আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য, আদর্শ ও স্বপ্ন

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য, আদর্শ ও স্বপ্ন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য, আদর্শ ও স্বপ্ন

 

আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য, আদর্শ ও স্বপ্ন

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাংলাদেশ সংবিধানে গৃহীত রাষ্ট্রীয় চার মূল নীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে এক শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ছিল।

* আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনা বাঙালী জাতিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ও পুষ্টি সাধনের মাধ্যমে আমাদের আনন

বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত জাতিসত্তার মর্যাদা চির অম্লান রাখা এবং বাঙালী জাতিকে আপন মহিমা ও গৌরবের সুদৃঢ় ভিত্তিতে বিশ্ব।

সভায় প্রতিষ্ঠিত করা।

* অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শোষণ ও বৈষম্যের নিরসন করে বাঙালী জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মানসিকতার সাথে

সংগতিপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়ন।

* বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসরত সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ যাতে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে এবং একে অপরের ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে কোন বাধা বা বিঘ্ন ঘটাতে না পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা। রাষ্ট্র নীতি হবে সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ-জাতি-উপজাতি বিশেষে কোন প্রকার বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভংগী গ্রহণ করা হবে না। প্রতিটি নাগরিকের প্রতিভা বিকাশের সম-সুযোগের নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার এটাই মর্মবস্তু ।

 

আপামর জনসাধারণের উল্লেখিত আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে রচিত হয়েছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে বদলে যায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সাংবিধানিক নীতিমালা।

গণতান্ত্রিক রীতিনীতি নয়, বরং হত্যা, সামরিক অভ্যুত্থান, চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র হয় ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া। জনগণ নয়, বন্দুকের নলই হয়ে ওঠে এদের ক্ষমতার মূল উৎস – উচ্চাভিলাষী জেনারেলরা ক্ষমতায় টিকে থাকার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিরীহ সৈনিকদের, কিছু সংখ্যক সুযোগ-সুবিধাবাদী আমলা ও তাদের সহযোগী ধনিক শ্রেণীকে।

এরা ক্ষমতাসীন হয়ে ক্ষমতাকে সংহত করার জন্য নীতি-আদর্শহীন রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের সমাহার ঘটিয়ে এবং ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করে, নির্বাচনের নির্লজ্জ প্রহসন করে- কিন্তু দেশে গণতন্ত্র আসে না, কায়েম হয় না গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় ১৫ বৎসর যাবত ক্ষমতাসীন সরকারসমূহ ও শাসকগোষ্ঠী সংবিধানের মূলনীতিগুলো পাল্টিয়ে এমন একটি অবৈধ শাসন ব্যবস্থা চালু করে যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির মাধ্যমে কলুষিত একটি বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণীর সৃষ্টি, নির্বিচারে মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনর্বাসন এবং সার্বিক দুর্নীতি। আইনের শাসন ছিল অনুপস্থিত, জনগণের জানমালে ছিল না নিশ্চয়তা, বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল রহিত যার অনিবার্য পরিণতিতে জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

 

আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য, আদর্শ ও স্বপ্ন

 

এই অস্বস্তিকর দেউলিয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আবার বাংলার নির্যাতিত ও অধিকারহারা মানুষ গর্জে উঠেছে চিরন্তন ধারায়, রচনা করেছে গণ-অভ্যুত্থানের আর একটি কালজয়ী উপাখ্যান। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বজ্রকণ্ঠে তারা ঘোষণা করেছে স্বাধীনতার আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুড় সংকল্প। ছাত্র, পেশাজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগ্রাম করেছে, আত্মাহুতি দিয়েছে নূর হোসেন, মইজুদ্দিন, সেলিম, দেলোয়ার ও মিলনের মতো অগণিত দেশপ্রেমিক বাঙালী।

আজকের এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ব্যাপক জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের দাবী পূরণে এবং ইতিহাস নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে গণমানুষের সংগ্রামী সংগঠন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণের সুমহান কর্তব্য রয়েছে। এই অবস্থা, প্রেক্ষিত ও পটভূমিতেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছে এই নির্বাচনী ইশতেহার- ‘৯১ তথা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক কর্মসূচী।

Leave a Comment