আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ১৯৭১ সালেরযুদ্ধ পরিকল্পনা । যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
১৯৭১ সালের যুদ্ধ পরিকল্পনা

১৯৭১ সালের যুদ্ধ পরিকল্পনা
যে-কোনো যুদ্ধ একটা কৌশলের উপর নির্ভর করে। আর তাই যুদ্ধের শিল্পকর্মের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে বর্তমানকালে যুদ্ধ আরো জটিল ও ধ্বংসাত্মক। আধুনিক যুদ্ধ হচ্ছে বিলম্বিত সময়ের জন্য পরস্পর সংযুক্ত সংগ্রাম।
যুদ্ধ করাই সশস্ত্র বাহিনীর একমাত্র কাজ নয়। সেনাবাহিনী হচ্ছে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের একটি মাধ্যম। যুদ্ধ শুরু ও বন্ধের চাবিকাঠি থাকে সরকারের হাতে। গণতান্ত্রিক সরকারগুলো সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে তাদের ক্ষমতার পরিধি বিস্তৃততর করেছে। রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বন্দুকের নল হচ্ছে সরকারের একটি অন্যতম হাতিয়ার।
সৈনিক ও কমান্ডার হিসেবে আমার ওপর দায়িত্ব ছিল, ‘গেরিলাদের উচ্ছেদ করো। শত্রুদেবকে প্রদেশের কোনো ভূখণ্ড দখল করে নিতে দিও না যাতে সেটাকে তারা বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানকে বহিঃশত্রুর আগ্রাসন থেকে রক্ষা করো। আমাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয় মৌখিকভাবে। জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স আমাকে লিখিতভাবে অভিযান পরিচালনার দিক-নির্দেশনা দেয় নি।
লেফটেন্যান্ট জোনারেল টিক্কা খান ছিলেন সামরিক আইন প্রশাসক এবং আমি ছিলাম ইন্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার। আমরা প্রত্যেকেই ছিলাম নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন। যদিও কিছু ওভার ল্যাপিং ছিল। আমার দায়িত্ব সম্পর্কে আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। তাই আমি মৌখিক নির্দেশনা সত্ত্বেও কাজে নেমে পড়ি এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে গেরিলাদের উচ্ছেদ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে সীমান্ত পুনরুদ্ধার এবং প্রাদেশিক সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করি।
টিক্কা খান আমার মিটিং-এ আসতে থাকেন। আমি তাকে বিনয় ও কৌশলের সাথে মিটিংয়ে যোগদান থেকে বিরত থাকতে বলি। কারণ, আমাদের কাজ দেখার এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা সদর দপ্তর ছিল। তখন সরকার প্রেসিডেন্ট হাউসে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সাথে ছিলেন।
জেনারেল ইয়াহিয়া, হামিদ, পীরজাদা ওমর এবং জেনারেল মিটা। তারা রাষ্ট্র ও পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবহুল নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে চিয় অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান ছিলেন পকিল্পনা প্রণয়নের দায়িত্বে। কিন্তু তিনি তার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন।
ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে জেনারেল ওসমানীর অধীনে ভারতীয় সৈন্যরা ব্যাপকভাবে মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং এতে রুশ গেরিলাবিশেষজ্ঞরা সহায়তা দিচ্ছে— এই কথা পুরোপুরি জানার পরও জেনারেল গুল হাসান পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অথবা বিদ্রোহ দমনে কখনো কোনো অপারেশনাল নির্দেশনা দেন নি।
