ভারতের সাথে যুদ্ধের সার্বিক ধারণা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ভারতের সাথে যুদ্ধের সার্বিক ধারণা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

ভারতের সাথে যুদ্ধের সার্বিক ধারণা

 

ভারতের সাথে যুদ্ধের সার্বিক ধারণা

 

ভারতের সাথে যুদ্ধের সার্বিক ধারণা

১৯৪৭ সালে সেই পাকিস্তান সৃষ্টির সময় থেকেই ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক কারণে সশস্ত্র বাহিনীর বৃহদাংশ পশ্চিম পাকিস্তানে মোতায়েন রাখা হতো। অন্যদিকে, পূর্ব পাকিস্তানে রাখা হতো ডিভিশন আকৃতির একটি বাহিনী। ‘পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা নির্ভর করে পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর’- এটাই ছিল প্রতিরক্ষা নীতি।

এটা আরো সহজবোধ্য ভাষায় বলতে গেলে তার অর্থ দাঁড়ায় যে, ভারতের সাথে যুদ্ধের মীমাংসা হবে পশ্চিম পাকিস্তান ফ্রন্টে। অন্যদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের গ্যারিসনকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় সৈন্যকে ব্যস্ত এবং তাদেরকে এ ফ্রন্টে আটকে রাখতে হবে।

আমি আবার বলছি- একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। অর্থাৎ পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধের ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত। ঢাকায় আমাদেরকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দানের দিন পর্যন্ত এটাই ছিল আমাদের সামরিক কৌশলের ভিত্তি। [পরিশিষ্ট ১৪-তে এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।

 

ভারতীয় সৈন্য কর্তৃক দখলকৃত এলাকা সম্পর্কে তিনি মানচিত্রে ব্যাখ্যা করেন। এখানে ভারতীয়রা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। এখান থেকে মুজাফফরাবাদ দখলের জন্য অপারেশন পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সহজ হয়ে ওঠে। তিনি আমাকে পরদিন অপারেশন অঞ্চলে রওনা হবার নির্দেশ দেন। তিনি আমাকে আরো নির্দেশ দেন যে, কোনো অবস্থায় শত্রুরা যেন মুজাফফরাবাদের দিকে এগিয়ে আসতে না পারে।

জেনারেল আখতার একই দিনে চাষ-এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কর্নেল স্টাফ কর্নেল ইজাজ (পরে মেজর জেনারেল)-কে রেখে আসা হয় ১২তম ডিভিশন অপরেশন রুম নিয়ন্ত্রণ করার জন্ যখন ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান, জেনারেল মুসা এবং তাদের স্টাফ অফিসাররা এসে পৌঁছেন, আমি তখনো ১২তম ডিভিশন হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন রুমে ছিলাম।

 

ভারতের সাথে যুদ্ধের সার্বিক ধারণা

Leave a Comment