বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা

আজকের আলোচনার বিষয়- বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা

 

বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা
বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা

 

বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা 

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও কার্যত ১৯৭৫-এর জুন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাননি। বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অংশ বঙ্গবন্ধুর কাছে সমর্পণ করে। দৃশ্যত অস্ত্রসমর্পণ করলেও অনেক উপদল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বেআইনিভাবে সম্পূর্ণ অস্ত্র জমা দেয় হ ‘৭২ সাল থেকেই চীনাপন্থি বলে পরিচিত উগ্র বামদের বিভিন্ন অংশ বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা চালাতে থাকে।

সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টি, আবদুল হকের পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল মোহাম্মদ তোয়াহার সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) এবং নানা বিশেষণযুক্ত কমিউনিস্ট পার্টি নামলো। কয়েকটি উপদলের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তোলে। পাকিস্তানে আশ্রয়গ্রহণকারী সময়ের বামপন্থি নেতা মাহমুদ আলীর মাধ্যমে ভুট্টো প্রশাসন ও পাকিস্তানের আইএসআই আবদুল হক ও অন্যা সন্ত্রাসী উপদলের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদেরকে গোপনে অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দেয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রের ক থেকে জানা যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্বাধীনতাত্তোর জাসদের উত্থান ও তাদের গণবাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই মুজিববাহিনী ও ছাত্রলীগে মতাদর্শগত বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সিরা আলম খানের অনুসারী ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধকে অসম্পূর্ণ মনে করে তারা প্রথমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসম্পূর্ণ মুক্তির সম্পূর্ণ করা, একটি বিপ্লবী জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তোলে।

এ লক্ষ্যে সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুর হাতে একটি ১৫ দফা কর্মসূচি তুলে দেন। স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গবন্ধু ও আওয়াই লীগ নেতৃবৃন্দ সেই অতিবিপ্লবী হঠকারী ও অবাস্তব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পক্ষান্তরে আবদুর রাজ্জাক শেখ মহি ও তোফায়েল আহমেদদের অনুসারীরা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বিপরীতে ‘মুজিববাদ’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

 

বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা
বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা

 

বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকামী ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ এবং মুজিববাদ প্রতিষ্ঠাকামীদের নেতা ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন। তীব্র মতানৈক্যের ফলে ১৯৭২ সালের ১৯ ছাত্রলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিধাভক্ত হয়ে যায়।

১৯৭২ সালের ৩০ ও ৩১ অক্টোবর ঢাকায় বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অনুসারী ছাত্রলীগ, মুজিব বাহিনীর একাং এবং শ্রমিক লীগের একাংশের দু’দিনব্যাপী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে মেজর জলিলকে সভাপতি ও আ স ম আবদুর রবকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন রাজনৈতিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ হয়। জন্মলগ্ন থেকেই জাসদের পাশাপাশি গোপন সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে ‘গণবাহিনী’ গড়ে ওঠে। জাসদ প্রকাশ্য ও বৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালেও ‘গণবাহিনী’ দেশের বিভিন্ন জেলায় সশস্ত্র তৎপরতা চালায়।

পিকিংপন্থি সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদী গ্রুপ, জাসদ-গণবাহিনী ছাড়াও এই সময়ে স্থানীয়ভাবে নানা রকম সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে ওঠে। এই সুযোগে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো পুনঃসংগঠিত হয়। সারাদেশে এই সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রধান টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগের এমসিএ, এমপি এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর হাতে ১৯৭২ থেকে জুন ১৯৭৫ পর্যন্ত বরিশালের গণপরিষদ সদস্য সওগাতুল আলম, নড়িয়ার এমপি নুরুল হক, তোলার এমপি মোতাহার উদ্দিন আহমেদ, যশোরের এমপি মইনুদ্দিন মিয়াজী এবং যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মশিউর রহমানসহ অনেক নেতৃস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী নিহত হন।

