আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ

“বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ সেই নারী সমাজকে প্রত্যেকটি কাজে সম্পৃক্ত করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে জাতির-জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৬৯ সালে মরহুমা বেগম বদরুননেছা আহমদকে সভানেত্রী ও আমাকে সাধারণ সম্পাদিকা করে প্রথম বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ গঠিত হয়।
সেই থেকে বাংলাদেশের অবহেলিত মহিলা সমাজকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলোকে বিভিন্ন গঠনমূলক ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিটি গণআন্দোলন বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়েও মহিলা আওয়ামী লীগ সাধ্যমত তাদের অবদান রেখে আসছে।
১৯৮১ সনের ১২ই ফেব্রুয়ারী বর্তমান কমিটি কার্যভার গ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ ছাড়াও মহিলা আওয়ামী লীগ ভিন্নভাবেও কিছু কর্মসূচী পালন করে।
তার মধ্যে জাতীয় শোক দিবসে স্বেচ্ছায় চক্ষুদান ও রক্তদান কর্মসূচী, দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, নারী-নির্যাতন ও সামাজিক অনাচারের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা, ১৫ দলীয় মহিলা ঐক্যজোটের সাথে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ ও পালন,
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস ও অমর একুশে ফেব্রুয়ারী স্মরণিকা প্রকাশ, সর্বজন শ্রদ্ধেয়া কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে নারী-নির্যাতন ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি’র বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশ গ্রহণ এবং জাতীয় সংসদের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তে প্রকারান্তরে মনোনয়ন পদ্ধতি প্রচলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা, নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও এবং স্মারকলিপি পেশ এবং সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠান ও প্রেসক্লাবের সামনে এরশাদের কুশপুত্তলিকা দাহ উল্লেখযোগ্য।

আমি বিশ্বাস করি, যেহেতু দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, সেহেতু নারী সমাজকে বাদ দিয়ে সমাজের সার্বিক কল্যান সম্ভব নয়। তাই আমি জেলা ও থানা পর্যায়ে সকল নেতা-কর্মীকে অনুরোধ করব, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সিড়ি বেয়ে সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্বার্থেই মহিলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার প্রচেষ্টায় তাঁরা অবশ্যই সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবেন।
