আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক কর্মসূচী। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক কর্মসূচী

অর্থনৈতিক নীতিমালা : জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে মূল দৃষ্টিভঙ্গী উন্নয়ন :
আওয়ামী লীগের আদর্শ জনকল্যাণমুখী এক শোষণমুক্ত উন্নত সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা। আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক মুক্তি এবং স্বনির্ভর অর্থনীতি। দীর্ঘ পনের বছরের স্বৈর শাসনামলে এবং তার পরবক্তা প্রায় পাঁচ বছরের নব্য স্বৈরাচারের সীমাহীন দুর্নীতি, অবাধ লুটপাট, চোরাচালান, পুঁজি পাচার, সীমিত সম্পদের অপচয় এবং অপব্যবহার গোটা অর্থনীতিকে করে ফেলেছে পঙ্গু, স্থবির ও পরনির্ভরশীল।
গত বিশ বছরের অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও ভ্রান্তনীতির ফসল হলো, নিম্ন মানের প্রবৃদ্ধি, সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগের স্বল্পতা, হাজার হাজার দেশীয় শিল্প কারখানার অকালমৃত্যু বা রুগণ অবস্থা, খাদ্য ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ, অর্থনৈতিক মন্দা, অবনতিশীল ও পুঞ্জীভূত দারিদ্র্য, প্রকটতর দুর্বিষহ বেকারত্ব।
এই পঙ্গু ও নাজুক অর্থনীতির সমস্যাসমূহ দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য দেশবাসীকে ন্যূনতম ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় পুনর্গঠন কর্মসূচীতে একত্রিত হতে হবে। উচ্চহারের প্রবৃদ্ধি অর্জন, প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারায় ন্যায়সঙ্গত সামাজিক বণ্টন, উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং ক্রমান্বয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন- এই চার মূল ধারায় সমন্বিত হবে আমাদের সকল উন্নয়ন প্রয়াস।
রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে একই সাধারণ লক্ষ্যে পরিচালিত করাই হবে আজকের যুগের উন্নয়ন দর্শনের মূল কথা। জনকল্যাণমুখী নীতিমালা ও উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্যসমূহের অন্যতম হবে দারিদ্র্য নিরসন। দারিদ্র্য নিরসনে বা ক্রমবর্ধমান জনশক্তির দ্রুত কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বা পরনির্ভরশীলতা হ্রাসকল্পে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে বেগবান করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
উচ্চতর প্রবৃদ্ধি সর্বক্ষেত্রে দারিদ্র্য নিরসনে সহায়ক নয়। তাই শুধুমাত্র সেই প্রবৃদ্ধিকেই গ্রহণ করতে হবে এবং তার জন্য সমন্বিত মেধা, শ্রম ও সম্পদ বিনিয়োগ করা হবে যে-প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য দূরীকরণ দ্রুত নিশ্চিত করে। এরূপ বিনিয়োগের মাধ্যমে সকল নাগরিকের জন্য অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করা হবে।
সকলের জন্য স্বাস্থ্য, সকলের জন্য শিক্ষা ও সকলের জন্য বাসস্থান ইত্যাদি কর্মসূচীর আওতায় সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্রের জন্য স্বাস্থ্য, দরিদ্রের জন্য শিক্ষা, দরিদ্রের জন্য বাসস্থান ইত্যাদির লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। যেহেতু দারিদ্র্য সীমার নীচে নিপতিত অধিকাংশ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বাস করে, সেহেতু গ্রামীণ অর্থনীতির সামগ্রিক পুনরুজ্জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
এই লক্ষ্যে উন্নত ভৌতকাঠামো সৃষ্টি ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রবৃদ্ধিমূখীন এই বিনিয়োগের প্রক্রিয়ায় জনগোষ্ঠীর যে অংশ অবহেলিত থাকবে তাদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। একই সাথে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের উপর জোর দেয়া হবে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী যে পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে তার প্রেক্ষাপটে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে এবং যোগ্য উদ্যোক্তাদের হাতে ব্যক্তিখাতে সৃজনশীল, স্বাধীন ও স্বাভাবিক বিকাশের পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে সক্ষম হয় তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে অন্যায়ভাবে এই বাজার-ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ করতে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। বাজার-ব্যবস্থায় দেশীয় শিল্প যেন অনায্য। বিদেশী প্রতিযোগিতার ধাক্কায় ধ্বংস না হয় তার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনায় এবং সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের ভূমিকা হবে সহায়ক ও সম্পূরক। ব্যক্তি মালিকানাধীন কোন আর্থিক বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হবে না।

রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অদক্ষতা এবং অনভিপ্রেত অলাভজনকতা দূর করে দক্ষ ব্যবস্থাপনা-পদ্ধতি ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার-ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ধারায় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এগুলোকে লাভজনক করতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় রাষ্ট্রীয়বার রাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিখাতের অবাধ ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ও স্থানীয়ভাবে স্বপ্রণোদিত সমবায় প্রচেষ্টাকে সর্বাত্মকভাবে উৎসাহিত করা হবে।