“এসব সশস্ত্র দল-উপদল কর্তৃক ১৯৭৩ সালের জুলাই-আগস্ট ১৩টি পুলিশ ফাঁড়ি, ১৮টি বাজার আক্রান্ত হয়। ১৪০টি আগ্নেয়ার এবং ৬৬৮০টি গোলাবারুদ লুট হয়। উগ্র বামপন্থি ও সন্ত্রাসবাদীদের হাতে আওয়ামী লীগ দলীয় ন াতীয় সংসদ সদস্য এবং হাজার হাজার আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়। জাসদ, মাওবাদী গ্রুপ ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে জাতীয়করণকৃত পাট কলসহ বিভিন্ন কলকারখানায়, পাটের গুদামে অগ্নিসংযোগ, ব্যাংক লুট, গ্রামাঞ্চলে ধনী কৃষকদের (জোতদার খতম করা নামে) গোলাঘর ও বাড়ি শুট বা অগ্নিসংযোগ, হত্যা, চাঁদাবাজি, চুরি ডাকাতি এবং নানারকম অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে।

 

বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা
বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা

 

অন্যদিকে স্বাধীনতাত্তোর কালে গণপরিষদের সদস্যসহ বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, জাতীয়করণকৃত কল-কারখানার পরিচালক ও তথাকথিত শ্রমিক নেতা এবং এক শ্রেণির ব্যবসায়ী লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাব নেন। ১৯৭২ সালের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতির অভিযেগে আওয়ামী লীগ থেকে ১৬ জন গণপরিষদ সদস্য বা এমসিএ-কে বহিষ্কার করা হয়। একই কারণে ৯ এপ্রিল আরও ৭ জন এমসিএ বহিষ্কৃত হন মওলানা ভাসানী অলি আহাদ প্রমুখ তীব্র ভারত-বিরোধী প্রচারণা এবং মুসলিম বাংলা’ প্রতিষ্ঠার মতো সাম্প্রদায়িক আওয়াজ তোলেন। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসেই মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘রুপ- ভারত ও আওয়ামী লীগ বিরোধী ৭ দলীয় সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়।

এ সময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল ও গণসংগঠনের ঐক্যের তাগিদ সৃষ্টি হয়। সিপিবি, ন্যাপ এবং ছাত্র ইউনিয়ন নিঃশর্তভাবেই বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রগতিশীল নীতি-পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন জানায় এবং তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানায়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর ১৯৭৩ সালের ১৪ অক্টোবর ত্রিদলীয় গণঐক্য জোট গঠিত হয়। আওয়ামী লীগের ১১ জন, ন্যাপের (মোজাফফর) ৫ জন ও সিপিবির ৩ জন সদস্য নিয়ে গণঐক্য জোটের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু গণঐক্য জোট পরিস্থিতি পরিবর্তনে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি।

অভ্যন্তরীণ নানামুখী চাপ, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা ছাড়াও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বা বিদেশি ষড়যন্ত্রও এ সময়ে লক্ষণীয়ভাবে জোরদার হয়ে ওঠে। ১৯৭৪ সালে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার প্রকোপ, বিপুল ফসলহানি এবং অগ্রভুল যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে দেশে খাদ্য পরিবহনে সমস্যার কারণে দুর্ভিক্ষাবস্থার সৃষ্টি হয়।

বঙ্গবন্ধুর সরকার দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নগদ অর্থে দ্রুত খাদ্য আমদানির উদ্যোগ নেয় : কিন্তু দুঃখজনক হলো তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধে তাদের নৈতিক (সামরিকও বটে) পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ এবং প্রগতিশীল বঙ্গবন্ধু সরকারকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামমুখী খাদ্যভর্তি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয়। ফলে মানব সৃষ্ট কৃত্রিম দুর্ভিক্ষে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ আনো রথসচাইল্ড বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষকে মার্কিন খাদ্য রাজনীতির নোংরা খেলা বলে অভিহিত করেন।

বঙ্গবন্ধুর সরকার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় মানব সৃষ্ট এই দুর্ভিক্ষ যতটা ভয়াবহ হে পাতা হয়নি। সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্রুত তাদের নিজেদের জন্য আমদানি করা সমভর্তি জাহাজ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এ সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিন্ধার ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশকে উপাধিহীন ঝুড়ি বলে যে ব্যাঙ্গোক্তি করেন তা বাঙালি জাতিকে অপমান করার শামিল।

বাংলাদেশের এই ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশে অত অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এর ফলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

 

বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা
বিভেদ, উগ্রপন্থা, অন্তর্ঘাত ও নাশকতা

 