আমার কাছে যে সীমিত সম্পদ ছিল তাই দিয়েই আমাকে পরিকল্পনা করতে হয়েছে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ডিভিশন ও কোরের কোনো কামান এবং ট্যাংক পাঠানো হয় নি। আমাকে গোলাগুলি ছাড়া আর কোনো বস্তুর সহায়তা দেওয়া হয় নি।
আমার সৈন্যদের পায়ে পচন ও ছত্রাক দেখা দেয়। অস্ত্রশস্ত্রের মজুদ বলতে গেলে ছিল না। এ পরিস্থিতিতে আমি আমার চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার বাকির সিদ্দিকীকে এমজিও লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াসিউদ্দিনের কাছে পাঠাই। যিনি একজন বাঙালি ছিলেন।
জেনারেল ওয়াসিউদ্দিন তাকে গালিগালাজ করেন এবং সহায়তা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। এরপর ব্রিগেডিয়ার বাকির সিজিএস জেনারেল গুল হাসানের সাথে দেখা করেন। কিন্তু তিনি তার অনুরোধ রক্ষা করেন নি। সুতরাং আমাদেরকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র এমনকি শার্ট, ট্রাউজার ও বুট ছাড়াই চলতে হয় সৈন্যদেরকে খালি পায়ে ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ছাড়াই যুদ্ধ করতে হয়েছে।
১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে আমার চিফ অব স্টাফ বাকির সিদ্দিকী জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে জেনারেল হামিদের সাথে দেখা করতে যান। সে সময় জেনারেল হামিদ আবারো নির্দেশ দেন যে, বিদ্রোহীদের কোনো ভূখণ্ড দখল করতে দেওয়া যাবে না।
আমি পূর্ব পাকিস্তানের চারদিকে ভারতীয় সমরসজ্জার খবর পাচ্ছিলাম। আরো শোনা যাচ্ছিল যে, ৪টি ব্রিগেডের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনীকে একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী হিসেবে পুনর্গঠিত করা হয়েছে এবং জেনারেল ওসমানীর অধীনে রণাঙ্গনকে ৮টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।
জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে বৈঠককালে শত্রুর হুমকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। চীন সীমান্ত থেকে নতুন করে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার এবং জেনারেল বায়নার অধীনে দ্বিতীয় কোরের কলকাতার কাছে কৃষ্ণনগরে অবস্থান গ্রহণের নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছিল যে, ১৯৭১ সালের অক্টোবর নাগাদ ভারত তার সমরসজ্জা সম্পন্ন করে ফেলবে।
শত্রুর হুমকি সম্পর্কে নিম্নোক্ত ধারণা করা হয়ঃ
- চতুর্থ কোরের অধীনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সগত তিনটি ডিভিশন ও মুক্তিবাহিনীর একটি ব্রিগেড সিলেট, ভৈরব বাজার ও চাঁদপুরের দিকে এগিয়ে আসবে (লেফটেন্যান্ট জেনারেল সগত সিং)।
- ৩৩তম কোরের নেতৃত্বাধীন (লেফটেন্যান্ট জেনারেল থাপন) দুটি ডিভিশনএবং আরো সৈন্য পঞ্চগড় রংপুর ও হিলি সেক্টরে প্রবেশ করবে। নবগঠিত দ্বিতীয় কোরের (লেফটেন্যান্ট জেনারেল রায়না) দুটি ডিভিশন কৃষ্ণনগর
- থেকে যশোর-খুলনা সেক্টরে প্রবেশ করবে এবং ঢাকা দখলে এগিয়ে আসবে।
- তুরা থেকে ময়মনসিংহের দিকে একটি ভারতীয় পদাতিক ব্রিগেড মুক্তিবাহিনীর আরেকটি ব্রিগেড এগিয়ে আসবে।
এ দিকে আমরা আরো জানতে পারলাম যে, বিরাট গোলন্দাজ বহর এবং সেতু নির্মাণ সামগ্রীসহ প্রায় ১৯টি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নও মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী কারিয়ানগঞ্জ (সিলেটের বিপরীত দিকে) থেকে চট্টগ্রামের কাছাকাছি আইজল পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত বরাবর সড়ক নির্মাণ করছে। ধারণা করা হচ্ছিল যে, এসব সড়ক নির্মাণ শেষ হবে অক্টোবরের মধ্যে।
এসব হুমকির প্রেক্ষিতে আমাকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়। মেজর জেনারেল জামশেদ ও রহিম, এয়ার কমোডর হক (যিনি ঢাকায় ছিলেন) এবং আমার চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার বাকির সিদ্দিকীর সাথে আলোচনা করার পর কয়েকটি এডহক ফরমেশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থির করা হয় যে, মুজাহিদ, রাজাকার, স্কাউট ও রেঞ্জারদের সীমান্ত চৌকি (বিওপি) রক্ষায় মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া তারা যোগাযোগ ব্যবস্থাও রক্ষা করবে। নিয়মিত সৈন্যদের অধিকাংশকে আত্মরক্ষামূলক লড়াইয়ের জন্য ঘাঁটি ও দুর্গে মোতায়েন করা হবে। বিএপি’র আশপাশের প্রধান সংযোগ সড়কগুলো নিয়মিত সৈন্য অথবা সিএএফ রক্ষা করবে এবং নিয়মিত বাহিনীর অফিসার ও জেসিওদের নেতৃত্বে সিএএফ সীমান্তের বাদ-বাকি অঞ্চল রক্ষা করবে।
কমান্ডাররা যুদ্ধকালে এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হন যা তাদের কামা নয়। কখনো কখনো তারা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এবং প্রতিকূল ও চরম বৈরি পরিস্থিতিতেও তাদের পড়তে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপ্রত্যাশিত। ঘটনায় তাদের চমত্কার পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।
আমার অবস্থা তখনো ততোটা খারাপ ছিল না। কিছু বিষয় আমাদের অনুকূলে ছিল এবং এগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে আমরা যথেষ্ট উপকৃত হতে পারতাম। ফিল্ড মার্শাল রোমেল বলেছেন, শত্রুর কোনো পরিকল্পনাই টেকে না। কোনো কমান্ডারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে এমন এক সময় আসবে যখন তাকে দ্বন্দ্ব যোদ্ধার মতো নিজের চোখ, কান ও অনুভূতির সাহায্যে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
সীমিত সম্পদ এবং ক্ষুদ্র, ক্লান্ত ও অসজ্জিত একটি বাহিনী থাকা সত্ত্বেও আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করার বেশ কয়েকটি সুযোগ তখনো আমাদের সামনে খোলা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কাছে আমি ছিলাম জিম্মি। আমার হাত-পা ছিল বাধা। আমার এ অসহায়ত্ব শত্রুর অগোচরে ছিল না। সুতরাং আমাকে আমার ঘাটতি, দুর্বলতা ও কর্মপন্থা আড়াল করার জন্য ছল-চাতুরি, কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে হয়।
আমি কৌশলগত চাতুর্যের মাধ্যমে শত্রুকে আমাদের শক্তি ও সৈন্য মোতায়েন সম্পর্কে ধাধায় ফেলে দিই। আমার জন্য সবচেয়ে ভালো হতো যদি আমি বিধ্বস্ত মুক্তিবাহিনীকে তাড়া করতে করতে ভারতে ঢুকে যেতে পারতাম এবং তাদের পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ না দিতাম।
কিন্তু আমি অসহায় ছিলাম এমন একটি রাজনৈতিক মিশনের কাছে যেখানে আমার দায়িত্ব ছিল শুধু বাংলাদেশ সরকার গঠনে মুক্তিবাহিনীকে বাধা দেওয়া। ভারতে ঢুকে মুক্তিবাহিনীর ওপর হামলা না করার সিদ্ধান্ত ছিল একটি মারাত্মক কৌশলগত ভুল। এ ভুলের জন্য পরবর্তীতে আমাদেরকে চড়া মাশুল দিতে হয়েছে।
যুদ্ধ এগিয়ে চললে নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। এ জন্য যে সরকার যুদ্ধ পরিচালনা করে তাকে এ পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। হাই কমান্ডের কাজ হচ্ছে লক্ষ্যের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদান করা এবং এ লক্ষ্য অর্জনে কমান্ডারের কাজে কোনো ক্রমেই হস্তক্ষেপ না করা। কিন্তু হাই কমান্ড অবিচার করেছে আমার প্রতি।
