অর্থনীতির ইস্তেহার [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – অর্থনীতির ইস্তেহার   । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

অর্থনীতির ইস্তেহার

অর্থনীতির ইস্তেহার

 

 

পরিকল্পিত অর্থনীতি আধুনিক সভ্যতার সবচাইতে উল্লেখযোগ্য অবদান। একটি জাতির অগ্রগতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এটি একটি সমাজবাদী প্রচেষ্টা। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণে বদ্ধপরিকর। এবং ইতিমধ্যে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা একসালা কর্মসূচী সমাপ্ত করতে চলেছি এবং পরিকল্পনা কমিশন পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যে ব্যাপৃত রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে সমাজবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণের কর্মসূচী প্রণীত হয়েছে এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে-

(ক) ব্যাংক, বীমা, বস্ত্রশিল্প, পাটশিল্প, চিনিশিল্প জাতীয়করণ করা হয়েছে। বর্তমানে এইগুলি ছাড়া জাহাজ নির্মাণ-কারখানা, সার ও লৌহজাত দ্রব্যের ভারী কারখানা, সিমেন্ট, কাগজশিল্প ইত্যাদিও রাষ্ট্রীয় মালিকানার অন্তর্ভুক্ত।

 (খ) পরিত্যক্ত সম্পত্তি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ সরকারী মালিকানায় গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে ।

(গ) রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে বিদেশী লগ্নীর উপর সরকারী কর্তৃত্ব ২৫ লক্ষ টাকার উপরে প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কারখানায় সরকারী মালিকানার প্রতিষ্ঠা করার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

(ঘ) বণ্টন ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য ও সুসমতা আনার জন্য এবং ন্যায়সঙ্গত মূল্যে জনগণের দুয়ারে পণ্য-সামগ্রী পৌছে দেবার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে ন্যায্য মূল্যের দোকান প্রতিষ্ঠার প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

(ঙ)দেশের বয়ন, তাঁত ও দেশজ ক্ষুদ্র শিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য কুটির শিল্প করপোরেশন গঠন করা হচ্ছে এবং তাঁতীরা যাতে সুতা পায় তার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে ।

(চ) দেশের শ্রমজীবী মানুষ যাতে করে জাতীয় উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে নিজেকে অংশী বলে ভাবতে পারে তার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানার পরিচালকদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব সম্বলিত আইন প্রণয়নের নির্দেশ জারী করা হয়েছে।

 

অর্থনীতির ইস্তেহার

 

এগুলো হচ্ছে এই সকল সমাজবাদী পদক্ষেপ যেগুলি ইতিমধ্যে সরকার গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আগামী পাঁচসালা পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির সমাজতান্ত্রিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অগ্রগতি সাধনে তৎপর হবে এবং দেশের মূল শিল্প ও উৎপাদন যন্ত্রের উপর জনগণের মালিকানাকে বিস্তৃত করার কর্মসূচী গ্রহণ করবে।

Leave a Comment