আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী তথা উন্নয়ন দর্শন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী তথা উন্নয়ন দর্শন

১. অভূতপূর্ব গণজাগরণের মধ্য দিয়ে স্বৈরতন্ত্রের পতন:
দীর্ঘ পনের বছরের স্বৈরশাসনের সুদূরপ্রসারী ঘৃণা প্রতিক্রিয়া পড়েছে গোটা অর্থনীতিতে। প্রবৃদ্ধি হারের ক্রমাগত নিম্নগতি, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও স্থবিরতা, অবনতিশীল ও পুঞ্জিভূত দারিদ্র্য, প্রকটতর দুর্বিষহ বেকারত্ব, উত্তরোত্তর পরনির্ভরশীলতা- আজকের বাংলাদেশের রূঢ় বাস্তবতা।
অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে দ্রুত উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত পথে অগ্রসর না হতে পারলে শুধু যে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি চরমভাবে বিপন্ন হয়ে উঠবে তাই নয়, গণতন্ত্রের প্রক্রিয়াকেও সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা ক্রমাগত হুমকীর সম্মুখীন হবে।
দুর্নীতি, চোরাচালান, সম্পদের অপচয়, পুঁজি পাচার, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে উৎসাহ না দিয়ে অনুৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই উপলব্ধিতে আজ সকল দেশবাসীকে ন্যূনতম ঐক্যমতের জাতীয় পুনর্গঠন কর্মসূচীতে একত্রিত হতে হবে।
উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন, প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারায় ন্যায়সঙ্গত সামাজিক বণ্টন, উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণের। পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং ক্রমান্বয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন— চারটি মূল ধারায় নিয়োজিত হতে হবে সকল উন্নয়ন প্রয়াস। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে একই সাধারণ লক্ষ্যে পরিচালিত করাই হবে আজকের যুগের উন্নয়ন দর্শনের। মূল কথা ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তি খাতের অবাধ ও স্বতঃস্ফূত উদ্যোগ ও স্থানীয়ভাবে স্বপ্রণোদিত সমবায় প্রচেষ্টাকে সর্বাত্মকভাবে উৎসাহিত করা হবে। প্রণীত নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও সামাজিক উপযোগিতার নিরিখে সরকারী ও ব্যক্তি খাতের ভূমিকা নির্ণীত হবে।
কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সুযোগ সুবিধা যাতে সবাই গ্রহণ করতে সক্ষম হয় তার নিশ্চয়তা। বিধান করা হবে। কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে অন্যায়ভাবে এই বাজার ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ করতে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এবং সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের ভূমিকা হবে সহায়ক ও সম্পূরক। কোন আর্থিক সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হবে না। রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অদক্ষতা এবং অনভিপ্রেত ও অলাভজনকতা দূর করে দক্ষ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও প্রতিযোগী বাজার ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ ধারায় উৎপাদনশীলতা যারা এগুলোকে লাভজনক করতে হবে।
২. উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ
বাংলাদেশে বিদ্যমান বাস্তবতায় যে কোন উন্নয়ন কৌশলের প্রধান দুই লক্ষ্য হবে দারিদ্র্য নিরসন এবং ক্রমান্বয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন ক্রমাবনতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে দ্রুত বৃদ্ধি করা। তৃতীয় পাবার্ষিকী পরিকল্পনায় মোট জাতীয় উৎপাদনের বাৎসরিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৮ শতাংশ।
চতুর্থ পরিকল্পনায় এই লক্ষ্যমাত্রাকে ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল। যদি এই লক্ষ্যমাত্রা ধরে অগ্রসর হই, তা হলে ভারতের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের স্তরে পৌঁছাতে আমাদের লাগবে ২০ বৎসর, আর পাইল্যান্ডের মাঙ্গালি জাতি আয়ের স্তরে পৌঁছাতে লাগবে ৬০ বৎসর। এর থেকেই প্রবৃদ্ধির হার দ্রুততর করার প্রয়োজনীয়তা সুর ওঠে।
