শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতি

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতি

 

শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতি

 

শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতি

  • শিক্ষকদের পেশাগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ৫টি হায়ার সেকেন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়। ৯.৮৭৮ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়।
  • ২০০১-২০০২ সালের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৬,০২৮ কোটি টাকা। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে অর্থাৎ ৯৫-৯৬ সালে এক্ষেত্রে যেখানে বরাদ্দ ছিল ৩,৫২২ কোটি টাকা, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে সেখানে বরাদ্দ ৬৬ শতাংশ বাড়ানো হয়।

 শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ

  • বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের সরকারি বেতনের ৯০ ভাগ অনুদান দেয়া হতে থাকে। পাঁচ বছরে এই খাতে ব্যয় দ্বিগুণ করা হয়।
  • কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রসারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার কোর্স প্রবর্তনের প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার।
  • আনুমানিক ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার’ নামে একটি অত্যাধুনিক প্ল্যানেটোরিয়াম স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
  • জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রকাশিত পাঠ্য পুস্তকসমূহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
  • আওয়ামী লীগ সরকার আমলের শেষ বছরে প্রতিটি থানার একটি বিদ্যালয়ে এসএসসি ভোকেশনাল কোর্স প্রবর্তনের লক্ষ্যে ১১৯.৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। স্থাপিত হয় ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
  • বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট পূর্বতন খালেদা জিয়ার সরকার বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার ৫০ কোটি টাকা দিয়ে এই ট্রাস্ট আবারও চালু করে।
  • বিগত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবনের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে। 
  • এসএসসি, এইচএসসি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সকল পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণের কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়। ফলে দ্রুত ফল প্রকাশ ও সনদপত্র প্রদান করা সম্ভব হয়।
  • নকল প্রতিরোধে ১৯৯৮ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৩ দফা কার্যক্রম গ্রহণ করেছিল, যার সুফল হাতেনাতে পাওয়া যায়।
  • আগে সকল পরীক্ষায় কোনো-না-কোনো বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া প্রায় নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পরীক্ষা বিষয়ক ২৩ দফা কার্যক্রম গ্রহণ করায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা ক্রমশ কমে আসার দিকে ছিল।
  • ১৯৯৮ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের মেরামত, সংস্কার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে ৩৯ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।
  • সরকারি ও বেসরকারি নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডাবল শিফট চালু ও সম্প্রসারণ করার ফলে ১০ লক্ষ ৪৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী উপকৃত হয়।
  • নতুন জাতীয়করণ করা সরকারি মহিলা কলেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অগ্রসর করে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছিল।
  • ১৬টি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও চলছিল।
  • বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতার শতকরা ৯০ ভাগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রসারের জন্য

  • ১৯৯৯ সালের জুন পর্যন্ত ৭,২১৪টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৭১টি সরকারি বিদ্যালয়, ১,৭৪১টি বেসরকারি মাদ্রাসা ও ৩টি সরকারি মাদ্রাসা ভবনের নির্মাণকাজ হাতে নেয়া হয়।
  • সারাদেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার কাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ৬টি নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।
  • চট্টগ্রামে একটি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
  • মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য গাজীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়।
  • বিভাগীয় সদরে তিনটি নতুন মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য ২০০১-০২ অর্থবছরে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে অভিযান

  • আগামী ২০০৬ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
  • আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র পাঁচ বছরে দেশে সাক্ষরতার হার ৪৪ শতাংশ থেকে। ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়।
  • আমাদের সরকার ১৪০৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সমন্বিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৭ হাজার নিরক্ষরকে সাক্ষর করা হয়।
  • সার্বিক নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। দেশের ২ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার নিরক্ষর এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাক্ষর হওয়ার সুযোগ লাভ করে। এতে ব্যয় হয় ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
  • আওয়ামী লীগ সরকার তার শাসনামলের পাঁচ বছরে কয়েকটি জেলাকে নিরক্ষরমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করে।

 প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যক্রম

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা দেড় গুণ বৃদ্ধি পায়।
  • বিদ্যালয়হীন প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।
  • প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির অধীনে ৬ কোটি নতুন বই বিতরণ করা হয়।
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির হার বৃদ্ধি, শিশুশ্রম রোধ ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধকল্পে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি জোরদার করা হয়।
  • ৪ হাজার স্যাটেলাইট বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের সূচনা করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৩৩ হাজার শিক্ষক উপকৃত হয়।
  • প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদানের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

নারী শিক্ষার উন্নয়নে

  • নারী শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে প্রায় ৭০ হ শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয় ।
  • নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০০০ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৪০ লক্ষ ছাত্রীকে উপবৃত্তি দেয়া হয় প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫ বছরে ১৮টি জেলা সদরে।১৮টি কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়।
  • বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে একটি করে মহিলা কলেজ স্থাপন করা হয়।বিদ্যমান ২০টি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানের আধুনিকীকরণ ও ১৫টি নতুন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য ২১.৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

 

শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতি

 

 জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রণয়ন

  • ড. কুদরত-ই-খুদা কমিশনের ভিত্তিতে একটি নতুন গণমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা নীতি আওয়ামী 
  • ১৩টি নতুন পেশাদারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং প্রতিটি উপজেলায় নির্বাচিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল কোর্স প্রবর্তনের কাজ এগিয়ে নেয়া হতে থাকে। এ দুটি প্রকল্পে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

Leave a Comment