তারা আমাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর করুণার ওপর ছেড়ে দেয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করার সুযোগ দিতে আমাকে জবাব দেওয়ার জন্য বসে থাকতে হয়। আমি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর হামলার জন্য প্রহর গুণতে থাকি। সতর্ক থাকা এবং সম্ভাব্য পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকা ছাড়া আমার করণীয় কিছু ছিল না। যুদ্ধকালে এর চেয়ে বিরক্তিকর ও পীড়াদায়ক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না।
বৈরি পরিস্থিতিতেও তাদের পড়তে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপ্রত্যাশিত ঘটনায় তাদের চমৎকার পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। আমার অবস্থা তখনো ততোটা খারাপ ছিল না। কিছু বিষয় আমাদের অনুকূলে ছিল এবং এগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে আমরা যথেষ্ট উপকৃত হতে পারতাম।
ফিল্ড মার্শাল রোমেল বলেছেন, শত্রুর কোনো পরিকল্পনাই টেকে না । কোনো কমান্ডারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে এমন এক সময় আসবে যখন তাকে দ্বন্দ্ব যোদ্ধার মতো নিজের চোখ, কান ও অনুভূতির সাহায্যে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সীমিত সম্পদ এবং ক্ষুদ্র, ক্লান্ত ও অসজ্জিত একটি বাহিনী থাকা সত্ত্বেও আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করার বেশ কয়েকটি সুযোগ তখনো আমাদের সামনে খোলা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কাছে আমি ছিলাম জিম্মি। আমার হাত-পা ছিল বাধা। আমার এ অসহায়ত্ব শত্রুর অগোচরে ছিল না। সুতরাং আমাকে আমার ঘাটতি, দুর্বলতা ও কর্মপন্থা আড়াল করার জন্য ছল-চাতুরি, কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে হয় ।
আমি কৌশলগত চাতুর্যের মাধ্যমে শত্রুকে আমাদের শক্তি ও সৈন্য মোতায়েন সম্পর্কে ধাঁধায় ফেলে দিই। আমার জন্য সবচেয়ে ভালো হতো যদি আমি বিধ্বস্ত মুক্তিবাহিনীকে তাড়া করতে করতে ভারতে ঢুকে যেতে পারতাম। এবং তাদের পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ না দিতাম। কিন্তু আমি অসহায় ছিলাম।
এমন একটি রাজনৈতিক মিশনের কাছে যেখানে আমার দায়িত্ব ছিল শুধু বাংলাদেশ সরকার গঠনে মুক্তিবাহিনীকে বাধা দেওয়া। ভারতে ঢুকে মুক্তিবাহিনীর ওপর হামলা না করার সিদ্ধান্ত ছিল একটি মারাত্মক কৌশলগত ভুল। এ ভুলের জন্য পরবর্তীতে আমাদেরকে চড়া মাশুল দিতে হয়েছে।
যুদ্ধ এগিয়ে চললে নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। এ জন্য যে সরকার যুদ্ধ পরিচালনা করে তাকে এ পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। হাই কমান্ডের কাজ হচ্ছে লক্ষ্যের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদান করা এবং এ লক্ষ্য অর্জনে কমান্ডারের কাজে কোনো ক্রমেই হস্তক্ষেপ না করা। কিন্তু হাই কমান্ড অবিচার করেছে আমার প্রতি।

তারা আমাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর করুণার ওপর ছেড়ে দেয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করার সুযোগ দিতে আমাকে জবাব দেওয়ার জন্য বসে থাকতে হয়। আমি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর হামলার জন্য প্রহর গুণতে থাকি। সতর্ক থাকা এবং সম্ভাব্য পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকা ছাড়া আমার করণীয় কিছু ছিল না। যুদ্ধকালে এর চেয়ে বিরক্তিকর ও পীড়াদায়ক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না।
