শাসনতান্ত্রিক আদর্শ [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শাসনতান্ত্রিক আদর্শ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

শাসনতান্ত্রিক আদর্শ

 

শাসনতান্ত্রিক আদর্শ

 

আওয়ামী লীগ জাতীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। ইহা অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত বিশ্বাস করে যে জনগণই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অধিকারী এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি কর্তৃক রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পরিচালিত হইবে। রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনায় নিয়োজিত সকল ব্যক্তিই তাহাদের নিজ কার্য্যকলাপের জন্য জনসাধারণের নিকট সর্বতোভাবে দায়ী হইবে।

উল্লিখিত মূল নীতিসমূহের ভিত্তিতে শাসনতন্ত্রে আইন প্রণয়ন, শাসনকাৰ্য্য, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও দেশরক্ষা ব্যাপারে পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলকে আওয়ামী লীগের “ছয়-দফা” ভিত্তিক পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন প্রদানের কার্য্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ বর্তমানে সর্বাধিক প্রয়োজন। শুধু এই যুক্তিযুক্ত ও বাস্তব ব্যবস্থার মাধ্যমেই পাকিস্তানের সংহতি, স্থায়ীত্ব, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা বিধান সম্ভব বলিয়া আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে ।

রাষ্ট্রে সকল প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদের সার্বজনীন ও প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবে। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী ও মত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ প্রত্যেক নাগরিক ১৮ বৎসর বয়সে ভোটাধিকার লাভ করিবে এবং ২১ বৎসর বয়স পূর্ণ হইলে যে কোন ভোটার নির্বাচনপ্রার্থী হইবার অধিকারী হইবে। নির্বাচন স্বাধীনভাবে এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হইবে।

মৌলিক অধিকার :

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, মত ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদে স্বীকৃত প্রতিটি অধিকার ভোগের অধিকারী হইবে। নাগরিকদের ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু জীবনযাপনের অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে। সকল নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং ন্যায়সঙ্গত ও সহজ উপায়ে জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।আইনের চক্ষে সকল নাগরিক সমান বলিয়া বিবেচিত হইবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকই আইনসঙ্গত সকল অধিকার ও মর্য্যাদা সমানভাবে ভোগ করিবে। অল্প ব্যয়ে দ্রুত ও সহজ উপায়ে ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করিতে হইবে।

 

ব্যক্তি স্বাধীনতা :

পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিককে তাহার জীবনের সর্বক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হইবে, যাহাতে সে স্বীয় প্রতিভা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ লাভ করিতে পারে এবং জাতীয় জীবনের সকল পর্যায়ে স্বীয় সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করিতে পারে ও সমাজের বৃহত্তম কল্যাণ সাধন করিতে পারে। মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, বই-পুস্তক, সংবাদপত্র ও প্রচারপত্র মুদ্রণ ও প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, সমবেত হইবার ও সংগঠন করবার পূর্ণ স্বাধীনতা এবং দেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা থাকিতে হইবে। উপযুক্ত ও আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত কাহাকেও গ্রেফতার করা ও বিনা বিচারে কাহাকেও আটক রাখা চলিবে না।

একমাত্র যুদ্ধকালীন সময় ব্যতীত অন্য কোন সময়ে এবং সকল অধিকার খর্ব করা হইবে না। জরুরী অবস্থার অজুহাতে অন্যায়ভাবে কোন নাগরিকের অধিকার খর্ব করা চলিবে না।সর্বোপরি আওয়ামী লীগ হিন্দু-মুসলিম, বাঙ্গালী-অবাঙ্গালী প্রভৃতি সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও আঞ্চলিক বিভেদ ও বিদ্বেষের সম্পূর্ণ বিরোধী। আওয়ামী লীগ ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী ও মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকারে বিশ্বাসী, ইহা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাথমিক শর্ত।

 

শাসনতান্ত্রিক আদর্শ

 

বিচার বিভাগ :

বিচার বিভাগ শাসন বিভাগ হইতে সম্পূর্ণরূপে পৃথক থাকিবে। শাসনতন্ত্রে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার বিধান থাকিবে। বিচার বিভাগের যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার উপযুক্ত ও কার্য্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

Leave a Comment