দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান – রাখ বাবা বড়ো শাহ এ আক্রমণ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ রাখ বাবা বড়ো শাহ এ আক্রমণ। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

রাখ বাবা বড়ো শাহ এ আক্রমণ

 

রাখ বাবা বড়ো শাহ এ আক্রমণ

 

রাখ বাবা বড়ো শাহ-এ আক্রমণ

যথা সময়ে ১/১ পাঞ্জাবের বাকি সৈনিকরা এসে পৌঁছালো। এই ব্যাটালিয়নকে বেদিয়ানা ও মন্দিরে মোতায়েন করা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল নসরুল্লাহ,সিও- কে বলা হয় এলাকায় টহল দিতে। রাখ-এ আক্রমণের এইচ আওয়ার পরদিন সকাল ৯টার আগে নয়।

এ সময়টাকে নির্ধারণ করা হয় শত্রু ট্যাংকগুলোকে তাদের যুদ্ধক্ষেত্র অবস্থানে এগিয়ে আসতে দেবার জন্য। কামানের লক্ষ্য নির্ধারণ ও একটি কার্যকর আর্টিলারি ফায়ার সাপোর্ট পরিকল্পনা তৈরি করার জন্য আর্টিলারির লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতা মুহাম্মদ (পরে ব্রিগেডিয়ার) নসরুল্লাহর সাথে অবস্থান করেন ।

পরদিন ভোরে, আমি সাড়ে ৬টার দিকে এলাকায় পৌছাই। লেফটেনান্ট কর্নেল নসরুল্লাহ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতা মুহাম্মদকে সাথে নিয়ে আছি বেদিয়ানার অবজারভেশন পোস্টে যাই। আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, বামপাশ থেকে দুটি কোম্পানি আক্রমণ চালাবে।

নসরুল্লাহকে আমি নির্দেশ দিলাম দক্ষিণ পাশ থেকে নুল্লাহর মধ্য দিয়ে তার তৃতীয় কোম্পানি নিয়ে অগ্রসর হবার। নুল্লাহতে অনেক ঝোপঝাড় ও বাঁক ছিল। এটা ছিল নিজেদের আড়াল করা ও শত্রুর মনোযোগ বিভক্ত করার মতো জায়গা। মনে হবে দুই দিক দিয়েই তারা আক্রান্ত হচ্ছে। সকাল ৯টায় এইচ আওয়ার নির্ধারণ করা হয়।

১/১ পাঞ্জাবের দুটি কোম্পানি তাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর লালখানের নেতৃত্বে সূর্যোদয়ের আগে এগিয়ে যায় তাদের ফরমিং আপ প্রেস (এফইউপি)-এর দিকে, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান টের পাওয়া যায় নি।

ব্রিগেডের তিনটি ব্যাটালিয়নের মর্টার প্লাটুন কর্নেল আতার নেতৃত্বে মধ্যভাগে অবস্থান নেয়। তার সাথে ছিল একটি সংযুক্ত ফিল্ড রেজিমেন্ট। দক্ষিণ পাশে দুটি ব্যাটালিয়নের ১৬টি ট্যাংক বিধ্বংসী কামানের সমন্বয়ে একটি অ্যান্টি- ট্যাংক স্ক্রিন তৈরি করা হয়।

 

অ্যান্টি ট্যাংক স্ক্রিন স্থাপন করা হয় মেজর মেহতাবের নেতৃত্বে, যিনি আর্টিলারির আরেকজন সুদক্ষ অফিসার ছিলেন। আমাদের দক্ষিণ পাশ থেকে শত্রু ট্যাংকগুলো এগিয়ে এলে সেগুলো ধরাশায়ী হয় মেজর মেহতাবের অস্ত্রের কাছে। মর্টার ও আর্টিলারির গোলাবর্ষণ ছিল চমৎকার এবং এতে রাখ-এর ঘাসে আগুন ধরে যায়। ১/১ পাঞ্জাব আক্রমণে অংশগ্রহণ করার আগে টার্গেট যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়

১/১ পাঞ্জাবের দুটি কোম্পানি এফইউপি থেকে রণাঙ্গনে প্রবেশ করার সময় কর্নেল আতা ও আমি দেখতে পেলাম তিনটি শত্রু ট্যাংক প্রায় ৮০০ গজ দূরে বাম পাশে এগিয়ে আসছে। বামপাশ থেকে গোলাবর্ষণ করলে আক্রমণকারী সেনাদলের ওপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারতো।

বামপাশে অবস্থানরত ১১ পাঞ্জাবের চারটি ট্যাংক বিধ্বংসী কামান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে নি। কারণ, শত্রু ট্যাংকগুলো একটা ডোবায় লুকিয়ে পড়ে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতা ওয়ারলেসে ১৫তম ডিভিশনের কমান্ডার আর্টিলারির সাথে যোগাযোগ করেন এবং আর্টিলারি ফায়ারের জন্য তাদের মাঝারি রেজিমেন্টসহ সাহায্য চান।

৫ মিনিটের মধ্যে ১৫তম ডিভিশন আর্টিলারি শ কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গোলাবর্ষণ শুরু করে। এ গোলাবর্ষণে শত্রুর একটি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং অন্য দুটি ট্যাংক পালিয়ে যায়। আমাদের পদাতিক বাহিনীকে রণাঙ্গনে যেতে বলা হয় আবার আক্রমণ করার জন্য। তাদের আক্রমণ সফল হয়।

শত্রুর গোলাবর্ষণ সত্ত্বেও ক্ষতির পরিমাণ ছিল একেবারে সামান্য। শত্রুরা অবস্থান ছেড়ে চলে যায়, ওটা দখল করে নেয় ১/১ পাঞ্জাবের দুটি কোম্পানি। নুল্লাহ থেকে অগ্রসরমান কোম্পানি তাদের সম্মুখ ভাগের শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার পর এ দুটি কোম্পানির সাথে যোগ দেয় এবং রাখ-এর ভেতরে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে।

 

দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান এ এ কে নিয়াজি 20 1 দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান - রাখ বাবা বড়ো শাহ এ আক্রমণ

 

ব্যাটালিয়ন কমান্ডার তার চতুর্থ কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার্সকে সামনের দিকে নিয়ে আসেন। সদ্য দখলকৃত এলাকা রক্ষায় অ্যান্টি ট্যাংক স্ক্রিনকেও এগিয়ে আনা হয়। নসরুল্লাহকে বলা হয় শত্রুদের পরিত্যক্ত অবস্থান ধ্বংস করার জন্য। সন্ধ্যার মধ্যে রাখ বাবা বড়ো শাহ পুরোটা দখল সম্পন্ন হয় এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় ১/১ পাঞ্জাব।

Leave a Comment