প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্য

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্য। পুরো পৃথিবীতে যতগুলো সাম্রাজ্য টিকে ছিল, সেগুলোর ভেতর দক্ষিণ এশিয়ার সাম্রাজ্যগুলোর কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের ভূমির গঠন এবং জলবায়ুর বৈচিত্র্য হাজার বছর ধরে অনেকগুলো গল্প তৈরির কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে পৃথিবীর জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ বসবাস করে, যার আয়তন রাশিয়াকে বাদ দিলে ইউরোপকে যেমন দেখায়, ঠিক ততটুকু। আবার দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের ভেতর রয়েছে মরুভূমি, পাহাড়-পর্বত, নদী-সাগর, রেইনফরেস্ট আর তুষরাবৃত এলাকা।

প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্য

 

প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্য

 

প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যের বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে। মৌর্য সাম্রাজ্যই ভারতের ইতিহাসে প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য। আদি কৌম সমাজ রূপান্তরিত হয় সাম্রাজ্যে। মৌর্য সম্রাটরা বহু-বিভক্ত ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ বংশের দুজন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও অশোক – বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। রাজ্য বিজয়, সুশৃক্সখল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে মৌর্য সম্রাটগণ অতুলনীয় সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন।

এরপর খ্রিস্টিয় প্রথম শতকে কুষাণ সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটেছিল। কুষাণদের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক । খ্রিস্টিয় চতুর্থ শতকে গড়ে উঠেছিল গুপ্ত সাম্রাজ্য। গুপ্ত বংশের দুজন সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত – বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। গুপ্ত সাম্রাজ্য দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়েছিল। সুষ্ঠু শাসন, শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুপ্তযুগে এক অভূতপূর্ব উৎকর্ষ লক্ষ্য করা যায়। গুপ্তযুগকে যথার্থই প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ বলা যায়।

 

ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ ভাগে পুষ্যভূতি বংশের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে সমগ্র উত্তর ভারতে। এ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন হর্ষবর্ধন। তাঁর কৃতিত্বও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই সাম্রাজ্যসমূহের আলোচনা থেকে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে খ্রিস্টিয় সপ্তম শতক পর্যন্ত সময়কালে ভারতীয় ইতিহাসের মূলধারার সাথে পরিচিতি ঘটবে।

 

প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্য

 

উত্তর ভারতীয় সাম্রাজ্যসমূহের ঘাত-প্রতিঘাত বাংলার ভূভাগেও অনুভূত হয়েছিল। বাংলার ইতিহাসে গুপ্ত শাসন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুপ্ত-পূর্ব যুগে বাংলার নিজস্ব অস্তিত্ব তেমন একটা বিকাশের সুযোগ পায়নি । তবে গুপ্ত শাসনাধীনে বাংলার ইতিহাস এই বিকাশের চিহ্ন বহন করে। অষ্টম পাঠে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। গুপ্তোত্তর যুগে সপ্তম শতাব্দীতে বাংলার সম্রাট শশাঙ্কের রাজত্বকাল বাংলার স্বকীয় সত্তার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল।

ইসলামপূর্ব ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলো
১. মৌর্য সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩২০-১৮৫)
২. কুষাণ সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৫-৩৭৫ খ্রিস্টাব্দ)
৩. গুপ্ত সাম্রাজ্য (৩২০-৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ)
৪. প্রতিহার সাম্রাজ্য (৬৫০-১০৩৬ খ্রিস্টাব্দ)
৫. চোল সাম্রাজ্য (৮৪৮-১২৮৯ খ্রিস্টাব্দ)

 

Leave a Comment