আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য

 জনগণের কল্যাণ সাধন

 এবং

অর্থনৈতিক মুক্তি

 

আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি

 

১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণ

এই বিশেষ কাউন্সিল এমন এক মুহূর্তে আমরা আহ্বান করেছি যখন সমগ্র জাতি ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনরত। ১৯৯২ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন সমাপ্ত হয় এবং প্রতি তিন বৎসরের জন্য কমিটি নির্বাচিত হয়।

সেই হিসেব অনুযায়ী এই সেপ্টেম্বরেই আমাদের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, কিন্তু জাতীয় জীবনে এক চরম সংকটময় মুহূর্ত বিরাজমান বিধায় কাউন্সিল অধিবেশন করবার মত সময় পাইনি, তাই বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে পরবর্তী কাউন্সিলের সময় নির্ধারণ করা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত মূল্যবান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবারও প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দেশ পরিচালনায় সর্বস্তরে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়েছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।

চাল ডাল ইত্যাদির মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। জাতীয় সংসদের বিগত নির্বাচনের পর সংসদে আমাদের সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত গঠনমূলক এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করেন। জাতীয় জীবনের নানা সমস্যা, যেমন কৃষকের সমস্যা, শ্রমিকের সমস্যা, পেশাজীবী, ছাত্র, শিক্ষক এবং সর্বস্তরের জনগণের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় বিএনপি সরকারের একদলীয় মনোভাবের কারণে যে সমস্ত প্রস্তাব পাশ করতে দেওয়া হয় না। অত্যন্ত জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনারও সুযোগ সংসদে যোগ হয়নি। ফলে সংসদ অকার্যকর করা হয়েছে। তদোপরি স্পীকারের ভূমিকাণ্ড পক্ষপাতদুষ্ট। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সংসদকে কার্যকর করবার কোন পদক্ষেপই তিনি কখনও গ্রহণ করেননি।

সংসদনেত্রী প্রথম যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার কোন ক্ষমতা ছিল না। কারণ তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন সমস্ত ক্ষমতার মালিক। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে আমাদের নির্বাচনের ওয়াদা অনুসারে আমরা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার দাবী করি । বিরোধীদলের পক্ষ থেকে উপনেতা আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেব একটি বিলও পেশ করেন।

প্রথমে সরকারী দল এর বিরোধী করে। কিন্তু আমাদের চাপের মুখে এবং ক্ষমতা হারাবার ভয়ে এই সরকার সংসদীয় পদ্ধতির বিল আনতে বাধ্য হয়। সংসদে আমরা ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাসীন করেছিলাম, এই আশা নিয়ে যে সংসদ কার্যকর হবে। জনপ্রতিনিধিরা বসে দেশের সমস্যা সমাধান করবে। কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতা মেহনতী

মানুষের নানা সমস্যার সমাধান আমরা করবো। কিন্তু আমাদের আশা পূরণ হয়নি। কিন্তু দেশবাসী লক্ষ্য করেছেন। সংসদকে কিভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। সংসদ কমিটিগুলোর দায়িত্ব মন্ত্রীদের দেয়া হয়েছে। সর্বকমিটিগুলির সভাপতি মন্ত্রী হওয়াতে সেখানে যে সব অনিয়ম হচ্ছে তা যাচাই করা বা শোধরানোর কোন সুযোগ নাই। কমিটিগুলিও কার্যকর হতে পারছে না।

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা কমিটির (ডিফেন্স) প্রধান হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোন কমিটি মিটিং তিনি করেননি। সংসদ কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ যে সমস্ত কমিটির তিনি সদস্য কোনদিনই সে সব কমিটির মিটিংয়ে যোগদান করেননি। সংসদে প্রশ্নোত্তর চলে এক ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী কোন প্রশ্নের উত্তর দেন না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কোন দিন কোন বিবৃতি প্রদান করেননি। সংসদকে কোন গুরুত্বই তিনি দেননি।

এক টানা প্রায় দুই মাস একটা অধিবেশনে মাত্র পঁয়তাল্লিশ মিনিট উপস্থিত থাকার রেকর্ড তিনি স্থাপন করেন । প্রতিটিঅধিবেশনে এভাবে সংসদকে তিনি অবহেলা করেছেন, অকার্যকর করেছেন। মন্ত্রী মাজেদুল হকের দুর্নীতির তদন্তেরজন্য সংসদীয় কমিটি গঠন করা হলেও সে কমিটিকে তারা কাজ করতে দেয়নি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সংসদে কমিটি করা হয়। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিছু সুপারিশমালা দেয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য কোন ব্যবস্থাও নেয়া হয় নি। এমনকি কমিটিকেও আর কাজ করতে দেয়া হয়নি। সংসদে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে অনেক প্রস্তাব আনা হয়।