দারিদ্র্য নিরসনে, ক্রমবর্ধমান জনশক্তির দ্রুত কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে, পরনির্ভরশীলতা হ্রা প্রবৃদ্ধির হারকে বেগবান করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন বিকল্প আমাদের সামনে নেই। রিলিফ, ভর্তু সাহায্য-ভিক্ষা দ্বারা সাময়িকভাবে স্থিতিশীলতা অর্জন অথবা দারিদ্র্যের ক্ষণস্থায়ী রোধ হয়তো করা যায়, কিন্তু জী মেয়াদী পরিসরে তা অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে না।
যে প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য দূরীকরণ দ্রুত নিশ্চিত কে শুধুমাত্র সেই প্রবৃদ্ধিকেই গ্রহণ করা এবং তার জন্য সমন্বিত মেধা, শ্রম ও সম্পদ বিনিয়োগ করা হবে। এরপ বিনিয়োগের মাধ্যমে সকল নাগরিকের জন্য অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করা হবে। সকলের জন্য স্বাস্থ্য, সকলের জন্য শিক্ষা ও সকলের জন্য বাসস্থান ইত্যাদি কর্মসূচীগুলোর আওতায় সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্রের জন্য স্বাস্থ্য, দরিদ্রের জন্য শিক্ষা, দরিদ্রের জন্য বাসস্থান ইত্যাদির লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
দারিদ্র্য নিরসনের কৌশলকে হতে হবে বহুমুখী, বাস্তবানুগ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ধারার সাথে সংগতিপূর্ণ। দারিদ্র্য সীমার নীচে নিপতিত অধিকাংশ জনগোষ্ঠী যেহেতু গ্রামাঞ্চলে বাস করে সেহেতু গ্রামীণ অর্থনীতির সামগ্রিক পুনরুজ্জীবন আশু কর্তব্য হিসাবে দেখা দিয়েছে।
এই লক্ষ্যে উন্নত ভৌত অবকাঠামো সৃষ্টি ও উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর কৃষির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। এই সব খাতে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার দারিদ্র্য নিরসনের বাস্তব ভিত্তি সম্প্রসারিত করবে। প্রবৃদ্ধিমুখিন এই প্রক্রিয়ায় জনগোষ্ঠীর যে অংশ অবহেলিত থাকবে, তাদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।
মূলতঃ সমাজের চরম দরিদ্র অংশই এই সব কর্মসূচীর আওতায় আসবে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে বিবেচনায় নিয়ে কৃষিখাতমুখিন ঋণ ও প্রশিক্ষণনির্ভর, কর্মসংস্থান কর্মসূচী নিতে হবে।
একই সাথে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রামীণ শিল্পায়নের উপর জোর দেয়া হবে। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয়, যথা- সরকারী, বেসরকারী পর্যায়ে এই সব কর্মসূচীর বাস্তবায়ন সম্ভব এবং কোন ধরনের কাঠামোর মাধ্যমে এই সব কর্মসূচী বাস্তবায়িত হবে তা নির্ধারণে দক্ষতা ও উপযোগিতাই হবে সবচাইতে বড় মাপকাঠি।
৩. কৃষিখাত
খাতওয়ারী উন্নয়ন কৌশলের প্রসংগে প্রথমেই এসে পড়ে কৃষি খাতের কথা। ‘৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশে কৃষির প্রবৃদ্ধির হারে মন্দা দেখা দেয়ার অন্যতম কারণ ছিল কৃষিতে বাৎসরিক উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দে ক্রমান্বয়ে সংকোচন । অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষিতে বাৎসরিক উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হবে।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ও কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে এবং উচ্চ ফলনশীল আবাদের প্রসার ঘটাতে হবে। এর ফলে গ্রামীণ আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
গ্রামীণ ভৌত অবকাঠামো অবস্থার উন্নয়নও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। খাদ্যশস্য এবং পাট, তামাক, আখসহ অন্যান্য অর্থকরী ফসলের খাতে আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে মৎস্য, গবাদি পশু, হাসমুরগী, লবণ ও অন্যান্য অকৃষি খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করা হবে এবং দারিদ্র্য নিরসনে তা প্রত্যক্ষ অবদান রাখবে।
কৃষির আধুনিকীকরণের কর্মসূচীর আলোকে কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ, কৃষিজাত পণ্যের মূল্য ও কৃষি উপকরণ মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানকল্পে উপযোগী বণ্টন ব্যবস্থা, ভর্তুকী সংগ্রহ- বাজার ও গুদামজাতকরণ নীতিমালা গ্রহণ করা হবে।
প্রকৃত কৃষক যাতে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ পান এবং সেই ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য যথোপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের যুক্তিসংগত মূল্যের নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রামীণ জনগণকে সঞ্জীবিত ও সংগঠিত করে বহুমুখী গ্রাম সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্য বাজারজাতকরণসহ সার্বিক গ্রামীণ সমাজ জীবনের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
