আজকে আমরা আলোচনা করবো গণতন্ত্রী দল গঠন নিয়ে
এটি পাকিস্তানের প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল। ১৯৫৩ সালের ১৯ জানুয়ারি মাহমুদ আলি ও হাজি মুহাম্মদ দানেশ এর প্রতিষ্ঠা করেন। দানেশ এর প্রথম প্রেসিডেন্ট হন। গণতন্ত্রী দল স্বাধীন বৈদেশিক নীতির জন্য আহ্বান জানায় এবং মুসলিম লীগের পাশ্চাত্যপন্থি নীতির বিরোধিতা করে। দলের ইশতেহারে কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সামন্ততন্ত্র বিলুপ্তি, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, কমনওয়েলথ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, পাট বাণিজ্যের জাতীয়করণ, নারীদের সমান অধিকার ও সংখ্যালঘুদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমান অধিকার এবং পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ভিসার প্রথা বাতিলের দাবি জানায়।
মাহমুদ আলি পরে দলের প্রেসিডেন্ট হন এবং যুক্তফ্রন্টের সাথে জোট গঠন করেন। যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়।
দলের নিজস্ব পতাকা ছিল। এটি ছিল অর্ধেক লাল ও অর্ধেক নীল। লাল ছিল চাষের প্রতীক, এ দ্বারা অগ্রগতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি বোঝায়। তিনটি তারাসহ নীল দ্বারা বোঝায় বুর্জোয়া, শ্রমজীবী ও কৃষকদের মধ্যে শান্তি ও মিত্রতা।

গণতন্ত্রী দল গঠন
১৯৫৩ সালের জানুয়ারি মাসে গঠিত হয় গণতন্ত্রী দল। এই পার্টি গঠনে কমিউনিস্ট পার্টি খুব উৎসাহিত ছিল না। আওয়ামী লীগ করতে সম্মত নন, এমন বামপন্থি এবং পার্টি সদস্যদের চাপে আওয়ামী লীগের বিকল্প নয়, পরিপূরক হিসেবে গণতন্ত্রী পার্টি গড়ে তোলায় সম্মতি প্রদান করে কমিউনিস্ট পার্টি।

এই দলের সভাপতি ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আলী। সহ-সভাপতি : মির্জা গোলাম হাফিজ, অ্যাডভোকেট আবদুল জব্বার (খুলনা), আলতাফ আলী (ময়মনসিংহ), সদস্যদের মধ্যে ছিলেন : মহিউদ্দিন আহমেদ, আবদুর রহ সেরনিয়াবাত (বরিশাল), দেবেন দাশ (খুলনা), আতাউর রহমান (রাজশাহী), অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ (সিলেট), গোলাম কাদের চৌধুরী (ঢাকা), বিজয় চ্যাটার্জি (ঢাকা), মওলানা সাইফুদ্দিন খালেদ (নোয়াখালী), খাজা আহমেদ (ফেনী), ফেরদৌস আহমদ (খুলনা), আবদুল গফুর (সাতক্ষীরা), দেওয়ান মাহবুব আলী (কুমিল্লা), আজিজুল হয় (রংপুর), গোলাম রহমান (দিনাজপুর) এবং আশু ভরদ্বাজ (ফরিদপুর)।
গণতন্ত্রী দল তেমন কোনো গণভিত্তি নিয়ে দাঁড়াতে পারে নি। তবুও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের শরিক দল হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ১৩টি আসন লাভ করে। গণতন্ত্রী দল ১৯৫৭ সালে ন্যাপে যোগদান করে।
