আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ

১৯৭৮ সালের আল মাতা ঘোষণায় ২০০০ সালের মধ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে বাংলাদেশ বিগত ১৫ বছরের সরকারসমূহের ভ্রান্তনীতি, অব্যবস্থা এবং দুর্নীতির কারণে এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে .ফলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, শহরের নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা স্বাস্থ্যসেবার পরিম-লের বাইরে অবস্থান করছে। শহরের মধ্যবিত্তরাও যে-স্বাস্থ্যসেবা সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ে পেয়ে আসছে তার মান হয় নিম্ন পর্যায়ের নয়তো এর ব্যয়ভার তাদের ক্ষমতার বাইরে। অপেক্ষাকৃত ধনিক শ্রেণীর একটি বৃহৎ অংশ বাধ্য হয়ে উন্নততর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাড়ি জমাচ্ছে।
এতে দেশ হতে শত শত কোটি টাকা চলে যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সরকারী পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার যতটুকু সুযোগ ছিলো বর্তমান সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি এবং দলীয়করণ তাকে বিশেষভাবে বিঘ্নিত করছে। আজ জনস্বাস্থ্য প্রশাসনে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিদ্যমান। প্রকল্প বাস্তবায়নের স্থবিরতার জন্য স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।
বিগত ২০ বছরেও আমাদের দেশে একটি স্বাস্থ্যনীতি প্রণীত হয়নি। ১৯৮২ সনে একটি ঔষধ-নীতি প্রণীত হয়েছিলো তাও নানা কারণে ছিল বিতর্কিত। ভাই সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত নেই কোন দিক নির্দেশনা।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে সর্বস্তরের জনগণের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করবে। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল সমস্যা চারটি। যা হলো স্বাস্থ্যখাতে অপ্রতুল ব্যয় বরাদ্দ, বরাদ্দকৃত টাকার অপব্যবহার ও দুর্নীতি, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে নিয়োজিত পেশাসমূহ যেমন চিকিৎসক, ফার্মাসিষ্ট, সেবিকা এবং স্বাস্থ্যকর্মীর অপ্রতুলতা, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের অভাব, পেশাগত শিক্ষা এবং গবেষণার নিম্নমান ।
আমরা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে চিকিৎসক, ফার্মাসিষ্ট, স্বাস্থ্যসেবিকা, স্বাস্থ্যকর্মী সৃষ্টি এবং তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য প্রশাসনকে ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে ঢেলে সাজিয়ে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাবো।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যাকে জোরদার করার পদক্ষেপ হিসাবে প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য প্রকল্প স্থাপন ও থানা স্বাস্থ্য প্রকল্পকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলা হবে। এদের কার্যক্রমে নির্বাচিত জন-প্রতিনিধিদের ভূমিকাকে সম্প্রসারিত করা হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের অভাব প্রধান প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে সবরকম সহায়তা দেয়া হবে। ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। এজন্য ফার্মেসী শিক্ষাকে জোরদার করা হবে।
উন্নতমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রেক্ষিতে আমাদের দেশেও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যায়। তাই হবে আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতালগুলির সার্বিক উন্নতি সাধন করা হবে এবং হাসপাতালে জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত শয্যা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
জনগণের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে ‘মা ও শিশু স্বাস্থ্যের দিকে জোর দেয়া হবে। সরকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনপ্রতিনিধিদের নিকট জবাবদিহিমূলক করে তোলা হবে। মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মানের সমতা আনয়ন করা হবে।

বেকার চিকিৎসকদের আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দেয়া হবে। সর্বোপরি বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে বিপ্লব ঘটে গেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ সম্বন্ধে সচেতন থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় উন্নততর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।
