অসহযোগ আন্দোলন [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –অসহযোগ আন্দোলন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

অসহযোগ আন্দোলন

 

অসহযোগ আন্দোলন

 

তারা ভুলে যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের ইতিহাস ভুলে যায়, কিভাবে ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এককভাবে এদেশে নন-কোঅপারেশন মুভমেন্ট করে। ছাত্র-জনতা, ধর্ম, শ্রেণী ও পেশা নির্বিশেষে তাতে যোগদান করেছিল। দেশের মানুষ সংঘবদ্ধ ছিল, শোষকগোষ্ঠী আঁতকে উঠেছিল। শোষকরা জানতো এবং আমরাও জানতাম যে, আওয়ামী লীগ তাদের দাবি থেকে এক চুলও নড়বে না।

কারণ আওয়ামী লীগ কোনদিন ওয়াদা ভঙ্গ করে নাই। তারা ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারে না। বাংলার মানুষ যা বলেছে তাই হবে। এর পিছনে সরার ক্ষমতা আমাদের নাই। তাই আমি সেদিন বলেছিলাম ৬-দফা জনগণের সম্পদ, আওয়ামী লীগের আর শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পদ নয়। ওটার সঙ্গে আপোস হয় না। অনেকে গোপনে আপোসের প্রপাগাণ্ডা করতেন। কিন্তু আমরা জানতাম যে ইয়াহিয়া খান সৈন্য সমাবেশ করছেন।

 

আজ সকলের জানা দরকার আমরাও বসে ছিলাম না। আমর। যদি বসে থাকতাম একই সময় একই মুহূর্তে বাংলাদেশের ৫৮টা মহকুমায় সশস্ত্র বিপ্লব শুরু হতো না। রেসিসট্যান্স মুভমেন্ট শুরু হতো না। শুরু হয়েছিল এজন্য যে, তখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিচ্ছিল ।

২৫ মার্চ তারিখে আমি যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম, আমি যখন বাংলার মানুষকে ডাক দিলাম তখন আমি গ্রেফতার হয়ে গেলাম । কিন্তু আমার সহকর্মীরা আমার অনুপস্থিতিতেও সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংগ্রাম উপরের থেকে পড়ে নাই। নজরুল তখন অ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট হয়েছিল।

 

অসহযোগ আন্দোলন

 

প্রেসিডেন্ট আমাকে করে। তাজউদ্দিন প্রাইম মিনিস্টার হয়েছিল। তারা দেশের এই সংগ্রাম চালায়। অবশ্য আমাদের সহযোগী দু-একটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আমাদের সমর্থন দিয়েছিল। কম্যুনিস্ট পার্টি দিয়েছিল। আমাদের মোজাফ্ফর ন্যাপও দিয়েছিল। কিন্তু সেদিন প্রতিষ্ঠান ছিল কার? নেতৃত্ব ছিল কার? আজ যারা বড় বড় কথা বলে, কোথায় ছিল তারা? কোথা থেকে তারা এসেছে? কে তাদের কথা শুনতো।

Leave a Comment