ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগনাল

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগনাল। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগনাল

 

ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগনাল

 

ইঞ্জিনিয়ার্স

আমাদের ইঞ্জিনিয়ারগণ পূর্ব পাকিস্তানের সংকটকালে মহৎ কাজ করেছেন। তাদের বিশ্রাম নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। অনেক সময় আমরা ইঞ্জিনিয়ারদের পদাতিক সৈন্য হিসেবে ব্যবহার করেছি।

তাদেরকে ঘাঁটি রক্ষার দায়িত্ব অথবা গেরিলাদের গোপন আস্তানায় পদাতিক বাহিনীর অভিযানকালে অথবা অন্যান্য হামলায় পদাতিক বাহিনী এগিয়ে গেলে পদাতিক বাহিনীর পার্শ্বভাগ রক্ষার দায়িত্বও তাদের পালন করতে হতো।

সেতু নির্মাণ ও মেরামতের মাধ্যমে তারা পদাতিক বাহিনীর অগ্রযাত্রায় সহায়তা দিতো।এ ছাড়া তারা রাস্তাঘাট এবং রেলসড়ক চলাচল উপযোগী রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করতো। সুরক্ষিত ঘাঁটি এবং দুর্গ প্রস্তুত ও নির্মাণে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতেন। ইঞ্জিনিয়ার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন ব্রিগেডিয়ার ইকবাল শরীফ।

 

তিনি খুবই সাহসী এবং পরিশ্রমী ছিলেন। বিপদশংকুল জায়গা এবং শত্রুর হামলাকালে তিনি তার সৈনাদের অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতেন। নিজের জীবনের ঝুঁকির চিন্তা না করে তিনি সম্ভব সংক্ষিপ্ততম সময়ে বিমানক্ষেত্র মেরামত করতেন।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ-কর্ম দেখাশোনা করতেন। যোগাযোগ, সেতু ও রাস্তাঘাট পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো দুরূহ কাজে তার দক্ষতার কোনো তুলনা হয় না। ঢাকায় তাকে একটি সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। এবং তিনি অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে তার সেক্টরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠিত করেন।

সিগনাল

বরাবরই আমাদের সিগনালের তৎপরতা ছিল অত্যন্ত ভালো। তারা শেষদিন। পর্যন্ত জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স এবং অগ্রবর্তী ইউনিটের সাথে আমাদের “যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। এ কৃতিত্বের দাবিদার হচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার আরিফ রেজা। ব্রিগেডিয়ার রেজার দায়িত্ব ছিল খুবই কঠিন এবং তার সম্পদ ছিল। অপর্যাপ্ত। কিন্তু তিনি যোগাযোগ সমস্যার জট খুলতে খুবই দক্ষতার পরিচয়। দিয়েছেন।

 

ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগনাল

 

নবগঠিত এডহক ফরমেশনগুলোর জন্য যন্ত্রপাতি, সুযোগ-সুবিধা ও জনশক্তি সরবরাহে তার অবদান অতুলনীয়। ভারতীয়দের এগিয়ে আসার পূর্ব মুহুর্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া নাগাদ তিনি সকল ইউনিট, ফরমেশন ও জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের মধ্যে যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন।

Leave a Comment