১৯৯৬-২০০১ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল

আজকে আমরা ১৯৯৬-২০০১ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল নিয়ে আলোচনা করবো।

 

১৯৯৬-২০০১ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল

  • বিএনপি আমলের খাদ্য উৎপাদন ১ কোটি ৮০ লাখ টন থেকে ২ কোটি ৬৯ লাখ টনে উন্নীতকরণ। খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতার পথে দেশ। শেখ হাসিনার জাতিসংঘের ‘সেরেস’ পুরস্কার অর্জন।
  • ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদিত পানির ন্যায্য হিস্যা আনায়।
  • পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতী হানাহানি বন্ধ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর । শেখ হাসিনার ইউনেস্কোর হুফে বয়েনি শান্তি পুরস্কার লাভ।
  • যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন ।
  • নারীর ক্ষমতায়ন। স্থানীয় সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন প্রথা চালু। পিতার সাথে মাতার নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা।
  • প্রবৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং মুদ্রাস্ফীতি ১.৪৯ শতাংশে নামিয়ে আনা। ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
  • ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা দান করে।
  • ১৯৯৭ সালের ৬ ও ৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও জিলুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত করে ।
  • ২০০১-০৬, ১ অক্টোবর কারচুপির নির্বাচন। বিএনপি-জামাত জোটের ক্ষমতা দখল। হত্যা, নির্যাতন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কালো অধ্যায়।

 

 

  • ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলে শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। কাউন্সিলের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। নির্বাচিত হয় নতুন নেতৃত্ব। শেখ হাসিনা সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক হন মো. আবদুল জলিল এমপি।
  • ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্লেনের হামলা আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী নিহত শেখ হাসিনার কানের পর্দা ফেটে গিয়ে আহত।
  • ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে বিএনপি-জামাতের নীলনকশার নির্বাচন বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বঘোষিত প্রধানের পদ থেকে ইয়াজউদ্দিনের পদত্যাগ জরুরি অবস্থা ঘোষণা।

– ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ।
– সেনা নেতৃত্বের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমন ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পৃথক পৃথকভাবে মূলত একই ‘সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন কার্যত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগে আগুনের ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে অপসারণের উদ্দেশ্যে মাইনাস টু ফর্মুলা প্রদান।

– ১৬ জুলাই, ২০০৭-এ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার

– ড. মুহম্মদ ইউনুসের রাজনৈতিক দল গঠনের ব্যর্থ চেষ্টা।

বিএনপিতে সংস্কারবাদীদের ভিন্ন কমিটি গঠন আওয়ামী লীগ সংস্কারবাদীরা কোণঠাসা।

 

  • ২০০৮ গণ-আন্দোলনের মুখে মাইনাস টু ফর্মূলা বার্থ। শেখ হাসিনাকে মুক্তিদান ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত। ৩০০টির মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ২১৪টি আসন লাভ।
  • ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অষ্টাদশ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে। কাউন্সিলে পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে নতুন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়। কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ।
  • ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলের ১৯তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ।
  • ২০০৯-১৪ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের সময়কালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। সবগুলো সূচকেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশঃ

– বর্তমানে অর্থনৈতিক গড় প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নামিয়ে আনা। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ ডলার। বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিগণিত। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন জিডিপি’র ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে।

– নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন । বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ । প্রাথমিক স্তরে ভর্তির বয়সী শিশুদের প্রায় শতভাগ ছেলেমেয়ে স্কুলগামী। প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে সফল পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতি প্রচলন। শিক্ষার হার ৭০ শতাংশে উন্নীত।

– মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়ে এখন ৭০ বছর ৮ মাস। দক্ষিণ এশিয়ায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার সর্বনিম্ন
পর্যায়ে নামাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

– MDG-তে নির্ধারিত ২০১৫ সালের এই লক্ষমাত্রা বাংলাদেশ ২০১৩ সালেই অর্জন করেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও সন্তান জন্মদানের সময় মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এমডিজি পুরস্কার প্রদান করেছে জাতিসংঘ। ১৬ হাজার কমিউনিটি কিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে ।

– বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৪০০০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ;

– লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা। শিল্প-কারখানায় নতুন করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ প্রদান শুরু
– খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কৃষিতে বিপুল ভর্তুকি, ধানের বাম্পার ফলন । এখন ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, মাছ উৎপাদনে পঞ্চম এবং আলু উৎপাদনে সপ্তম স্থানে রয়েছে। উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম সোনালি আঁশ পাটের জিন প্রযুক্তির আবিষ্কার সম্ভাবনার স্বর্ণনুয়ার উন্মোচিত । বন্ধ পাটকল চালু। শিল্পায়নের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ।

-গার্মেন্ট শ্রমিকদের পে-স্কেল পুনর্নির্ধারণ। সরকারি কমকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বর্ধিত বেতন স্কেল কার্যকর করা। শিল্প পুলিশ বাহিনী গঠন। শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ।

-কর্মসংস্থান ও হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি সম্প্রসারণ।

– শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০০৯-১৩ মেয়াদে অর্থাৎ পাঁচ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণে সংশোধিত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। জিডিপিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে।

-সফলভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠান ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যের সূচনা। পরপর দুই বছরে বাংলাদেশের দুই তরুণের এভারেস্ট জয়।

– নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বের শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

-নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে একাধিক উড়াল সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান।

ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশের অভিযাত্রা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সিম গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। ইন্টারনেট গ্রাহক ৫ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজারের বেশি।

 

– বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূমিকা পালন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার লাভ।

-পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য অর্জিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি। ৪২ বছরের অমীমাংসিত মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে নতুন সমুদ্রসীমা জয় করেছে বাংলাদেশ।

ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়ের ফলে দীর্ঘ ৬৮ বছরের মানবিক লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেয়েছে ছিটমহলবাসী।

-বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। জাতি কলঙ্কমুক্ত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু। ইতোমধ্যে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত। বিডিআর বিদ্রোহের শান্তিপূর্ণ সমাধান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ ।

-সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক ১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক আইন জারি, সামরিক ফরমান বলে সংবিধান সংশোধন ৩ জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ১৯৭২-এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিমালা পুনর্বহাল। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ সংযোজিত।

-২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে বিএনপি-জামাত জোট সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। আন্দোলনের নামে হিংসাশ্রয়ী ঘটনায় বহুপ্রাণহানি ঘটে। বিএনপি-জামাতের প্ররোচনায় হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও সারাদেশে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ ও সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।

– বিএনপি-জামাত জোট ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বর্জন এবং নির্বাচন বানচালের জন্য একই কায়দায় চেষ্টা চালায় । অসাংবিধানিক ধারা সৃষ্টির এই চেষ্টা ও ব্যর্থ হয়।

 

  • ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২ জানুয়ারি তৃতীয় মেয়াদের জন্য শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে এই মন্ত্রিসভার দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।
  • ২০১৫ সালে খালেদা জিয়া ৯০ দিনব্যাপী অবরোধ চালিয়ে সরকার পতনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তার অবরোধের ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি। আন্দোলন ব্যর্থ হলে খালেদা ঘরে ফিরে যান।

Leave a Comment