আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনী। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনী

বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনী
পূর্ব পাকিস্তান বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনী (ইপকাফ)
১৯৭১ সালের মার্চে সামরিক অভিযানের পর ইপকাফ’ গঠন করা হয়। এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার। পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের অবাঙালিদের নিয়ে মূলত এ বাহিনী গঠন করা হয়। তাদের অস্ত্রশস্ত্র, সাজ- সরগ্রাম এবং প্রশিক্ষণ সুবিধার মারাত্মক ঘাটতি ছিল।
তারা সীমান্তে বিএপি প্রহরায় প্রয়োজনীয় কাজের যোগান দেয় এবং মারাত্মক বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে। তারা ভেতরেও কয়েকটি অবস্থানে শক্তি বৃদ্ধি করে। যেখানে তারা।
সেনাবাহিনীর সহযোগিতা পেয়েছে সেখানে তারা বেশ দক্ষতা দেখাতে পেরেছে। কিন্তু যেখানে তারা সে রকম সহযোগিতা পায় নি সেখানে তারা শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম আঘাতেই তারা তাদের অবস্থান ত্যাগ করে।
ভালনারেল পয়েন্ট ফোর্স (ডিপিএফ)
৩ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত এ বাহিনীর কাজ ছিল গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও রেল সেতু, গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্থাপনা, যোগাযোগ কেন্দ্র প্রভৃতি রক্ষা করা। এ বাহিনীতে ছিল ২২টি কোম্পানি। এর মধ্যে ৮টি কোম্পানি গঠিত হয় প্রাক্তন সৈনিকদের নিয়ে। এদেরকে নিয়োগের সাথে সাথে মোতায়েন করা হয়।
বাকি ১৪টি কোম্পানি গঠিত হয় প্রশিক্ষণবিহীন লোকজন নিয়ে। এ কারণে এদের প্রশিক্ষণে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। ফলে এদের মোতায়েন করতে বিলম্ব ঘটে। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ তাদেরকে মোতায়েন করা যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে তার আগে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে যায়।
শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (আইএসএফ)
এ বাহিনীর গঠন ও শক্তি ছিল অনেকটা ভিপিএফ-এর মতো। পশ্চিম পাকিস্তানি লোকজনকে নিয়ে এ বাহিনী গঠন করা হয়। তাদেরকে মিল-কারখানা ও শিল্পাঞ্চলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ বাহিনীর ২২টি কোম্পানির মধ্যে ৮টি গঠিত হয় প্রাক্তন সৈন্যদের নিয়ে।
সুতরাং পূর্ব পাকিস্তানে গিয়ে পৌঁছানো মাত্র আমরা তাদেরকে মোতায়েন করতে পারতাম। বাদ-বাকিরা ছিল প্রশিক্ষণবিহীন। তাদের প্রশিক্ষণেও একইভাবে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। তাই তাদেরকে সরাসরি সার্ভিসে পাঠানো যায় নি। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ তাদেরকে সার্ভিসে পাঠানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে তার আগে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে যায় ।

ইপকাফ বিশেষ বাহিনী
সর্বোচ্চ ১০ হাজার সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ ‘ইপকাফ’ বাহিনী গঠন করা হয়। এ বাহিনীর লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানে ইপকাফের শক্তি বৃদ্ধি করা। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এ বাহিনীকে পূর্ব পাকিস্তানে মোতায়েন করা সম্ভব হয় নি।
