েনার দল বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করে নিরীহ মানুষকে। ধরে নিয়ে যায় যুবতীদের।

লাকসামের একটি সিগারেট ফ্যাক্টরিতে হানা দিয়ে সেখানে নির্মম হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তারা। লাকসাম রেলওয়ে জংশনে অপেক্ষমাণ ট্রেন থেকে যাত্রীদের ধরে নিয়ে নির্দয়ভাবে হত্যা করে। প্রতিরাতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে এসে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হতো নিরীহ লোকদের।

 

তারপর লাশ পুঁতে রাখতো মাটির নিচে। সেসব স্থানে মাটি খুঁড়লে আজও বেরিয়ে আসে মানুষের হাড়গোড়, খুলি। কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে অনেক বধ্যভূমি ও গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের গণকবরে বহু কঙ্কাল পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুল্লাপাথরে ১৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে গণকবর দেয়া হয়। বধ্যভূমির মধ্যে রয়েছে বেলতলী, ধনাঞ্জয়, দিশাবন্দ, ঘিলাতলা, রসুলপুর, হোমনার বধ্যভূমি ইত্যাদি।

তিনি ময়নামতিকে দুর্ভেদ্য করে গড়ে তুলেছিলেন। লাকসাম থেকে ৫৩তম ব্রিগেড আতিফের ব্রিগেডে এসে যোগ দেয়। তখন তার সৈন্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজারে। এ ছাড়া তার অধীনে ছিল ৪টি ট্যাংক ও একটি ব্যাটারি আর্টিলারি । ভারতীয়রা আমাদের সুরক্ষিত অবস্থান দখল অথবা ভেদ করতে পারে নি।

হামলায় ভারতীয়দের চড়া মাশুল দিতে হয়। অতঃপর তারা ময়নামতি দুর্গ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি নাগাদ এ দুর্গ ধরে রাখা হয় । আতিফ শত্রুর দুটি ব্রিগেডকে আটকিয়ে রাখেন।

 

কুমিল্লা ও ময়নামতি সেক্টর

 

এতে ঢাকা দখলের জন্য জেনারেল সগৎ সিংয়ের কাছে এক ডিভিশনের সামান্য বেশি সৈন্য ছাড়া আর কিছু ছিল না। তবে জেনারেল সগৎকে ঢাকা দখল করতে হলে ভৈরববাজার এবং নারায়ণগঞ্জকে মোকাবেলা করতে হতো। চট্টগ্রামের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়।

Leave a Comment