রেডিও টেলিভিশন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা 

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –রেডিও টেলিভিশন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

রেডিও টেলিভিশন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা 

 

রেডিও টেলিভিশন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা 

 

১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সময় এদেশের পত্রিকাগুলো একটি সাহসী ভূমিকা পালন করেছিল। বিশেষ করে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র দ্রোহিতার অভিযোগে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়, তার শুনানি-পর্বের কোর্ট- রিপোর্টিং ধারাবাহিকভাবে দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হতো।

একদিকে ছাত্র-গণআন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবি, আবার রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে পূর্বপাকিস্তান জুড়ে প্রতিদিন মিছিল সভা-সমাবেশ শুরু হয়। জেনারেল আইয়ুব বাধ্য হয়ে সব দাবি মেনে নয়ে। ওই সময়ে পত্রিকাগুলো সংবাদ, কলাম ও সম্পাদকীয় লিখে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর শোষণ-নির্যাতন-বৈষম্যের কথাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরেছিল।

পরবর্তীতে সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের সময়ও দৈনিক পত্রিকাগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছিল। তারা শেখ মুজিবের সকল সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা, বিবৃতি ও ভাষণ ছবিসহ প্রথম পৃষ্ঠায় বড়-বড় টাইপে ছাপাত। বলা চলে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ও জনমানস গড়ে তুলতে পত্রিকাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, শেখ মুজিবের নেতৃত্বের পক্ষে পূর্ণ সমর্থন রেখেছে।

 

শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণের পর থেকে বাঙালির স্থাধীনসত্তা প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আর কোনো প্রশ্ন তখন কেউ তোলেনি। সমগ্র জাতি এক হয়ে গিয়েছিল। দৈনিক সংবাদপত্রগুলোয় শেখ মুজিবই ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা, তার নেতৃত্বই ছিল গ্রহণযোগ্য।

টেলিভিশন ও রেডিও গণতন্ত্র চর্চার প্রধান মাধ্যম। আওয়ামী লীগ রেডিও টেলিভিশনকে ক্ষমতাসীন দলের প্রচার মাধ্যমের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে তাকে নিরপেক্ষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করার জন্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর।তিন জোটের রূপরেখায় রেডিও টেলিভিশন এবং গণমাধ্যমসমূহকে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের ওয়াদা করেও খালেদা জিয়ার সরকার সে ওয়াদা ভঙ্গ করে গণমাধ্যমসমূহকে নিজের দলের প্রচারেই নিযুক্ত রেখেছে।

 

রেডিও টেলিভিশন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা 

 

আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে। মুক্ত-চিন্তা এবং মুক্ত-বিবেকের প্রসার ঘটানোর জন্য আওয়ামী লীগ রেডিও টেলিভিশনকে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে তাকে অযৌক্তিক ও অন্যায় দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত করবে- আজকের এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে। এই ঘোষণা প্রদান করছি। সাংবাদিকদের জন্য নতুন ওয়েজ বোর্ড গঠন করে তাদের সমস্যার সমাধান করা হবে।

Leave a Comment