আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শিল্প ও বাণিজ্য। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
শিল্প ও বাণিজ্য

ক) আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত শিল্পনীতির ভিত্তিতে একটি শিল্প-সভ্যতার ভিত্তি রচনার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত-পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। শিল্প স্থাপন এবং দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইন-কানুন ও পদ্ধতি সরলীকরণ করা হবে।
খ) ২০০৪ সালের পর দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্পে কোটা সুবিধা প্রত্যাহৃত হলে বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা এবং বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে উপযুক্ত কর্মকৌশল প্রণয়ন ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
গ) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আইটি শিল্প ও বাণিজ্য বিকাশে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
স্বল্পতম সময়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে ফাইবার অপটিক্স লাইন-এর (মেরিন ক্যাবল লাইন) সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলা হবে। সফটওয়্যার রফতানিকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে।
ঘ) কৃষিনির্ভর শিল্প-বিকাশকে উৎসাহিত করা হবে। পঞ্চগড় ও দেশের অন্যান্য সম্ভাবনাময় পার্বত্য এলাকায় আরও চা-বাগান গড়ে তোলা, চায়ের রফতানি ও তার বাজার সম্প্রসারণে গৃহীত ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানিকে আরও উৎসাহিত করা হবে।
ঙ) পাটের বিকল্প ব্যবহার, পাটশিল্পকে লাভজনক করা, চামড়া শিল্পের আধুনিকায়ন এবং সিমেন্ট শিল্পসহ নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও রফতানিকে উৎসাহিত করা হবে।
চ) তাঁত শিল্পসহ অন্যান্য চারু, কারু, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মূলধন ও চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে একটি স্বতন্ত্র ‘তাঁত ব্যাংক’ স্থাপন করা হবে। কামার, কুমার, জেলেসহ বিভিন্ন কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধন ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করা হবে।
ছ) শিল্পে ব্যক্তি-উদ্যোগ ও বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত এবং সহায়তা করার নীতি অব্যাহত থাকবে। সমগ্র দেশের সুষম বিকাশের লক্ষ্যে জেলা ও থানা পর্যায়ে শিল্প স্থাপনকে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রতিযোগিতামূলক মুক্তবাজার অর্থনীতির কাঠামোয় রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে লাভজনক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
জ) অবাধ বাণিজ্যনীতির পাশাপাশি দেশের আমদানি ও রফতানির অসমতা দূর ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে জোরদার করা হবে।
ঝ) জাতীয় অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত থাকবে। প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য উচ্চতম হার (৭ থেকে ৮ শতাংশ) অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতিমালা ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের যে কাজ শুরু হয়েছে তা সম্পন্ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
ঞ) ক্ষুদ্র ও স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীদের ব্যবসার প্রসারে সহযোগিতা করা হবে।

ট) বিদেশে কর্মরত ও প্রবাসী বাঙালিদের প্রেরিত অর্থের উৎপাদনশীল বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে।
ঠ) দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
