শিক্ষা ব্যবস্থা

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শিক্ষা ব্যবস্থা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

শিক্ষা ব্যবস্থা

 

শিক্ষা ব্যবস্থা

 

এই দেশের শিক্ষার মূল লক্ষ্য এমন হওয়া উচিত যাহাতে বাংলাদেশের সকল নাগরিক তাহার নিজস্ব বৃদ্ধিমত্তার ও গুণাবলীর বিকাশ সাধনে সক্ষম হয় এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সে তাহার শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগাইতে পারে ও সেই সঙ্গে সমাজের চাহিদা মিটাইতে পারে।

উপরোক্ত ব্যবস্থাকে পুরোদস্তুর কায়েম করিতে হইলে দেশের জাতীয় উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করিতে হইবে। সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য শিক্ষা-ব্যবস্থার সমান সুযোগ দিতে হইবে। কতকগুলি ভাগ্যবান ও সুবিধাবাদী মানুষের জন্য উন্নত ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন মিশনারী স্কুল, পাবলিক স্কুল, ক্যাডেট কলেজ ইত্যাদি শ্রেণীভেদ রাখা চলিবে না।

অতএব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নূতন ছাঁচে ঢালিয়া গড়াইতে হইবে। এই ধরনের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম পর্যায়ভুক্ত করিতে হইবে যাহাতে আমাদের শিক্ষা- ব্যবস্থার একটি সম্পূর্ণ সমতা পরিলক্ষিত হয়।

(ক) নিরক্ষরতা দূরীকরণ

নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য যত ব্যবস্থা আছে তৎসমুদয় গ্রহণ করিতে হইবে। ইহাতে সম্পূর্ণ নতুন কৌশল প্রযোজ্য হইবে এবং চিরাচরিত প্রথার বিলোপ সাধন করা হইবে। এই কার্যক্রম কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সহায়তায় জাতীয় কল্যাণ কর্মসূচীরূপে গ্রহণ করা হইবে।

খ) প্রাইমারী এবং মাধ্যমিক শিক্ষা-ব্যবস্থা

অবৈতনিক উচ্চ প্রাইমারী শিক্ষা সকলের জন্য প্রযোজ্য হইবে। আশা করা যায় আগামী পাঁচ বৎসরের মধ্যেই উহা সমাপ্ত করা সম্ভব হইবে। মাধ্যমিক শিক্ষাও সকল শ্রেণীর মানুষের পক্ষে সহজলভ্য করিয়া তুলিতে হইবে।

(গ) কারিগরী এবং পেশাগত শিক্ষা-ব্যবস্থা

সম্পূর্ণ শিক্ষা-ব্যবস্থা সমাজের যথার্থ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কারিগরী এবং পেশাগত শিক্ষা বিস্তারের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়িতে হইবে। সারা দেশব্যাপী বিস্তৃতভাবে কৃষি, শিক্ষা ও পলিটেকনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে।

(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের ব্যবস্থা থাকিবে মেধানুসারে। দেশব্যাপী প্রতিস্তরের মানুষের জন্য উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকিবে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চ শিক্ষার পথে দারিদ্র্য কোন বাধার সৃষ্টি করিতে পারিবে না।

বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার চাহিদা মিটাইবার জন্য নূতন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিকেল কলেজ এবং কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সর্বত্র দ্রুত প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ শিক্ষা সম্পর্কীয় স্বাধীনতা স্বীকৃত। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলার মহোদয়গণ প্রখ্যাত এবং সম্মানিত শিক্ষাবিদগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হইবে ।

 

শিক্ষা ব্যবস্থা

 

(ঙ) শিক্ষাবিদ

আমাদের দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ যাহাতে শিক্ষাদানের পেশার প্রতি আকৃষ্ট হইয়া পড়েন তাহার জন্য বিহীত ব্যবস্থা গৃহীত হইবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু তাহাদের বেতনের হার বর্ধিতকরণ আর্থিক স্বচ্ছলতাই আনয়ন করিবে না। বরং উহা তাহাদের কর্ম-ক্ষমতা বৃদ্ধি করিবে এবং সেই সঙ্গে যে সম্মান এবং মর্যাদা তাহাদের প্রাপ্য তাহাও সুনিশ্চিত হইবে।

Leave a Comment