অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী উন্নয়ন দর্শন

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী উন্নয়ন দর্শন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী উন্নয়ন দর্শন

 

অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী উন্নয়ন দর্শন

 

অভূতপূর্ব গণ জাগরণের মধ্য দিয়ে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটলেও স্বৈর শাসনের সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া পড়েছে গোটা অর্থনীতিতে। প্রবৃদ্ধি হারের নিম্ন গতি, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অবনতিশীল, দারিদ্র্য, প্রকটতর বেকারত্ব, উত্তরোত্তর পরনির্ভরশীলতা- আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা।

অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতা কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে দ্রুত উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত পথে অগ্রসর না হতে পারলে শুধু যে আর্থসামাজিক পরিস্থিতিই চরমভাবে বিপন্ন হয়ে উঠবে তাই নয়, গণতন্ত্রের প্রক্রিয়াকেও সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা ক্রমাগত হুমকীর সম্মুখীন হবে।

অতীতে সম্পদের অপচয়, পুঁজি পাচার, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে উৎসাহ না দিয়ে অনুৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই উপলব্ধিতে আজ সকল দেশবাসীকে ন্যূনতম ঐকমত্যের জাতীয় পুনর্গঠন কর্মসূচীতে একত্রিত হতে হবে। উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন, প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারায় ন্যায়সংগত সামাজিক বণ্টন, উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং ক্রমান্বয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন- চারটি মূল ধারায় নিয়োজিত হতে হবে সকল উন্নয়ন প্রয়াস। রাষ্ট্রীয় শাসনযন্ত্র ও জনসাধারণকে একই সাধারণ লক্ষ্যে পরিচালিত করাই হবে আজকের যুগের উন্নয়ন দর্শনের মূল কথা।

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাতের দক্ষ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেসরকারী খাতের স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগকে সর্বাত্মকভাবে উৎসাহিত করা হবে। প্রণীত নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও সামাজিক উপযোগিতার নিরিখে সরকারী ও বেসরকারী খাতের অগ্রাধিকার নির্ণীত হবে।

এই লক্ষ্যে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সুযোগ- সুবিধা যাতে সবাই গ্রহণ করতে সক্ষম হয় তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে অন্যায়ভাবে এই বাজার ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ করতে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

 

অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী উন্নয়ন দর্শন

 

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের ভূমিকা হবে সহায়কের নিয়ন্ত্রকের নয়। সাধারণভাবে কোন ব্যবসা-শিল্প প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হবে না। ব্যক্তি খাতকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খাতের প্রত্যক্ষ ভূমিকাও হবে গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় যাতের ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অদক্ষতা ও অনভিপ্রেত অলাভজনকতা দূর করে দক্ষ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, প্রতিযোগী বাজার ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ ধারায় উৎপাদনশীলতা দ্বারা এদেরকে লাভজনক করতে হবে।

Leave a Comment