সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টের উপসংহার

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টের উপসংহার। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টের উপসংহার

 

সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টের উপসংহার

 

প্রিয় কাউন্সিলর ভাই ও বোনেরা,

আপনাদের ধৈর্যের উপর অনেক কষাঘাত করেছি। আর নয়। এবার আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই। বক্তব্য শেষ করার আগে দেশের দূর-দূরান্ত ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে যে কষ্ট স্বীকার করে, আর্থিক অনটনকে উপেক্ষা করে, দৈহিক ক্লান্তিকে প্রাণের সবলতায় পরাস্ত করে এই কাউন্সিল অধিবেশন সফল করার জন্য আপনারা এগিয়ে এসেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আপনাদের খাটো করতে চাই না বরং আপনাদের আবার একটি সংগ্রামী সালাম ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই।

আর তার সাথে সাথে আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা এই চারটি মৌলিক আদর্শের ভিত্তিতে চিরদিনের অবহেলিত দুঃখী বাঙালীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক সোনার বাংলা।

এটি কায়েমের জন্য আমাদের মহান শিক্ষক ও নেতা বাঙালী জাতি ও জাতীয়তাবাদের জনক বিশ্বের নিপীড়িত, শান্তিপ্রিয় ও মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন যে স্বপ্ন দেখে গেছেন, যে আদর্শ আমাদের সামনে রেখে গেছেন, যে আদর্শের বাস্তবায়নের জন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন।

 

যে আদর্শের জন্য তিনি সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, পুঁজিবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতার চক্রান্তে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, নিজের বুকের তাজা রক্তে এদেশের মাটিতে যে আদর্শের বীজ উপ্ত করেছিলেন, আসুন আজকের দিনে এই কাউন্সিল অধিবেশনে দাঁড়িয়ে আমরাও প্রয়োজনবোধে নিজের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে সেই আদর্শকে একটি মহীরুহে পরিণত, করার শপথ গ্রহণ করি।

আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য, অস্তিত্ব আর অতীত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে আপোষহীন ও দুর্বার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ি। লাখো কোটি কণ্ঠে আবার ঘোষণা করি : “বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।”

সংগ্রামী বন্ধুগণ,

তাই আমি আবারো আপনাদের বলি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কিনা সে সম্পর্কে আপনাদের সুস্পষ্ট মতামত জানাতে হবে এই কাউন্সিলে। গত সাংবাদিক সম্মেলনে আমরা সংগ্রামের জন্য যে ১১- দফা কর্মসূচী পেশ করেছি, তার ভিত্তিতে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ও আপনাদের সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করতে হবে।

কেননা আওয়ামী নেতার নয়, কর্মীদেরই প্রতিষ্ঠান। কর্মীদের সুচিন্তিত অভিমত ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্তই হচ্ছে এই সংগঠনের প্রধান পরিচালিকা শক্তি। আমরা জানি, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এবং সংগ্রামের জন্যই যে আওয়ামী লীগের জন্ম, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে আওয়ামী লীগের পুষ্টি ও সমৃদ্ধি, সেই আওয়ামী লীগের সচেতন নেতা ও কর্মী আপনারা।

 

সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টের উপসংহার

 

আসুন, দেশের আপামর ৮ কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগের লাখো লাখো কর্মীরা সংগ্রামের তরেই ছড়িয়ে পড়ি এই বাংলার ঘরে ঘরে।

জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ!

Leave a Comment