আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –যোগাযোগ ও যানবাহন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
যোগাযোগ ও যানবাহন

একটি প্রগতিশীল অগ্রসর জাতির প্রতিচ্ছবি তার যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। কোন জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে তার যোগাযোগ ও যানবাহন-ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হয়। আমাদের উপনিবেশিক অতীতের কারণে আমরা এই ক্ষেত্রে চিরবঞ্চিত। পুরাতন শাসকরা নিজেদের প্রয়োজনে সামান্য যে- করটি সড়ক নির্মাণ করেছিল, সামান্য যা কিছু যানবাহনের ব্যবস্থা ছিল, হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রাক্কালে সেগুলি বিকল করে দেওয়া হয়েছিল।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আমাদের অন্যতম প্রধান সঙ্কট ছিল যোগাযোগ ও যানবাহনের অসুবিধা। কোন প্রকারে মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করে আমরা প্রাথমিক বাধা কাটিয়ে উঠেছি। কিন্তু এখনও বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের শরথগামিতা উৎরিয়ে উঠতে পারেনি।
তাই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের প্রধান নির্মাণ কার্যের ক্ষেত্র হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বৎসরের মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহকে আধুনিক যানবাহনের চলাচলযোগ্য করে গড়ে তোলা হবে। এবং এই উপলক্ষে যমুনা নদীর উপর পৃথিবীর বৃহত্তম সেতু নির্মাণের কার্য শুরু করা হবে।
নৌযান ও স্থলযানের পর্যাপ্ত সমাবেশ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করে যোগাযোগ-ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর আওয়ামী লীগ গুরুত্ব দিচ্ছে। আভ্যন্তরীণ যানবাহনের সঙ্কট নিরসনের জন্য চট্টগ্রামে অবস্থিত ট্রাক ও বাস নির্মাণ কারখানাটি সম্প্রসারিত করা হবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন কারখানা স্থাপন করা হবে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রচুর জলযানের সমাবেশের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ইঞ্জিন আমদানী ও উৎপাদন করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ও চালনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বন্দরে উন্নত করার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। নদীর নাবিগতা রক্ষা করার জন্য শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলি সংস্কারের জন্য ড্রেজার দিয়ে খনন কার্য চালান হবে।
