আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ যোগাযোগের ব্যবস্থা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
যোগাযোগের ব্যবস্থা

যোগাযোগের ব্যবস্থা
সামরিক অভিযানে যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। রেল যোগাযোগ সীমিত। পাকা রাস্তা কম ও উঁচু। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্বের অদ্বিতীয়; নদীপথ, রেলপথ ও সড়ক পথ। বিশ্বের আর কোথাও এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে পাকা রাস্তাগুলো কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু। এসব রাস্তার নিচে কৃষি জমি। জমিতে কোথাও শাক-সবজি, কোথাও ধান-পাট, কোথাও আবার জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও জমিতে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত পানি। এ জন্য পানি নিষ্কাশন করে কাদা মাটিতে পরিখা খনন করতে হতো। কোনো রকমে পরিখা খনন করা হলে দেখা যেত বৃষ্টির পানিতে এগুলো তলিয়ে।
গেছে। ভৈরব সেতু ঢাকা বিভাগকে চট্টগ্রাম বিভাগের সাথে এবং পাকশি সেতু খুলনা বিভাগকে রাজশাহী বিভাগের সাথে যুক্ত করেছে। কিন্তু রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সাথে ঢাকা বিভাগের কোনো সংযোগ সেতু নেই । সুতরাং রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের মধ্যে সব ধরনের চলাচলের মাধ্যম হচ্ছে নৌযান অথবা আকাশপথ। ফেরি দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়।
একটি ছোট্ট উদাহরণ থেকে বোঝা যাবে প্রদেশে চলাচল কতো কঠিন। ঢাকা থেকে যশোর যেতে হলে প্রথমে যেতে হয় নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ট্রেনে অথবা সড়ক পথে। পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে বুলনা অথবা গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত স্টিমারে এবং সেখান থেকে যশোর পর্যন্ত ব্রড গেজ রেলপথে।

ঢাকা থেকে যশোরের দূরত্ব ৭৫ মাইল। এটুকু পথ যেতে সময় লাগে দুই দিন। তিনবার যানবাহন। পরিবর্তন করতে হয়। একইভাবে সিলেট থেকে যশোর যেতেও তিন থেকে চারবার যানবাহন পাল্টাতে হয়। কখনো সড়কপথে, কখনো দু ধরনের রেলপামে আবার স্টিমারে। আর যাত্রাপথ খুব কষ্টকর।
