প্রতিরক্ষা পরিচালনা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ প্রতিরক্ষা পরিচালনা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

প্রতিরক্ষা পরিচালনা

 

প্রতিরক্ষা পরিচালনা

 

প্রতিরক্ষা পরিচালনা

১৯৭১ সালের মে নাগাদ ৫০ শতাংশ বিদ্রোহীকে নিরস্ত্র করা হয়। বাকিরা তাদের পূর্ব পরিকল্পিত নিরাপদ ঘাঁটিতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ভারতীয়রা সীমান্ত বরাবর ৫৯টি ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। এসব ক্যাম্পে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসজ্জিত করা হতো। তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে ছিল উদ্বুদ্ধকরণ এবং আদর্শিক দীক্ষা দান।

মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দানে ভারতীয়রা একজন মেজর জেনারেলকে নিযুক্ত করে। এসব ক্যাম্পে যেসব মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল অস্ত্র চালনা। তবে কমান্ডো প্রশিক্ষণ এবং বিস্ফোরক, মাইন, গ্রেনেড প্রভৃতি ব্যবহারের ওপরও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হতো।

যুদ্ধের জন্য প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় একটি অগ্রবর্তী ব্যূহ গঠনের বিষয় বিবেচনা করা হয়। পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয় যে, সৈন্যদেরকে পর্যায়ক্রমে সীমান্ত থেকে দুর্গগুলোতে প্রত্যাহার করা হবে এবং দুর্গগুলোতেই হবে চূড়ান্ত লড়াই।

 

এখানে শত্রুকে থামিয়ে রাখতে হবে যাতে ওয়েস্টার্ন গ্যারিসন তাদের মিশন অর্জনে পর্যাপ্ত সময় পায়। পূর্ব রণাঙ্গনের যুদ্ধ করা হবে পশ্চিম রণাঙ্গনে। এটাই ছিল প্রতিরক্ষার মূলনীতি। পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধের ফলাফলের ওপর শুধু ইন্টার্ন গ্যারিসন ও পূর্ব পাকিস্তান নয়; গোটা পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ভরশীল ছিল।

এ যুদ্ধ করার কথা ছিল জেনারেল টিক্কা খানের নেতৃত্বাধীন রিজার্ভ বাহিনীর। আমার শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য মুজাহিদ ও সিএএফ-এর সমন্বয়ে ইউনিটগুলোকে পুনগঠিন করা হয়। অগ্রবর্তী পদাতিক বাহিনীর উভয় পার্শ্ব ও পেছন দিক ব্ৰহ্মায় ইঞ্জিনিয়ারিং বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়।

একইভাবে, পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা দানে গোলন্দাজ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মাইন ও তাদের ঘাটতি থাকায় পুঞ্জি (বাঁশের তীক্ষ্ণ শলা) পোঁতা হয়। বিশাল এলাকায় পুঞ্জি পোঁতা হয়। শত্রুর ট্যাংক ও যানবাহন চলাচল ব্যাহত করার জন্য কৃত্রিম বন্যা ঘটানো হয় ব্যাপক এলাকায়।

 

প্রতিরক্ষা পরিচালনা

Leave a Comment