আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের গৌরব ও মর্যাদার আসন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের গৌরব ও মর্যাদার আসন

- আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পররাষ্ট্র নীতিতে বিরাট সাফল্য অর্জিত হয়। সরকার মূলত উন্নয়নের লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে অর্থনৈতিক কূটনীতির আলোকে কার্যকর ও যুগোপযোগী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে।
- ভারতের সাথে সম্পাদিত ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত স্থলচুক্তি বিশ্ব-সমাজের কাছে প্রশংসিত হয়।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে নৃ-জাতিগত সমস্যার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।
- আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বাগ্রগণ্য অন্যান্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে প্রথমত, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ, দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে সফর।
- আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা নিম্নলিখিত বিভিন্ন ফোরামে অংশগ্রহণ করেন। এসব ফোরামে আমাদের ভূমিকা বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনে বিরল সম্মান। ফোরামগুলো হচ্ছে:
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ওয়াশিংটনে মাইক্রোক্রেডিট সম্মেলন রোমে বিশ্বখাদ . শীর্ষ সম্মেলন ভারতে আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন সম্মেলন পাকিস্তানে ওআইসি শীর্ষ সম্মেল জার্মানিতে পঞ্চম বিশ্ব সম্মেলন মালদ্বীপে নবম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ইংল্যান্ডে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন
- ইরানে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন ঢাকায় ত্রি-দেশীয় বাণিজ্য শীর্ষ সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন জাতিসংঘ মিলেনিয়াম শীর্ষ সম্মেলন।
- আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সর্বাধিক সংখ্যক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিদেশী অতিথি বাংলাদেশ সফর করেন।
- ভারত ও পাকিস্তান- এই দুই দেশের পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রশমনে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে। সার্ক দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় অবস্থান ও ভূমিকা আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র নীতির এক বিরাট সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা এই সময়ে ভারত ও পাকিস্তান সফর করেন। উত্তেজনা প্রশমনে তিনি যে ভূমিকা রাখেন, তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।
- দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি- সিটিবিটিতে স্বাক্ষর করে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে। শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ থেকে সাহায্য প্রাপ্তি ও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি আদায় পররাষ্ট্র নীতির সাফল্যের পরিচায়ক।
- আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে ঢাকায় জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের জন্য লাভজনক ও সুদূরপ্রসারী তাৎপর্যমণ্ডিঞ্জ ন্যাম সম্মেলনের যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়ে এসেছিল। চীনের আর্থিক সাহায্যে নির্মিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নামে একটি সর্বাধুনিক বৃহৎ মিলনায়তন। বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে ন্যাম সম্মেলন বাতিল করে। ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়।
- স্বল্পোন্নত দেশসমূহের সমন্বয়কারীর মর্যাদা লাভ।
- আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বিমসটেক আঞ্চলিক ফোরাম গঠন।
- ১৫ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ হাসিনাকে ইতালির জেনোয়ায় অনুষ্ঠিত জি-৮ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে স্বল্পোন্নত বিশ্বের এশীয় মুখপাত্র হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২২ জুলাই জি-৮ সম্মেলনে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য মর্যাদাবাহী সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

- আওয়ামী লীগ সরকার শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা দেশে-বিদেশে সর্বক্ষ প্রশংসিত হয়। বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকায়ন, মানবাধিকার ও শাস্তি সংরক্ষণ, পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন, কৃষি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, ভারতের সাথে পানিচুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, সর্বোপরি, উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রভৃতি কাজে বাংলাদেশ বলিষ্ঠ উদ্যোগ, তৎপরতা ও দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হয়। এসব কর্মকাণ্ড ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নানাভাবে দেশকে সম্মাননা জানিয়েছে, তাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে প্রদত্ত ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার, বিশ্বখাদ্য সংস্থার সেরেস পদক দান ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনাকে শুধু নয়, সমগ্র বিশ্বে বাঙালি জাতিকেই অভূতপূর্ব গৌরব ও মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করেছে ।