১৯৯৩ সালের ৯ই জানুয়ারী নৌ-পুলিশ গঠনের প্রস্তাব ভোটে পাশ হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর করবার কোন ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ না করে সংসদকে চরম অবহেলা করেছে। সরকারের কোন নীতি নির্ধারণী বক্তৃতা তিনি কখনও দেন নি।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা প্রতি গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, মদ জুয়া নিষিদ্ধ, পাটের মূল্য মণ প্রতি ৫০০ টাকা, কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুদান ৫০০ শত টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করা, ডিজেলের মূল্য বোরো মৌসুমে ৭ টাকা লিটার করা, বিভিন্ন বিষয়ে কয়েক শত প্রস্তাব আনে

কিন্তু সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা নাকচ করে দেয়। ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা হয়, সংসদনেত্রী অনুপস্থিত থাকায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাই।

পররাষ্ট্রনীতি এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত ইশতেহারের ১১ অনুচ্ছেদ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চাইলেও তার সুযোগ দেয়া হয় নি। প্রধানমন্ত্রীও ঐ বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা বা বিবৃতি সংসদে দেন নি। ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে ভারতের কাছে দাসখত লিখে দিয়ে আসেন।

এ বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে আমরা দেখতে পাই প্রধানমন্ত্রী একবার এদিকে তাকাচ্ছেন একবার ওদিকে তাকাচ্ছেন, ভাবখানা যেন ১১ অনুচ্ছেদে কি ছিল। উনি সেটা জানেনই না, কিন্তু লিখে পড়ে দিয়ে এসেছেন। কত বড় লজ্জার কথা একবার বিবেচনা করেন।

আজকে দেশের অবস্থা দেখেন, বিদেশী পণ্যের বাজারে পরিণত হয়েছে দেশ। ভারতীয় পণ্যের ফলে দেশের কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশকে তারাই বিক্রি করেছে ভারতের কাছে, বদনামের বেলা আওয়ামী লীগ।

শুধু তাই নয়, আমরা দীর্ঘ দিন সংগ্রাম ও আন্দোলন করেছিলাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বিএনপি সরকারের হাতে জনগণের ভোট দেবার কোন স্বাধীনতা নেই, বিভিন্ন উপ-নির্বাচনে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আপনারা দেখেছেন ওরা কিভাবে ভোট কারচুপি করেছে।

 

ঘোষণা দিয়ে ফলাফল পরিবর্তন করেছে মিরপুরে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছে। ঢাকার মেয়র নির্বাচনের পরদিন ভোটারদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। মাগুরা উপ-নির্বাচনের কথা সর্বজনবিদিত। এই সরকারের অধীনে ভোটারের জীবনের নিরাপত্তা ও ভোট দেবার অধিকার নেই।

আমার দেশের কৃষক গরীব। সে কৃষকের বুকে এই সরকার গুলি চালিয়েছে। অথচ আপনারা জানেন, এই কৃষককে বাঁচাবার জন্য সার নিয়ে সমস্যা হতে পারে সে কথা চিন্তা করে আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিতে কৃষকদের বাঁচার কি কি উপায় হতে পারে তার জন্য সুপারিশমালা পাঠাই।

দুঃখের বিষয় প্রধানমন্ত্রী সে চিঠির কোন উত্তর দেন নাই। কৃষকের সমস্যার কোন গুরুত্ব দেন নাই। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম সার চুরি করে বিএনপির মন্ত্রী, এমপিরা কোটি কোটি টাকা আয় করলো। আর সারের দাবীতে আমার কৃষক অধিক ফসল ফলানোর জন্য, আমাদের

মুখে অন্ন যোগানোর জন্য বিনিময়ে পেল গুলি। ১৮ জন কৃষককে এই সরকার হত্যা করেছে। শ্রমিকদের তারা ছাঁটাই করেছে। কিন্তু কোন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বেকার সমস্যা দূর করতে পারছেন না, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলেন না। আমরা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের জন্য এবং শিল্পকে বাঁচাবার জন্য সুপারিশ করলাম।