পল্লী এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলির নির্বাচন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশ গ্রহণ করার লক্ষ্যে প্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় স্ব-শাসন পদ্ধতি বহাল করা হবে।
পর্যাপ্ত গ্রামীণ-ঋণ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তিমালিকানায় বা বহুমুখী সমবায়ের মাধ্যমে লাভজনক অর্থকরী শিল্প- বিশেষ করে ক্ষুদ্র মাঝারি আকারের শ্রমনিবিড় শিল্প গড়ে তোলার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে; যাতে জমির উপর জনসংখ্যার মারাত্মক চাপ হ্রাস পায়।
৪. কৃষি ঋণ, ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ক্রমাবনতি, ফসলের দামের নিম্নগতি, উৎপাদন উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি অর্থনৈতিক কারণে কৃষক আজ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে। এমতাবস্থায়-
- সময়মত কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি ঋণ পৌঁছানোর ব্যর্থতার দরুন কৃষি ঋণ বণ্টনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং তার ফলে কৃষকের হয়রানির সীমা থাকে না। ঋণ বণ্টনের ব্যাপারে সামাজিক প্রতিপত্তি বা অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষি ঋণের বৃহৎ অংশ একটি শ্রেণীর দ্বারা কুক্ষিগত হওয়ার প্রবণতা ঋণ বণ্টন ব্যবস্থায় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
- কৃষি ঋণ যাতে প্রতিটি চাষী বিশেষ করে প্রান্তিক চাষী ও বর্গাদারদের ন্যায্য চাহিদা মেটাতে পারে তার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে।
- ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধন, গ্রামীণ দারিদ্র্যের অবসান এবং সম্পদ ও আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব। যেহেতু বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের সিংহভাগ জনসংখ্যা ভূমিহীন বা প্রান্তিক চাষীর দলে এবং এদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ জন্য দেশের ভূমি সংস্কারের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা অপরিহার্য।
ভূমি সংস্কারের লক্ষ্য-
(ক) কৃষি উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হার বৃদ্ধি;
(খ) আয়ের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা;
(গ) ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
(ঘ) এই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে-
(১) ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধি পর্যালোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত সংস্কার ও পরিবর্তন
(২) সরকারী খাস জমি ভূমিহীনদের মধ্যে গৃহীতব্য নীতিমালা অনুযায়ী বণ্টনের ব্যবস্থা। (৩) ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনাকে দক্ষ, উন্নত, দুর্নীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী করে পুনর্গঠন করা যাতে ভূমি সংস্কার কর্মসূচী বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
৫. শিল্পখাত
উন্নয়নশীল বিশ্বের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত শিল্প উদ্যোক্তা শ্রেণীর উপস্থিতি, বাজারের প্রতিযোগিতামূলক চরিত্র, পুঁজি বাজারের নির্দিষ্ট বিকাশ ছাড়া সফল শিল্পায়ন সম্ভব নয়। প্রকৃত শিল্পদ্যোক্তা-নির্ভর শক্তিশালী ব্যক্তিখাতের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা, লাভজনকতা ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ হবে বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির মাপকাঠি। উন্নয়ন অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানসমূহ দ্বারা সমর্থিত হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্প-কারখানার ভূমিকা সন্তোষজনক নয় এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ আদায়ের হারও খুবই নাজুক।
অন্যদিকে, সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ধস নামার কারণে রাষ্ট্রীয় খাতও তার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। দক্ষ ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় খাত পরিচালনা এবং যোগ্য শিল্পোদ্যোক্তাদের হাতে বৃহদায়তন-ক্ষুদ্রায়তন ব্যক্তি খাতের বিকাশ এই দুই উপাদানের সঠিক সমন্বয়ই হবে শিল্পনীতির বৈশিষ্ট্য।
রপ্তানীমুখিন শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের সকল প্রকার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই খাতকে জরুরী খাত হিসাবে ঘোষণা করে উৎপাদন ও রপ্তানীর ক্ষেত্রে যাতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এই পদক্ষেপ শুধু বর্তমান রপ্তানী শিল্পকেই উৎসাহিত করবে না, বিদেশী শিল্প বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করবে। দেশের শিল্পায়নের জন্য যথাযথ প্রযুক্তি নীতি, শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরামর্শ ব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সুনিশ্চিতকরণ, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
দেশের ভেতরে শিল্পায়নের উপযোগী পরিবেশ গড়ে উঠলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা খুঁজে পাবেন এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বেসরকারী বিনিয়োগও এদেশের প্রতি উত্তরোত্তর আকৃষ্ট হবে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পদ্যোক্তারা তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সীমিত বিত্তে শিল্পায়নের প্রক্রিয়ায় যথাসাধ্য অবদান রাখছেন। এ সব শিল্পদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত ঋণ, প্রযুক্তিগত সমর্থন ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করে তাদের রপ্তানীমুখী-শ্রমনিবিড় শিল্প দেশের সকল এলাকায় প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করা হবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও হস্তশিল্পের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
৬. শ্রমনীতি
উৎপাদন বৃদ্ধিতে শ্রমিক শ্রেণীর একনিষ্ঠ অবদান ব্যতীত শিল্পায়নের প্রচেষ্টা সফল হতে পারে না। মালিক শ্রমিক সম্পর্কের একটি সুস্থ নীতি নির্ধারণ তাই অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতার সঙ্গে শ্রম-মজুরীর সম্পৃক্ততা আবশ্যক। একই সঙ্গে ন্যূনতম মজুরীর নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
(ক) সরকারী ও বেসরকারী উভয় খাতে শ্রমিকদের দায়িত্বশীল শ্রম সংগঠন প্রতিষ্ঠার অধিকার সংরক্ষিত হবে।
(খ) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও ব্যক্তি খাতে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণকল্পে মালিক, শ্রমিক ও অন্যান্য প্রতিনিধি সমন্বয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমষ্টি দর কষাকষি ও বিবেচনার মাধ্যমে মজুরী নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হবে।
(গ) শিল্প বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং শিল্প-শাস্তি বিকাশের নিমিত্ত যৌথ আলাপ-আলোচনায়-আপোষ- মীমাংসা এবং বিচার-নিষ্পত্তি প্রভৃতি প্রক্রিয়াকে জোরদার করা হবে।
(ঘ) অনুসৃত শ্রম নীতিতে সম্পদের সাথে সংগতি রেখে শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, চিত্তবিনোদন ইত্যাদি বিভিন্ন শ্রমকল্যাণমূলক ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করা হবে।
(ঙ) আন্তর্জাতিক শ্রম কনভেনশনের বিধান মোতাবেক সকল শিল্প-বিরোধ মীমাংসার পদ্ধতিসমূহের উন্নতি সাধন করা হবে।
৭. অভ্যন্তরীণ সম্পদ সমাবেশ
দ্রুত স্বাবলম্বিতা অর্জনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিনিয়োগযোগ্য অভ্যন্তরীণ সমাবেশ বৃদ্ধির বিশেষ প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এই বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বৈদেশিক সাহায্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড সৃষ্টিতে বর্ধিত হারে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সমাবেশ করার জরুরী প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তা নিশ্চিত করতে অক্ষম হলে বৈদেশিক সাহায্যের ফলপ্রসূ ব্যবহার- যার উপর উন্নয়ন কাজ অধিকাংশে নির্ভরশীল তার সফল বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এজন্য রাজস্ব ও কর নীতিকে পুনর্বিন্যস্ত করা প্রয়োজন। কৃচ্ছ্রতা সাধন,
অপচয়রোধ, অনুৎপাদনশীল সরকারী ব্যয় ন্যূনতম মাত্রায় কমিয়ে এনে রাজস্ব ব্যয়-কাঠামোর উৎপাদনমুখিনতা বৃদ্ধি করা হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ সমাবেশ বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রীয় বণ্টনে অপচয় রোধ ও অপ্রয়োজনীয় সরকারী বায় পরিবার করার পাশাপাশি কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করা আবশ্যক। বিদ্যমান কর কাঠামোর মধ্যে সামান্য বিধান করে কর ভিত্তি সম্প্রসারিত করা হবে।
