আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শ্রমনীতি বাস্তবায়ন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
শ্রমনীতি বাস্তবায়ন

দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়ন একটি অন্যতম শর্ত। উৎপাদন বৃদ্ধিতে শ্রমিক শ্রেণীর একনিষ্ঠ অবদান ব্যতীত শিল্পোন্নয়নের প্রচেষ্টা সফল হতে পারে না। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের একটি সুস্থ নীতি নির্ধারণ তাই অপরিহার্য।
শ্রমের ন্যায্যমূল্য প্রদান করা আওয়ামী লীগের নীতি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি করে তাদের কর্মের মূল্যায়ন ও জীবনের মানোন্নয়ন করার জন্য সুষ্ঠু নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে শ্রমিক শ্রেণীর একনিষ্ঠ অবদান ব্যতীত দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে সৌহার্দ্যপূর্ণ শ্রমিক-মালিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এ উদ্দেশ্যে ত্রি- পক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে কার্যকর শ্রমনীতি প্রণয়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিজনিত সুফল শ্রমিকদের জন্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতার সঙ্গে মজুরির সম্পৃক্ততা সৃষ্টির প্রয়াস নেওয়া হবে। শিল্প বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং শিল্প-শান্তি প্রতিষ্ঠাকল্পে যৌথ আলাপ আলোচনায় আপোষ মীমাংসা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম কনভেনশনের বিধান মোতাবেক সকল শিল্প বিরোধ মীমাংসার পদ্ধতিসমূহের উন্নতি সাধন করা হবে।
শিল্প প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিস্থিতি ও প্রচলিত শ্রম আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, চিত্তবিনোদন, কাজের পরিবেশ ইত্যাদি শ্রম কল্যাণমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। শিশুশ্রম রোধ কল্পে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে সকল পর্যায়েই জনগণের মধ্যে এই ধরনের আন্দোলন সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা নিতে হবে। জনগণের সমাবেশ, মিছিল তথা আন্দোলন কেবল বিরোধিতার জন্যই করতে হয় এই মনোভাব পরিত্যাগ করতে হবে এবং নতুন প্রেক্ষাপটে জনগণের রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনকে দেশ গঠন ও পরিচালনার প্রয়োজনে কাজে লাগাতে হবে।
