সরকার পরিচালনা আমাদের সাফল্য

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সরকার পরিচালনা আমাদের সাফল্য। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

সরকার পরিচালনা আমাদের সাফল্য

 

সরকার পরিচালনা আমাদের সাফল্য

 

কি পরিস্থিতিতে আমরা সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি, তা আপনারা জানেন। বিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, সার ও বিদ্যুৎ সংকট, বাজেট ঘাটতি, খাদ্য ঘাটতির ন্যায় হাজারো সমস্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করি। একুশ বছরের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বৈরতন্ত্রের চক্রাবর্তে দেশের অবস্থা হয়ে দাঁড়ায় নিমজ্জমান জাহাজের মতো।

এই ডুবন্ত জাহাজকে টেনে তোলা এবং সামনের দিকে অগ্রসর করে নেয়ার সুকঠিন দায়িত্ব দেশবাসী আমাদের ওপর অর্পণ করে। আমরা এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই পারে দেশকে এই অধোগতি থেকে উদ্ধার করতে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেই আমরা দেশের পুনর্গঠনে জাতীয় ঐকমত্যের ধারণাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরি।

এই দেশপ্রেমিক চেতনাবোধ থেকে এককভাবে দলীয় সরকার গঠনের রায় সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ঐকমত্যের সরকার গঠ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। আমরা প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ সংসদে একাধিক বিরোধী দলকে ঐকমত্যের সরকারে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাই। জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জানা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিলেও বিএনপি আমাদের এই আন্তরিক আহ্বানে সাড়া না দিয়ে জাতীয় কতবা

থেকে সরে দাঁড়ায়। ঐকমত্যের সরকারে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে তারা। প্রথম দিন থেকে তারা জনগণের সরকারের বিরোধিতা করতে শুরু করে। প্রকাশ্য জনসভায় আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। আমরা শত উষ্কানীর মুখেও ধৈর্য্যের চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হই।

গণতন্ত্রকে আমরা কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন- এই সীমিত দৃষ্টিতে বিচার না করে ‘জনগণের শাসন তথা জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শাসন’ হিসেবেই গণ্য করি। গণতন্ত্রের এই বহুমাত্রিক ও সর্বাধুনিক ধারণায় আমরা বিশ্বাস করি। সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের এই আধুনিক ধারণার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য।

কিন্তু হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের ভেতর দিয়ে সেনা ছাউনীতে গড়ে উঠা বিএনপি তার সহজাত গণবিরোধী চরিত্রের জন্যই জনগণের রায় এখনও মেনে নিতে পারেনি। নির্বাচনের পরাজয়কে গ্রহণ করতে পারেনি। তাই আমাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। এখনো তারা বিরোধিতার নামে হত্যা, খুন, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভাই ও বোনেরা,

তাদের এরূপ তীব্র বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের মুখেই আমরা সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারের করণীয় নির্ধারণ করি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান, সামাজিক সুস্থিতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা ও সংহত করা এবং দেশে একটা বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সন্ত্রাস নির্মূল করাকে আমরা সরকারের এক নম্বর কাজ হিসাবে গ্রহণ করি।

আমরা মনে করি, সন্ত্রাস গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে, অর্থনীতি দুর্বল করে, মানুষের মানবিক মূল্যবোধ হরণ করে, সৃষ্টির ক্ষমতা নস্যাৎ করে। তাই, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হাতে নিয়েই আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম, সন্ত্রাসী যেই হোক, সে যদি আমার দলেরও হয়, তাকে গ্রেফতার করতে।

সন্ত্রাসীর কোনো দল নেই। শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বেআইনী অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তান ও দাগী অপরাধী- যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা রয়েছে দলমতের ঊর্ধ্বে সেই সব অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু দুঃখ হয়, লজ্জা হয়, একটি দল এই সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানকে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য সোচ্চার হয়ে।

ওঠে। সন্ত্রাসী, ডাকাত ও বেআইনী অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করতে গেলেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়, প্রতিবাদ ওঠে আমরা নাকি তাদের দলীয় কর্মীদের নির্যাতন করছি, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, তা না হলে নিরীহ পথচারীদের উপর হামলা করা হয়, গাড়ী ভাংচুর করা হয়। আমি বলেছি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কাউকেই রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হবে না।

সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের ফলে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জনজীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণভাবে শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটেছে। সন্ত্রাসের সামাজিক-অর্থনৈতিক এমনকি রাজনৈতিক শেকড় অভি গভীরে।

লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করা, যুব ও ছাত্র সমাজকে রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করার প্র্যাকটিস বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক নেতাসহ সমাজের শিরোমণিদের ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত দ্বারা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক চেতনার মহৎ মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করা আমাদের লক্ষ্য।

গত ১০ মাসে এ ব্যাপারে আমাদের সাফল্যকে বানচাল করার জন্য সম্প্রতি মহল বিশেষ সুপরিকল্পিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ উস্কে তুলছে। দেশে নৈরাজ্য ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সরকারের সাফল্য ও অগ্রগতির ধারাকে বানচাল করার লক্ষ্যে আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও বিভিন্ন রকম অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে।

কিন্তু আমি দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে ঘোষণা করছি, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, অন্তর্ঘাত ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যুব সমাজকে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, আমি সকলের সহযোগিতা চাই।

রাষ্ট্রপতির পদটি একটি ইনষ্টিটিউশন হিসেবে ঐক্যের প্রতীকরূপে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়নি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে জাতির বিবেক হিসেবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্ব- বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদকে মনোনয়ন দেই এবং নির্বাচিত করি। কিন্তু বিএনপি এর বিরোধিতা করে এমনকি মামলা পর্যস্ত করে। সমগ্র জাতি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়।

সংগ্রামী কাউন্সিলার ডেলিগেট ভাই ও বোনেরা,

সরকার দেশের জনগণের দীর্ঘ দিনের একটি ভয়াবহ সমস্যা দ্রুত সমাধানে আশাতীতভাবে সফল হয়েছে।আপনারা জানেন, গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনের সমস্যার সাথে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য জড়িত ছিল। অতীতের সরকারগুলো এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক না হয়ে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে খেলায় মেতে ছিল।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে সমস্যাটিকে দীর্ঘ কাল জিইয়ে রাখা হয়েছে এবং এর সুযোগ নিয়ে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পথ প্রশস্ত করে রাখা হয়েছে। এর জন্য মাশুল দিতে হয়েছে আমাদের দেশের জনগণকে। স্বার্থ হাসিল হয়েছে প্রতিক্রিয়াশীল শাসক গোষ্ঠীর।

আমরা রাজনৈতিক সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে সরকার গঠনের দিন থেকেই এই প্রশ্নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং দ্রুত তার ফল পেয়েছি। সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আমরা ভারতের সঙ্গে ত্রিশ বৎসর মেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়েছি।

দেশী-বিদেশী সকল মহলের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আমরা ভারতের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে প্রমাণ করেছি যে, দেশপ্রেম, আস্তরিকতা, সদিচ্ছা ও জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট থাকলে যে-কোন জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই কথা প্রমাণিত হয়েছে যে, পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও শ্রদ্ধা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পথে যে-কোনো কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে উভয় দেশ শুধু পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করে বৈষয়িকভাবেই লাভবান হবে না- এর ফলে এ অঞ্চলে শাস্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে তার ফলে আঞ্চলিক, বিশ্ব শাস্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আমরা মনে করি, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-বিভেদ অবিশ্বাস-অনাস্থা ও অসহযোগিতা, সংঘাত ও সংঘর্ষের পথে ঠেলে দেয়, যার ফলে যেই জয়ী হোক ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনগণ। অপরদিকে পারস্পরিক সহযোগিতায় কোন পক্ষই পরাজিত হয় না, লাভবান হয় জনগণ। আমরা দৃঢ়ভাবে পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার এই নীতির প্রতি অবিচল থাকবো।

আমরা ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে বৈরীতে নয়’ জাতির জনক কর্তৃক অনুসৃত এই নীতিতে বিশ্বাস করি এবং তা দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করছি। দেশবাসীও এই নীতির সুফল পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও পাবেন। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ জিইয়ে রাখা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যারও সমাধানের পথে অগ্রগতি হয়েছে।

ইতোমধ্যে ছয় হাজারের বেশী শরণার্থী প্রত্যাবর্তন করেছে। আপনারা জানেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে পর্বতপ্রমাণ সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছিল মাত্র ৮/৯ মাসে তার সমাধান করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। সরকার গঠনের পর মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ১৯৯৬-৯৭ সালের বাজেট পাস করি।

খুবই স্বল্প সময়ে প্রণীত বাজেটে আমরা উন্নয়ন কর্মসূচীর সর্বাত্মক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেই। দাতা দেশ ও সংস্থা সমূহের আপত্তি সত্ত্বেও আমরা কৃষিখাতে ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি দিয়েছি। কৃষি খাতে বিদ্যমান স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা এবং কৃষিকে লাভজনক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৯৯৫-২০১০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর মেয়াদী কৃষি সম্প্রসারণ নীতিমালা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সার বিতরণে বিএনপি’র দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনার দরুন এ বছরও সার সংকট সৃষ্টির

আলামত দেখা গিয়েছিল। কিন্তু আমরা তা হতে দেইনি। আন্তর্জাতিক বাজার দরে দ্রুত প্রয়োজনীয় সার আমদানী ও বিতরণের ব্যবস্থা করি। ফলে কেবল সার-এর জন্যই এই পর্যন্ত সরকারকে ২৭৫ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। শোষিত বঞ্চিত কৃষক ভাইয়েরা দেখতে পেয়েছেন আওয়ামী লীগ তার ওয়াদা রক্ষা করেছে। সার চাইতে গিয়ে, উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলতে গিয়ে আর কোনো কৃষককে বুকের রক্ত ঢেলে দিতে হয়নি। কোনো মায়ের বুক খালি হয়নি।

শিক্ষা আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। ১০ বছরের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্বিতীয়ত শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সেশনজট, নৈরাজ্য ও দুর্নীতির অবসান ঘটানো জরুরী কর্তব্য। প্রকৃতপক্ষে গত একুশ বছর দেশে কোন যুগোপযোগী শিক্ষানীতি ছিল না। বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক প্রণীত কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টটিকে হিমাগারে রাখা হয়েছিল।

নিরক্ষরতা দূর এবং আমাদের দেশের বিপুল জনশক্তিকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য সামনে রেখে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টকে যুগোপযোগী করার জন্য ইতোমধ্যেই একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই পাঠ্য পুস্তকে ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সময়মত পুস্তক বিতরণ করা হয়েছে।

বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির মুক্তধারাকে আমরা বন্ধনহীন করে দিয়েছি। সাম্প্রদায়িকতা, কূপমুণ্ডুকতা, কুসংস্কার এবং অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে রক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত রেখে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার নীতি গ্রহণ করেছি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখন স্বাধীনতার সুবাতাস বইছে।

শিল্প-বাণিজ্যে বন্ধাত্ব দূর করার জন্য ইতোমধ্যেই আমরা বেশ কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ও নীতিমালা গ্রহণ করেছি। রপ্তানীমুখী শিল্প, বিশেষ করে পোষাক শিল্পের সমস্যা সমাধানের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাকে আরও গতিশীল করা এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে বিশ্ব অর্থনীতির ধারায় খাপ খাইয়ে চলার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

কোনো পূর্ব নির্ধারিত ছক ধরে এখন আর অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়। আমরা প্রবৃদ্ধির হার তথা সম্পদ বৃদ্ধির ওপর যেমন সর্বোচ্চ গুরুত্ দিচ্ছি, তেমনি সামাজিক ন্যায় বিচারে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে কর্তব্যকর্মকে মুহূর্তের জন্য বিস্মৃত হইনি। আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পশ্চাদপদতা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে দেশকে উদ্ধার করা।

এইজন্য প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে লাভজনক- এই আস্থা ও রাজনৈতিক পূর্বশর্ত সৃষ্টি করতে না পারলে দেশী বা বিদেশী কোনো উদ্যোক্তাই বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। একদিকে দেশীয় উদ্যোক্তারা যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে অনুপ্রাণিত হয়, সেজন্য আমরা তাদের সাথে এবং অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেছি; বিনিয়োগের পথকে বাধামুক্ত করার চেষ্টা করেছি।

অন্যদিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই একাধিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। বিপুল অংকের বিদেশী বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে আমরা যে, ‘অর্থনৈতিক কূটনীতির কৌশল গ্রহণ করেছি প্রাথমিকভাবে তার সাফল্য, বিনিয়োগ, বৈদেশিক ঋণ সাহায্য এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় প্রতিফলিত হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধন, ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ম্যাক্রো অর্থনৈতিক নীতিমালা সুবিন্যস্ত করার ব্যাপারে কিছুটা অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবে বিপুল অংকের খেলাপী ঋণ আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিপ্রবাহ সৃষ্টির পথে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের হাজার কোটি টাকার লোকসানের দায় দেশবাসীকে বইতে হচ্ছে।

আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের মালিকানায় হস্তান্তরের নীতি গ্রহণ করেছি। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে লাভের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের কোন বিকল্প নেই। আশা করি আমাদের এইসব নীতির সুফল ক্ৰমশঃই জনগণ পাবেন।

বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান তীব্র সমস্যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। দেশে কোন বিদ্যুৎ নীতি ছিল না। নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। বিএনপি-এর পাঁচ বছরের শাসনামলে এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়েনি। বরং কমেছে। তারা ৬/৭ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। ফলে এ বছর বিদ্যুৎ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সচেতন রয়েছে। আমরা জনগণের কাছে প্রকৃত অবস্থা খুলে বলেছি। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। আধুনিক সভ্যতা ও শিল্পায়নের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানী হচ্ছে মানুষের হৃদস্পন্দনের মতো।

হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে যেমন মানুষের মৃত্যু ঘটে তেমনি বিদ্যুৎ বা জ্বালানী ছাড়া আধুনিক সভ্যতা অচল জীবন অচল। এই ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। আমরা এই সময়কালে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, গ্যাস উত্তোলন এবং কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বিদেশী ফার্মের সাথে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।

বিপুল বিনিয়োগ সাধ্য এই কাজটি অগ্রসর হলে প্রাকৃতিক উৎস হতে আমরা বিপুল জ্বালানী সংগ্রহ করতে সক্ষম হবো। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও আমরা জরুরী ভিত্তিতে যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং আরও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি- তার ফলে এই সমস্যার কিঞ্চিৎ প্রশমনের জন্য আমরা সকল প্রকার জেনারেটর আমদানীর ক্ষেত্রে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করেছি।

শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সভ্যতার চাহিদাপূরণে আমরা ইনশাল্লাহ সক্ষম হবো। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সকল থানা ও ইউনিয়ন এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরা পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সক্ষম হব।

আমাদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার করুণ হাল সম্পর্কে নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ৯ (নয়) মাসে এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি ‘স্বাস্থ্যনীতি’ প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

দ্রুততম সময়ে প্রতি থানায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়নে স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ডাক্তারদের চাকুরীর নিশ্চয়তা ও নার্সদের চাকুরী নিয়মিতকরণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালে রুগীর খাদ্য ২১ টাকা থেকে ৩০ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নত ও বিস্তৃত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ সকল ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের কাজ যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রূপসা, পদ্মাসহ অন্যান্য সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। বিদেশী সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। প্রতি ইউনিয়ন থেকে থানা ও থানা থেকে জেলায় যোগাযোগ: ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ এবং রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও নারী পাচার বন্ধের ব্যাপারে জনগণের সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নারীর অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নীতিমালা ঘোষণা করেছি।

রাষ্ট্রীয় গণপ্রচার মাধ্যম- রেডিও, টিভি ও সরকারী মালিকানাধীন সংবাদপত্রগুলোর ব্যাপারে আমাদের নীতি সর্বজন বিদিত। রেডিও, টিভি-এর স্বায়ত্তশাসনের রূপ, পরিধি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রস্তাবনা তৈরীর লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠিত হয়েছে। এই কমিশনের কাজও অগ্রসর হচ্ছে। সংবাদ পরিবেশনা ও অনুষ্ঠানমালার মানোন্নয়নের জন্য পরামর্শ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এই মাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা অনেকটা ফিরে এসেছে।

শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি বিল প্রণয়নের কাজ চলছে। আশা করি শীঘ্রই এ ব্যাপারে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। মানুষ যাতে দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পায় এবং আইনের শাসন কায়েম হয় সেজন্য একটি স্থায়ী আইন সংস্কার কমিশন। গঠন করা হয়েছে। কমিশন উপনিবেশিক আমলের আইনসমূহ পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের সুপারিশমালা তৈরী করছে। ল’ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও একটি গণমুখী গণতান্ত্রিক প্রশাসন গড়ে তোলার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা চলছে। এ ব্যাপারে আমরা আমাদের নির্বাচনী ওয়াদার কথা বিস্মৃত হইনি। ইতোমধ্যেই একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার কমিশন তার কাজ শেষ করে এনেছে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আপনারা জানেন, দীর্ঘ একুশ বছর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ও ৩রা নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

আমরা সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল বিল পাস করি। এর ফলে জাতি একটি কলংকজনক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পায়। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ই আগস্টে নিহত শহীদানের ঘাতকদের বিচার কার্য শুরু হয়েছে। জেল হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও অগ্রসর হচ্ছে।

আমাদের দেশের গত ২১ বছরের একটি কলংকজনক ইতিহাস হলো উচ্চাভিলাষী সামরিক একনায়ক ও সেনা ছাউনীতে জন্মগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল কর্তৃক জাতীয় সেনাবাহিনীকে সংকীর্ণ ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠী স্বার্থে ব্যবহার করা। তাদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া এবং চূড়ান্ত বিচারে জনগণের প্রতিপক্ষরূপে জনগণের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের জন্য ব্যবহার করা।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের গৌরবোজ্জ্বল সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিডিআর, আনসারকে এইভাবে ভেতর থেকে দুর্বল করে তোলা হয়েছে এবং নির্বিচারে অনেক সেনা সদস্য ও অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছিল। মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারের মাধ্যমে তাদের মন বিষিয়ে তোলা হয়েছিল।

আমরা সরকার গঠনের পর এই অবস্থার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছি। অবিশ্বাস, সংশয় ও বিভ্রান্তির কৃত্রিম দেয়ালটিকে ভেঙ্গে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে দ্বিধাহীনচিত্তে বলেছি আমাদের প্রতিরক্ষা সরকার পরিচালনা বাহিনীকে দলীয় ও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার হতে আমরা দেব না।

বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া জাতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা, দেশমাতৃকার প্রতি কর্তব্যবোধ ও জনগণের প্রতি আনুগত্য ফিরিয়ে এনে তাঁদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা হবে। একটি আধুনিক, সুশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনীকে গড়ে তোলার উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।

এ সময়ের মধ্যে সরকার পরিচালনা সাধারণ সৈনিকদের বাসস্থান সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। তিন বাহিনীর সদস্যদের ভেতর বিরাজিত বৈষম্য ও অসামঞ্জস্য দূরীকরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ফ্রেস রেশন এলাউন্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। সৈনিকদের দুইবেলা রুটির বদলে দুই বেলা ভাত দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারে আমি আমাদের বৈদেশিক নীতি সম্পর্কে সংক্ষেপে দু’একটি কথা বলবো। এ কথা সবাই জানেন, বিশ্ব পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর পরস্পর নির্ভরশীল এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পুরনো শত্রুতা ও মোকাবিলার যুগের অবসান ঘটেছে। বিশ্বে এখন উন্নয়ন ও বিকাশের এক নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সারা দুনিয়ার মানুষ এক সাধারণ স্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্ষুধা, পশ্চাৎপদতা, দারিদ্রা, নিরক্ষরতা দূর করে মানব জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে এখন অনেক বেশী সক্রিয় ও কাছাকাছি এসেছে। পরিবর্তিত

এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে। আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি- আমরা অর্থনৈতিক কূটনীতি অনুসরণ করছি।

এই সময়কালের মধ্যে আমি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাঙালি জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছি। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।

গঙ্গার পানি বণ্টন ছাড়াও ভারতের সাথে বাণিজ্যিক ভারসাম্যের প্রশ্নে ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রশ্নে আলোচনা করেছি। আমরা চীনের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে, মুসলিম বিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক উন্নত করার বহুমুখী প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।

সম্প্রতি ইসলামী সম্মেলন সংস্থার বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে আমি ৭-দফা কর্ম পরিকল্পনা উত্থাপন করেছি। জাপান, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় গোষ্ঠীর সাথে আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও গভীরতর করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমি রাষ্ট্রপতি ক্লিনটনের সাথে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কথা বলেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মাইক্রোক্রেডিট সম্মেলনে আমাকে কো- চেয়ারপারসন নির্বাচিত করে বাংলাদেশের জনগণকেই সম্মানিত করা হয়েছে।

 

সরকার পরিচালনা আমাদের সাফল্য

 

আমরা সার্কের কাঠামোর মধ্যে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাকে স্বাগত জানিয়েছি। আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্য একটাই, আর তা হচ্ছে- দ্বি-পাক্ষিক, আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে মাতৃভূমি বাংলাদেশকে স্বল্পতম সময়ে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলা।

Leave a Comment