৮. বৈদেশিক সাহায্যের ব্যবহার
দ্রুত স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সম্পদ সমাবেশ ঘটানোর গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে বৈদেশিক সাহাযে সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এই সাহায্য যাতে জাতীয় অগ্রাধিকার ক্ষেত্রসমূহে যথাযথ নিয়োজিত হয় সেজন্য চাই— দক্ষ পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, অপচয়রোধ, সাহায্যের উৎপাদনমুখী ব্যবহার।
কেবলমাত্র জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে সেই সব বিদেশী পুঁজি ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করা হবে যা স্বাধীন জাতীয় পুঁজি বিকাশের সহায়ক হবে। প্রয়োজনীয় বৈদেশিক সাহায্য নেওয়ার সময় পরিমাণের উপর নজর না রেখে গুণগত মানের উপরই লক্ষ্য রাখা হবে। বৈদেশিক সাহায্যের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আহরণের উপর জোর দেয়া হবে।
৯. বহির্বাণিজ্য
বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্নততর অবস্থায় পৌঁছাতে হলে ও বৈদেশিক সাহায্যের মাত্রা কমিয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জনে ব্রতী হলে বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে-
(ক) দেশীয় শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানী পদ্ধতি সহজতর করা হবে। আমদানী কর এই
সবক্ষেত্রে অর্থনৈতিক যুক্তির মাপকাঠিতে পুনর্বিন্যাস করা হবে।
(খ) বিলাস দ্রব্যসহ অপ্রয়োজনীয় আমদানী নিরুৎসাহিত করা হবে। (গ) দেশীয় শিল্প কারখানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুত দ্রব্যাদির আমদানী নিরুৎসাহিত করা হবে।
(ঘ) রপ্তানী ক্ষেত্রে অপ্রচলিত দ্রব্যের রপ্তানী বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে ও রপ্তানী বহুধাকরণের প্রচেষ্টা চালানো হবে।
(ঙ) রপ্তানীর জন্য বিদ্যমান বাজার পুনর্বিন্যাস দ্বারা সুদৃঢ় করা হবে এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালানো হবে।
(চ) যে সকল শিল্পজাত ও কৃষিজাত পণ্যে বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা নেই সেই পণ্যের উৎপাদনে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে নতুন শ্রম-নিবিড় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে রপ্তানী বৃদ্ধি প্রচেষ্টা চালানো হবে।
১০. আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
সঞ্চয় ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এবং তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঋণ-নীতি গ্রহণের প্রয়োজনে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকায় নিয়ে আসা হবে। এই প্রক্রিয়ায় অবাধ অর্থনীতির প্রতিযোগিতা দৃশ্যমানতা সৃষ্টি ও প্রসারিত করা হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা হবে।
সেই সাথে ঋণ বিতরণে ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘকালের জমে ওঠা অনিয়ম, অপচয়, বিশৃংখলা ও নৈরাজ্য দূর করতে হবে। এর ফলে যেমন উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবেন, তেমনি মেয়াদ উত্তীর্ণ বকেয়া ঋণ আদায় দক্ষতা ও সামাজি উপযোগিতার মাপকাঠিতে ঋণ বরাদ্দের নীতি বাস্তবায়নের ফলে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়বে, নতুন উদ্যম ও সৃজনশীল বিনিয়োগের প্রসার ঘটবে।
বেসরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রদত্ত ঋণ বরাদ্দের উৎপাদনমু খাতকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টিও এই সূত্রে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সঠিক মুদ্রা নীতি, সুদের হার ও তার কাঠামো, সঞ্চয় হার এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের সুদের হারে সামঞ্জস্য বিধান করা প্রয়োজন। সেই সাথে দেশের পুঁজি বাজারের উপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সঞ্চায় অভ্যাসকে নানাভাবে উৎসাহিত করা হবে।
১১. মানব সম্পদ উন্নয়ন
রাষ্ট্রীয় অনুৎপাদনশীল ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে সামাজিক অবকাঠামো যথা- শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, সংস্কৃতি প্রভৃতি খাতের উপর বর্ধিত হারে গুরুত্ব আরোপ করা হবে। এক্ষেত্রে সব খাতের কেবল পরিমাণগত বিস্তৃতি যথেষ্ট নয়, বিষয়। ও গুণগত মানের প্রতিও যথাযথ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