বিএনপি আমলে ছোটখাটো মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার কল-কারখানা বন্ধ হয়েছে। শ্রমিক বাঁচাও-শিল্প বাঁচাও এই মর্মে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া আমার পত্রের উত্তরও তিনি আজ পর্যস্ত দেন নাই । তিনি তা গ্রহণ করলেন না বর্জন করলেন তাও আজ পর্যন্ত জানতে পারলাম না।

শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন করলেন না, সেজন্য শ্রমিকরা আন্দোলন করলে, মাত্র এক মাসে গুলি করে ১৭ জন শ্রমিককে হত্যা করলো বিএনপি সরকার। বিএনপি সরকারের হাতে শত শত ছাত্র নিহত হয়েছে। পুলিশ নিহত হয়েছে। ব্যবসায়ী খুন হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে আমাদের নেতা-কর্মী খুন হয়েছে।

মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারাও বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত ও নিগৃহীত করা হয়েছে। আমরা সংসদে হেবরনের মুসলমানদের হত্যার প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম। নির্বাচনের সময় খুনী বিএনপি ইসলামের একমাত্র ধারক বাহক হয়ে যায়, আর আওয়ামী লীগের সময় নাকি ইসলাম থাকে না।

অথচ সংসদে আমরা কি দেখলাম, হেবরনে হত্যার প্রতিবাদে এক প্রস্তাব নিতে চাইলাম, যাতে সংসদের প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় পাঠানো যায়। কিন্তু বিএনপি সেটা নিয়ে কোন আলোচনার সুযোগ দিল না। উপরন্তু তার মন্ত্রীরা এমন সব অশালীন মন্তব্য ও উক্তি করেন যাতে আমরা সংসদ ছেড়ে আসতে বাধ্য হই।

আমরা এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি, রক্ত দিয়েছি। কিন্তু এ সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব, আচার-আচরণ এবং ভোট চুরি, ভোট কারচুপির প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে গেলাম এবং একটি পর্যায়ে আমরা নির্বাচন দাবি করলাম এবং সংসদ থেকে আমরা পদত্যাগ করলাম।

আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে যথেষ্ট সময় দিয়েছিলাম চিন্তা ভাবনা করবার। কিন্তু সরকার সে দাবি মানল না। সংসদ সদস্যদের দাবি দাওয়ার প্রতি এতটুকু সম্মান দেখাল না। সমগ্র দেশবাসীর যে দাবী তার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আমরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলাম।

যে সংসদে থেকে জনগণের কথা বলতে পারব না, যে সংসদে জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারব না, সে সংসদে বসে আমরা ভাতা খাবো, আর সংসদ সদস্যপদ ভোগ করবো, এজন্য তো জনগণ আমাদের ভোট দেয়নি। আমরা জনগণের পাশে এসে দাঁড়ালাম।

 

আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি

 

দুঃখের বিষয় আমরা লক্ষ্য করলাম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলেন, সংবিধান মোতাবেক চলার কথা বলেন, আমার প্রশ্ন এই সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য যদি পদত্যাগ করবার অধিকার রাখেন, সেই সংবিধানের ধারা উপেক্ষা করে তারা আমাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলো না কেন? আর স্পীকারও সংবিধান লংঘন করে রুলিং দিলেন কেন? সংসদ সদস্য হিসাবে পদত্যাগ করার এতোটুকু স্বাধীনতাও কি আমাদের থাকবে না?

প্রধানমন্ত্রী একদিকে বলেছেন সংবিধান রক্ষা করবেন, আর একদিকে বলছেন নির্বাচনের ৩০ দিন পূর্বে পদত্যাগ করবেন, আমার প্রশ্ন সংবিধানের কোন ধারায় এ কথা আছে? এটা কি স্ববিরোধিতা নয়?

আমাদের কথা স্পষ্ট। ৯০ দিন পূর্বে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভোটার লিষ্ট সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজাবার প্রয়োজন রয়েছে, প্রশাসনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাবার প্রয়োজন রয়েছে, তার জন্য পর্যাপ্ত সময় দরকার বলেই ৩০ দিন নয়, ৯০ দিন পূর্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এই দাবীতে আন্দোলন সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আপনাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

১৯৭৫ সনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান শহীদ হবার পর বিগত ২০ বছর দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা স্বাস্থ্যসহ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও নৈরাজ্য দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই অবস্থা বিবেচনায় রেখে দেশ ও জাতিকে নৈরাজ্য ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য এই কাউন্সিলে দলীয় নীতিমালা ও কর্মসূচী ঘোষণা করছি।

Leave a Comment