আওয়ামী মুসলিম লীগের শিল্প উন্নতি

আজকের আমরা আলোচনা করবো আওয়ামী মুসলিম লীগের শিল্প উন্নতি, যা পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের খসড়া ম্যানিফেষ্টোর অন্তর্ভুক্ত।

 

আওয়ামী মুসলিম লীগের শিল্প উন্নতি
আওয়ামী মুসলিম লীগের শিল্প উন্নতি

 

আওয়ামী মুসলিম লীগের শিল্প উন্নতি

পাকিস্তানের বিশেষ করিয়া পূর্ব্ব পাকিস্তানের শিল্প উন্নতির মারাত্মক অভাব ও প্রয়োজন। বর্তমান জগতে শিল্প উন্নতি না হইলে কোনও রাষ্ট্র উন্নতি লাভ করিতে পারে না, জন সাধারণের দুর্দ্দশা মোচন করিতে পারে না ও দেশের আর্থিক জীবনে স্থিরতা প্রতিষ্ঠিত করিতে পারে না। অতএব রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ও প্রথম কর্তব্য শিল্প সম্প্রসারন ও উন্নতি।

এই কর্তব্য স্বীকার করিয়া ও রাষ্ট্রনায়কগণ প্রায়ই শিল্প সম্প্রসারনের জন্য ব্যক্তিগত মূলধন কিংবা অনেক সময় বিদেশী মূলধনের প্রতি তীর্থের কাকের মত হা করিয়া চাহিয়া থাকেন ব্যক্তিগত মূলধন পাকিস্তানে যেমন নির্ভর যোগা নয়, তেমনি আবার তাহা অতিরিক্ত লোভী এবং জন স্বার্থ বিরোধি। বিদেশী মূলধনের আনুষঙ্গিক হিসাবে সব সময়ই আসে অর্থনৈতিক ও অভিমে রাজনৈতিক দাসত্ব।

 

আওয়ামী মুসলিম লীগের শিল্প উন্নতি
আওয়ামী মুসলিম লীগের শিল্প উন্নতি

 

রাজনৈতিক শাসনের যুগ শেষ হইয়াছে বলিয়া আজ অর্থনৈতিক শাসন ও শোষনই সাম্রাজ্যবাদীর লক্ষ ও সাম্রাজ্যবাদের নূতন রূপ। অতএব বিদেশী মূলধন সৰ্ব্বক্ষেত্রে বর্জন করিয়া চলিতে হইবে। অধিকন্তু পাকিস্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী শিল্প প্রসার একমাত্র একটি ব্যাপক পরিকল্পনার ভিত্তিতেই সম্ভবপর হইতে পারে। অতএব সমস্ত শিল্প পুনর্গঠন ও পরিচালনা রাষ্ট্রের নিজস্ব করিয়া লইতে হইবে।

এতদ্ব্যতীত মূল শিল্পগুলি জাতীয় সম্পত্তিতে পরিণত করিয়া শিল্পসম্প্রসারনের পথ সুগম করিতে হইবে এবং ব্যাপক পরিকল্পনার ভিত্তিতে কুটীর শিল্পের নিয়ন্ত্রণ করিতে হইবে। এইরূপ একটি ব্যাপক পরিকল্পনা দ্বারাই শুধু একাধারে শিল্প তথা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতি ও ক্রমবর্ধমান বেকারী দূরীভূত করা যাইবে।

 

শিল্পাঞ্চলে সংঘাত শিল্প সম্প্রসারণের পথে এক বিপুল বাধা। এই সংঘাতের মূল কারণ শ্রমিকদের অতিরিক্ত পরিশ্রম, স্বল্প মজুরী। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সুযোগ সুবিধা ও শিক্ষার অভাব এবং শিল্পপতিদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরী প্রবৃত্তি। এ সম্পর্কে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সুনিয়ন্ত্রণ সরকারী কর্তৃপক্ষকে অতি জনকল্যাণকর পদ্ধতিতে করিতে হইবে, যাহাতে শ্রমিকদের অসন্তোষের মূল কারণ দূরীভূত হয়।

রাষ্ট্রের নাগরিকদের এক বিরাট অংশের প্রতি রাষ্ট্রের দায়ীত্ব রহিয়াছে এক সুখী ও স্বচ্ছল জীবনের বন্দোবস্ত করিয়া দেওয়ার। শ্রমিকদের সমস্ত অধিকার যেন সর্ব্বতোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার এই হইবে এক প্রধান ও মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment