আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – পূৰ্ব্ব পাক আওয়ামী লীগ কর্মকর্তাদের কার্যাবলী ও ক্ষমতা । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
পূৰ্ব্ব পাক আওয়ামী লীগ কর্মকর্তাদের কার্যাবলী ও ক্ষমতা

৩৮. (ক) সভাপতি :
তিনি প্রতিষ্ঠানের সর্ব্ব প্রধান কর্ম্মকর্তা হিসাবে গণ্য হইবেন। তিনি পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের সমস্ত অধিবেশনে এবং ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন এবং আবশ্যক বোধে প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রের যে কোন ধারা ব্যাখ্যা করিয়া রুলিং দিতে পারিবেন ও যে কোন ধারার ব্যাখ্যা সম্বন্ধে কাউন্সিলের বা ওয়ার্কিং কমিটির মতামত লইতে পারিবেন।
তিনি সাধারণ সম্পাদককে কাউন্সিল বা ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহ্বানের নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং দরকার বোধে তিনি ২৯ ও ৩৪ ধারা মতে কাউন্সিল বা ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহ্বান করিতে পারিবেন। তিনি ২৮ ধারা অনুসারে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য মনোনীত করিতে পারিবেন। তিনি কাউন্সিল বা ওয়ার্কিং কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন ক্ষমতা গ্রহণ ও প্রয়োগ করিতে পারিবেন। রাষ্ট্রের ঐক্য, নিরাপত্তা ও সর্বময় মঙ্গল সাধনের জন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন উন্নতি অগ্রগতি ও শ্রীবৃদ্ধিই তাহার লক্ষ্য হইবে।
খ) সহ সভাপতি :
ক্রমিক মান অনুসারে প্রতিষ্ঠানের ৩ জন সহ সভাপতি যথা :- প্রথম সহ সভাপতি, দ্বিতীয় সহ সভাপতি ও তৃতীয় সহ সভাপতি থাকিবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে তাহারা সভাপতির সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন । ইহা ব্যতীত তাহারা সভাপতির নির্দেশিত কার্য্যাবলী সম্পন্ন করিবেন।
গ) সাধারণ সম্পাদক :
তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্য্য কারক বলিয়া পরিগণিত হইবেন। তিনি সমস্ত বিভাগীয় সম্পাদকবৃন্দকে তাহাদের বিভাগীয় কার্য্যাবলী সম্পাদন করিবার জন্য উপদেশ ও নির্দ্দেশ দিতে পারিবেন। মাসে অন্ততঃ একবার তিনি বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সভা ডাকিবেন এবং উক্ত সভায় বিভাগীয় কার্যাবলীর অগ্রগতি সম্বন্ধে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন। নীতিগত কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে সে সম্বন্ধে তিনি বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে পরামর্শ করিবেন কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার ওয়ার্কিং হাতে থাকিবে।
তিনি ওয়ার্কিং কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের কর্ম্মচারী নিয়োগ, বরখাস্ত, বেতন বৃদ্ধি বা হ্রাস, ছুটি মঞ্জুর ও শাস্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবেন। তিনি ওয়ার্কিং কমিটি ও পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত যাহাতে বিভিন্ন বিভাগের মারফৎ পরিপূর্ণভাবে কার্য্যকরী হয় তাহার বিধি ব্যবস্থা করিবেন। সাধারণ সম্পাদক প্রত্যেকটি কাউন্সিল সভায় প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী সম্বন্ধে রিপোর্ট পেশ করিবেন। এতদভিন্ন যে সমস্ত ক্ষমতা কাউন্সিল বা ওয়ার্কিং কমিটি তাহার উপর ন্যাস্ত করিবে তাহাও তিনি প্রয়োগ করিবেন।
তিনি বিভাগীয় সম্পাদকদের নিজ নিজ বিভাগীয় কার্য্যাবলী ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের যে কোন কাজ সম্পাদন করিবার জন্য যে কোন বিভাগীয় সম্পাদকের উপর ভার দিতে পারিবেন এবং তাহারা তাহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন। সাধারণ সম্পাদক কাৰ্য্যব্যপদেশে অনুপস্থিত থাকিলে অনুপস্থিত কালের জন্য তিনি তাহার সমস্ত কার্য্য ও দায়িত্ব পালনের ভার যে কোন বিভাগীয় সম্পাদকের উপর লিখিত ভাবে ন্যাস্ত করিতে পারিবেন।
ঘ) বিভাগীয় সম্পাদক মণ্ডলী :
তাহারা নিজ নিজ বিভাগীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন এবং সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্কিং কমিটি ও পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের বিভাগীয় সম্পাদকগণ নিজ নিজ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলী সমাধানের জন্য ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহ্বানের দরকার মনে করিলে সাধারণ সম্পাদক উক্ত সমস্যা জানাইয়া সভা আহ্বানের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন।
পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের প্রত্যেক কাউন্সিল সভায় বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলী সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট মারফত তাহাদের স্ব স্ব বিভাগের কার্য্যাবলীর অগ্রগতি সম্বন্ধে কাউন্সিলারগণকে অবহিত করিবেন। মহিলা বিভাগের সম্পাদিকা একজন মহিলা হইতে হইবে। তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানে মহিলাদিগকে সদস্যাভূক্ত করিবার জন্য চেষ্টা করিবেন। তিনি বিভিন্ন নারী সমস্যা সম্বন্ধে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সমূহ কার্য্যকরী করিবেন।

ঙ) কোষাধ্যক্ষ :
প্রতিষ্ঠানের সমস্ত অর্জিত অর্থ তাহার মারফৎ যে কোন সিডিউড্ ব্যাঙ্কে জমা থাকিবে। তিনি সাধারণ সম্পাদকের নিকট হইতে লিখিত রশিদ পাইয়া অর্থ প্রদান করিবেন। ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদকের যুক্ত স্বাক্ষর ছাড়া উঠান যাইবে না।
