শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

 

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

 

ক) দারিদ্র্য বিমোচনের মূল হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার, মান উন্নয়ন এবং দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার যেসব কর্মসূচি ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।

খ) ১৯৯৬-এ ঘোষিত দশ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ২০০৩ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতা মুক্ত করা হবে। ১৯৯৬-এর নির্বাচনী অঙ্গীকার মোতাবেক ইতিমধ্যে ড. কুদরত-ই-খুদা কমিশনের ভিত্তিতে একটি নতুন বিজ্ঞানসম্মত গণমুখী শিক্ষানীতি আওয়ামী লীগ সরকার জাতিকে উপহার দিয়েছে।

এই শিক্ষানীতির আলোকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে, শিক্ষা একদিকে যেমন মানুষের মৌলিক অধিকার, তেমনি অন্যদিকে তা এক বিরাট সামাজিক পুঁজি। একটি আধুনিক, উন্নত ও অগ্রসরমান বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের নীতি অব্যাহত থাকবে। 

গ) সকল বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলকে সরকারিকরণসহ দেশের পুরো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা হবে।

ঘ) নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রদত্ত উপবৃত্তি অব্যাহত রাখা হবে এবং ডিগ্রী পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেয়া হবে। এ ছাড়া দরিদ্র ও দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগকে অবারিত করা হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়টিকে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

ঙ) শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

চ) শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন অহেতুক প্রলম্বিত না হয়, সেজন্য শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে কমে আসা সেশনজট সম্পূর্ণ দূর করা হবে।

 

ছ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে বিশেষভাবে স্কুল পর্যায় থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত কম্পিউটার ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গৃহীত উদ্যোগকে আরও ব্যাপক করা হবে। নির্মীয়মান ও পরিকল্পিত ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা হবে। 

জ) শিক্ষকদের জন্য পৃথক ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ গঠন করাসহ শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও তাদের সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও সমপর্যায়ের মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি অনুদান একশত ভাগে উন্নীত করা হবে।

ঝ) বিশ্ব-সংস্কৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে সর্বতোভাবে চেষ্টা করা হবে। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য, বিশেষত লোক সংস্কৃতির অমৃত ভাণ্ডারের সংরক্ষণ এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, নাট্যকলা এবং কারু ও চারুশিল্পসহ সুকুমার শিল্পের বিভিন্ন শাখার উৎকর্ষ সাধনে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

দেশের অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষার মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে পরিপুষ্ট করা হবে। দেশের সকল অঞ্চলে সংস্কৃতিচর্চার অবাধ সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় স্থাপনা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট-কে শক্তিশালী করে শিল্পী-সাহিত্যিকদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হবে।

ঞ) সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি, কূপমণ্ডূকতা এবং কুসংস্কার প্রতিরোধের পাশাপাশি এ-ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও জনগণকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।

ট) কোরান ও সুন্নাহ পরিপন্থী কোনো আইন-প্রণয়ন করা হবে না। সকল ধর্মের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

 

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

 

ঠ) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরবে অভিষিক্ত মহান একুশে ফেব্রুয়ারির তথা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও এই দিনটির তাৎপর্য ইত্যাদি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা সম্পর্কে গবেষণা ও চর্চার ওপর আওয়ামী লীগ সরকার যে গুরুত্ব দিয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা সম্পর্কে গবেষণা ও চর্চার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট’-কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment