সাংগঠনিক সফর

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সাংগঠনিক সফর। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

সাংগঠনিক সফর

 

সাংগঠনিক সফর

 

১৯৭২ সালের জুন মাসের ১৬ তারিখ হতে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ের সাংগঠনিক সফর শুরু করি। তিন মাসের কর্মসূচী গ্রহণ করে সারা বাংলাদেশে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে যাই। এক দলে আমি নিজে এবং অন্য দুটি দলে সংগঠনের সাংগঠনিক-সম্পাদক জনাব আবদুর রাজ্জাক, ও সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব কোরবান আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। জেলায় জেলায় মুজিববাদের মহান বাণী পৌছে দেই।

সফর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা সেদিন উপলব্ধি করলাম সত্ত্বর প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন। তাই দ্বিতীয় পর্যায়ের সফর শুরুর পূর্বেই প্রতিটি জেলায় আমরা প্রায় ২০ লাখ সদস্যভুক্তির রশিদবিশিষ্ট সদস্য সংগ্রহ বহি বিতরণ করি। সফর এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান একই সাথে চলে। সদস্য সংগ্রহের শেষ তারিখ নির্ধারিত হয় ৩১-৩-৭৩। সংগঠনের বিধানানুযায়ী আমরা প্রাথমিক এবং থানা পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করি।

অফিস সম্পাদক এ-ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরিপত্রের মাধ্যমে জেলা কমিটিগুলোকে অবহিত করেন। এই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করার সাথে সাথে আবার কর্মীরা সজীব ও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। সমসাময়িক সময়েই আমাদের কর্মীরা জাতীয় ইতিহাসের দিক নির্ণয়ের এক বিশেষ দিনে নতুন করে শপথ নেয়। স্বশাসনের মহাজাগরণের দিন রক্তক্ষরা ৭ই জুন। পূর্ণ শ্রদ্ধার সাথে ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলনের এ দিনটি আমরা পালন করি।

 

স্বাধীনতার প্রথম ৭ই জুন আসে এক ভিন্নতর শপথ নিয়ে। প্রতিশ্রুতি বহন করে নতুন চিন্তা, নতুন ভাবধারা এবং নতুন জীবন-দর্শন বাস্তবায়নের। সারা দেশে কর্মসূচীর ভিত্তিতে এ দিনটির সফল পালনের মাধ্যমে আমাদের কর্মীদের সামনে এক নতুন চিন্তার দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এবারের ৭ই জুনের প্রেরণা ছিল মুজিববাদের মূলনীতির বাস্তবায়ন। এবং নবতর আদর্শকে জাতির সামনে পেশ করে তার স্বীকৃতি গ্রহণ।

মূলতঃ মুজিববাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর দেশগড়ার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শুভ উদ্বোধন ঘোষিত হয় এদিনে। এ দিনটি একদিকে যেমন সাময়িক রাজনৈতিক মন্দাভাবে কাটিয়ে কর্মীদের মধ্যে জীবনী-শক্তির সঞ্চার করলো, তেমনি বঙ্গবন্ধুর দেশ-গড়ার উদাত্ত আহ্বানকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্যও আমাদের কর্মীরা সর্বশক্তি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠলো।দেশ গড়ার সংগ্রামের সাথে সমন্বয় সাধন করে সংগঠনের পক্ষ থেকে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।

সাংগঠনিক সফর

 

যেহেতু আমাদের কার্যকালের প্রথমার্ধ্বে জাতীয় ত্রাণ এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয় কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত ছিল তাই প্রতিটি সরকারী কর্মসূচীর সাথে আমরা সমন্বয় সাধন করে কাজ করেছি।‘দেশ গড়’ এই পর্যায়ে সভা-সমিতি, বিশেষ আলোচনা প্রভৃতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের পক্ষ থেকে কাজ করেছি। উল্লেখ্য, এ সময় গফরগাঁয়ে এক বিস্তৃত কর্মসূচীতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যোগ দেন। দেশ গড়ার সংগ্রামের সাথে সাথে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেল ।

Leave a Comment