স্থানীয় সরকার পদ্ধতি 

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –স্থানীয় সরকার পদ্ধতি  । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

স্থানীয় সরকার পদ্ধতি 

 

স্থানীয় সরকার পদ্ধতি 

 

যে কোন গণতান্ত্রিক ও জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরাজমান দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সঠিকভাবে জনহিতকর উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন। আমাদের মত দরিদ্র দেশে জনসাধারণের জন্যে ন্যূনতম খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে সত্যিকার অর্থে জনহিতকর কার্যক্রম। আর এ দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সাফল্যের সঙ্গে পালনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

বর্তমানে বাংলাদেশে সমস্ত উন্নয়ন ও সমাজ সেবামূলক কর্মকা- প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হয় আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে- এ-দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নেই। ইংরেজ ও পাকিস্তান আমল থেকেই সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয়ভাবে কুক্ষিগত করা হয়েছে।

প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে এইসব নীতি নির্ধারণে ও প্রকল্প বাস্তবায়নে এক অগণতান্ত্রিক প্রথা চালু হয়ে আসছে। অথচ পৃথিবীর অন্যসব গণতান্ত্রিক ও উন্নত দেশে এ দায়িত্ব পালনে স্থানীয় উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পালন করে থাকে।

ফলে স্থানীয়ভাবে সকল সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন যেমন সঠিক ও দ্রুত সম্ভব, তেমনি এর সাফল্যও জনগণের ইচ্ছা এবং চাহিদার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই স্থানীয় সমস্ত উন্নয়ন কর্মকা-ে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করাই শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মুখ্য উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে এই লক্ষ্য অর্জনে এক শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর। আমাদের ঘোষণাপত্রে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত স্তরসমূহের শাসনভার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির উপর ন্যস্ত রাখার অঙ্গীকার দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু এক শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলে এ দেশের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যে আশা ব্যক্ত করেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে বিভিন্নস্তরে জন প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাই কেবল মাত্র বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন সফল করতে পারে।

এই উপলক্ষে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদকে আরও বেশী কার্যকর ও গণমুখী করে গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে, যাতে করে ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কর্মকা- প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এই পরিষদ স্বাধীনভাবে দায়িত্বপালনের সুযোগ পায়।

 

এর জন্যে পর্যাপ্ত সরকারী অনুদান ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের আয় বাড়ানোর জন্যে পরিষদকে স্থানীয় বিভিন্ন খাত হতে কর আদায়ের ক্ষমতা দেয়া হবে। গ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যথার্থ ভূমিকা পালনের জন্যে গ্রাম-পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করে তাদের নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হবে।

স্থানীয় পর্যায়ের কৃষি, সেচ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রাইমারী শিক্ষা ব্যবস্থা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী, সমবায়, পশুপালন ও মৎস্য-চাষ, গ্রাম রাস্তা নির্মাণ ও সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ সহ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের পূর্ণ দায়িত্ব জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচিত এই পরিষদের উপর ন্যস্ত করা হবে।

আমরা মনে করি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে নানা পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নিয়ে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গঠনের যুক্তি অত্যন্ত জোরালো। বর্তমানে আমাদের দেশে গড়ে প্রতি থানায় আড়াই লক্ষ থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ৫ লক্ষ পর্যন্ত লোক বাস করে। এই বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ও সামাজিক সুযোগ সুবিধার উন্নয়ন সাধনে থানা পরিষদ এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করা ছাড়াও মাধ্যমিক শিক্ষা, সমবায়, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ব্যাপকভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এই পরিষদের উপর ন্যস্ত করা হবে।

থানায় সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীগণ পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থেকে এই সব উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পরিষদকে সহযোগিতা দান করবেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানের জরাজীর্ণ জেলা পরিষদকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্যকরী ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার পরিষদে রূপান্তরিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

গড়ে প্রায় ২০ লক্ষ লোক অধ্যুষিত বর্তমান জেলাসমূহের প্রত্যেকটিতে যথার্থভাবে জনগণের কল্যাণমুখী উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এই সব কর্মকা-ের সার্বিক সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে শক্তিশালী জেলা পরিষদ গঠন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

ঘুণে ধরা বর্তমান জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণভার সরকারী কর্মকর্তাদের উপর ন্যস্ত অথচ জনগণের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হলে এই পরিষদ জেলায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সার্বিক কল্যাণে নিঃসন্দেহে এক বিরাট অবদান রাখতে পারে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, শ্রমিক সমস্যা সমাধান, সেচ, কৃষি ও পশুসম্পদ বৃদ্ধি, মৎস্য উন্নয়ন, সমবায়, ক্ষুদ্র ও কুটীর শিল্পের উন্নয়ন, সমাজসেবা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য মজুদ ও সরবরাহ, কৃষি উপকরণ বিতরণে সহযোগিতা, ত্রাণ কার্য পরিচালনা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, পল্লী-বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে এই পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে।

জেলা পরিষদ সরকারী অনুদান ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে ও খাতের উপর কর ধার্য করে। নিজস্ব আয় বৃদ্ধির ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে। জেলা পর্যায়ে নিযুক্ত বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক বিভাগের কর্মকর্তাগণ পরিষদের প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পরিষদের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।

 

স্থানীয় সরকার পদ্ধতি 

 

দেশের সিটি কর্পোরেশন এবং মিউনিসিপ্যালিটিসমূহ উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে কার্যকরী ও অর্থবহ অবদান রাখতে সক্ষম। এই সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করা হবে।

এই সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে সে জন্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত পুলিশবাহিনী, ওয়াসা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, গৃহ নির্মাণ প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য ও তার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগকে সিটি কর্পোরেশনের ও ক্ষেত্র বিশেষে মিউনিসিপ্যালিটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হবে। 

Leave a Comment