দেশের সকল এলাকা যথাসম্ভব দ্রুত সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এসব খাতে ব্যয়কে দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ হিসাবে দেখতে হবে, দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে এসব খাতের সুবিধাদি লাভ করে তা নিশ্চিত করা হবে। সার্বিকভাবে দারিদ্রা নিরসনে এ সব খাতের ভূমিকা হবে তাৎপর্যপূর্ণ।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কার্যক্রম কেবলমাত্র সরকারী বা সংগঠিত বেসরকারী উদ্যোগ নির্ভর হয়ে পূর্ণ সাফল্য লাভ করতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপকভাবে সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের বিকাশ।জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী অবহেলিত নারী ও শিশুদের মর্যাদা, অধিকার ও ভাগ্যোন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
১২. ভৌত অবকাঠামো
কৃষি, শিল্প তথা সার্বিক উন্নয়নের জন্য ভৌত অবকাঠামোর ভূমিকাকে যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। শুধুমাত্র আন্তঃনগর যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার নয়, বরং প্রধান গুরুত্ব আরোপিত হতে হবে গ্রামাঞ্চলে সারা বছরের জন্য উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর। গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি অভিন্ন বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা হবে তাৎপর্যপূর্ণ। যা কৃষি ও শিল্পের উন্নয়নের সমন্বয় সাধন সুদৃঢ় করবে।
(ক) যমুনা বহুমুখী ও মেঘনা-গোমতি সেতুর প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পদ্মা-রূপসাসহ বিভিন্ন নদীসমূহের উপর সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
(খ) অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ যানবাহন ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট নির্মাণ, নদী সংস্কার ও রেলপথ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপকূলীয় পার্বত্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। দেশের সকল এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ তরান্বিত করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

১৩. বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের ব্যবহার
বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং তার ফলে বন্যার ভয়াবহ পরিণতি সমস্ত অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে, এই প্রেক্ষিতে বন্যা সমস্যা সমাধানে সকল আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রচেষ্টার সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে আলাপ আলোচনা করে সত্বর জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পানি-বণ্টনের প্রশ্নে বাংলাদেশের ন্যায্য জাতীয় চাহিদাকে সংরক্ষিত করে প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করা হবে। নদীসমূহের নাব্যতা সংরক্ষণ ও ভাঙ্গনরোধের লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৪. প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার
তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধানে স্বউদ্যোগে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এদের প্রয়োজনীয় বৈদেশিক প্রযুক্তি ও সাহায্য গ্রহণ করা হবে। ব্যাপক হারে বৃক্ষ রোপন, বনায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশ প্রতিবেশ সংরক্ষণ করার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
১৫. আঞ্চলিক সহযোগিতা
আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করে জাতীয় স্বার্থে উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তি, শিল্প, পরিবেশ এবং বাজারের ক্ষেত্র শনাক্তকরণে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন শোষণমুক্ত সোনার বাংলা নির্মাণের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে উপযুক্ত নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা জগৎসভায় একটি মর্যাদাবান ও সম্মানজনক অবস্থায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ইনশাল্লাহ্ সক্ষম হব।