মাত্র তিন বছরে বঙ্গবন্ধু ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসেন। পরাজিত দেখি বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র, অন্তর্থাত, বন্যা, খরা ও কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধুর আদুকরি নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়।

দারিদ্র্য, অশিক্ষা, শোষণ ও বন্ধনার অবসান ঘটিয়ে এক উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় ঐক্যের প্লাটফরম হিসেবে কৃষক-শ্রমিক আওয়াধী লীগ (বাকশাল) গড়ে তোলেন। বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের স্থলাভিষিক্ত হয় জাতীয় দল বাকশাল। এই একদলী ব্যবহার আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সারাটা রহমান খানের জাতীয় লীগ সমর্থন জানায় এবং অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এই পদক্ষেপ বিতর্কেরও সৃষ্টি করে।

বঙ্গবন্ধু বিরোধী একটি মহল ১৯৭৪-৭৫ এবং তৎপরবর্তীকালে যেমন তেমনি এখনো বাকশাল গঠন করার জন কমিউনিস্টদের দায়ী করে থাকে। তাদের মতে বঙ্গবন্ধু কমিউনিস্টদের পরামর্শে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা চাল করেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সিপিবি নেতৃবৃন্দ একাধিকবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একদল না করার পরামর্শ দেন।

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টিও সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটিকে চিঠি লিখে একদল না করার কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু সিপিবি নেতাদের অভিমত গ্রহণ করেন নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি না করার নীতি নিয়ে সিপিবি বাকশাল মেনে নিলেও গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখেন। (সিপিবি-র গোপন দলিল ও লেখকের ডায়েরি)

বাকশাল গঠনের আগে চতুর্থ সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী সকল দল বিলুপ্ত ঘোষিত হয়। বাকশালের ধারণা কোনো অভিনব ব্যাপার ছিল না। ষাট ও সত্তরের দশকের এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কিছু সদ্য স্বাধীন দেশ অপুঁজিবাদী পথে সমাজতন্ত্রে উত্তরণের লক্ষ্যে বহুদলীয় ব্যবস্থা বর্জন করে একদলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

কিউবা ভিয়েতনাম, লাওস, বাঘ পার্টির নেতৃত্বে ইরাক, সিরিয়া, এনএলএফ-এর নেতৃত্বে আলজেরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া, ব্রাজাভিল কঙ্গো প্রভৃতি দেশে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী একদলীয় সরকার ব্যবস্থা চালু ছিল বঙ্গবন্ধু এই আন্তর্জাতিক প্রপঞ্চটিকে সাময়িকভাবে (চতুর্থ সংশোধনী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দ্রষ্টব্য) মহ করেন। এর মূলে ছিল বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে আসা। বাকশাল কেবল ‘একদলীয় ব্যবস্থাই ছিল না।

 

এই ব্যবস্থায় রাজনীতি ও জাতীয় নীতি নির্ধারণে সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের সদস্যদের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত হয়। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের তৎকালীন সবগুলো মহকুমাকে জেলার উন্নীত করে প্রত্যেক জেলায় ১ জন করে গভর্নর নিয়োগ করা হয়। গ্রামজীবনের বিপ্লবী পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত হ বাধ্যতামূলক সমবায় গড়ে তোলা। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষিত হওয়ার একে দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

এ জন্য ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সাবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয়। ৬ জুন বাকশাল গঠনতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। ৬ জুন ১৯৭১ বাকশালের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষিত হয়। ৭ জুন ঘোষিত হয় বাকশালের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কর্মকর্তাদের নামে।

বাকশাল নির্বাহী কমিটিতে ছিলেন- ১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চেয়ারম্যান ২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম ৩. এম মনসুর আলী, সেক্রেটারি জেনারেল ৪. খন্দকার মোশতাক আহমদ ৫. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ৬. আবদুল মালেক উকিল ৭. অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ৮. শ্রী মনোরঞ্জন ধর ৯. ড. মোজাফফর আহনের চৌধুরী ১০. শেখ আবদুল আজিজ ১১. মহীউদ্দিন আহমদ ১২. গাজী গোলাম মোস্তফা ১৩. জিল্লুর রহমান, সেক্রেটারি ১৪. শেখ ফজলুল হক মণি, সেক্রেটারি ১৫. আবদুর রাজ্জাক সেক্রেটারি।

Leave a Comment