অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

আজকের আলোচনার বিষয়- অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

 

অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ
অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

 

অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

পনেরই আগস্ট বাঙালির জাতীয় ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়। ট্র্যাজেডির অন্যদিকটি হলো, যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তানিদের হাতে প্রায় অনিবার্য মৃত্যু থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও অসহায় মৃত্যুর শিকার হলেন তার স্বদেশবাসীর হাতে। সত্য বটে সেনাবাহিনীর একটি ক্ষুদ্র অংশ মেজর রশিদ ফারুকের নেতৃত্বে ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থান সংঘটিত করে এবং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যখন বঙ্গবন্ধুর লাশ ৩২নং রোডের বাড়ির সিঁড়িতে পড়ে আছে, তখন তার আজীবন সহকর্মী খন্দকার মোশতাক অবৈধ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বঙ্গভবনে বিকেল ৫টায় খন্দকার মোশতাক শপথ নেওয়ার পর ১৯৫৩ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন মোশতাক।

সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য মোশতাকের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ২৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, যাকে ১৯৭৪ সালে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, গ্রেফতার করা হয়। ৬ সেপ্টেম্বর জিল্লুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদকে এবং পরবর্তী কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

শপথ গ্রহণ করার পরপরই খন্দকার মোশতাক সামরিক শাসন জারি করেন। ৩০ আগস্ট সকল রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

অবৈধ ও স্বনিয়োজিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যে কোনো প্রকার বিচারের হাত রক্ষা উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। মোশতাক ২৪ আগস্ট সেনাবাহিনী প্র জেনারেল কে এম সফিউল্লাহকে পদচ্যুত করেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মদতদাতা সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজ জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ করে পুরষ্কৃত করেন। এছাড়া বিমান বাহিনী প্রধান এ অপকারকে অপসারণ করা হয়। মোশতাক মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীকে তার উপদে নিয়োগ করেন।

 

অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ
অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

 

খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হলেও সরকারের প্রকৃত ক্ষমতা ছিল বঙ্গভবনে আশ্রগ্রহণকারী ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের নায়ক খুনি মেজরদের হাতে। সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছিল। মোশতাকের স্বল্পমেয় সার প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থন ও আনুগত্য আদায়ের লক্ষ্যে ১৬ অক্টোবর তিনি আওয়ামী সংসদীয় দলের সভা আহ্বান করেন।

সংসদ সদস্যগণ যাতে মোশতাকের আহুত সভায় না যান, সে জন্য সৈয় সাজেদা চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশ এবং জাতীয় ছাত্রলীগের পরিচয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জোর তৎপরতা চালান। ফলে সংসদ সদস্যদের বড় একটা অংশ সংসদীয় দলের সভায় যোগদান থেকে বিরত থাকে। অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক প্রমুখের নেতৃত্বে অপর একটি অংশ সভায় উপস্থিত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে হতা করে ক্ষমতা দখলের জন্য সরাসরি মোশতাককে দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করায় দ্রুত সভা বন্ধ করে দেওয়া হয় সংসদীয় দলের সভাটি কার্যত ব্যর্থ হয়ে যায়।

রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সে সময় বঙ্গবন্ধুর অনুসারী আওয়ামী লীগের তরুণ নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্ররা গোপনে পুনঃসংগঠিত হতে শুরু করে। ২৮ অক্টোবর ১৯৭১; দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিন থেকেই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রসমাজ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ মিছিল সমাবেশ করতে থাকে। ছাত্রলীগ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ৪ নভেম্বর শোক পালনের অংশ হিসেবে মৌন মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩১ নম্বরে বঙ্গবস্তুর বাসভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ছাত্রদের এই মৌন মিছিলে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ইতোমধ্যে ২ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররে নেতৃত্বে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই অভ্যুত্থানের প্রাড়ালে খুনি মেজরদের পরিকল্পনায় এব মোশতাকের সম্মতিতে ৩ নভেম্বর দিনের আলো ফোটার আগে গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়।

৪ নভেম্বরের আগে এ সংবাদ প্রকাশিত না হওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত মৌন মিছিল সম্পন্ন করবে। অসুবিধা হয়নি সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমানকে অপসারণ ও বন্দি করে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভ্যুত্থানের পর থেকে কার্যকর কোনো সরকার না থাকায় এবং অভ্যুত্থানকারীদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জনসম্মুখে প্রকাশ না করায় সারাদেশে চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। ৫ নভেম্বর খন্দকার মোশতাক পদত্যাগ করেন। ওসমানীর মধ্যস্থতায় রশিদ, ফারুকসহ ১৫ আগস্টের ১৫ জন কুশীলবকে বিশেষ বিমানে দেশ ত্যাগের সুযোগ দেওয়ায়, তারা ব্যাংকক চলে যায়।

 

অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ
অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

 

৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ। সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি সংসদ ভেঙে দেন। এদিকে কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন যাবত সেনাবাহিনীতে যে গোপন তৎপরতা চালানো হচ্ছিল তা আরও জোরদার হয়। আরেকটি অভ্যুত্থান সংঘটিত করার কাজ চলতে থাকে। “বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ব্যানারে সেনাবাহিনীতে খালেদ মোশাররফ ও সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে জোয়ানদের মধ্যে নানা গুজব ছড়িয়ে তাদের উত্তেজিত করা হয়। খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানকে ভারতের কারসাজি বলে যে গুজব ছড়ানো হয়, সাধারণ সেনা সদস্যরা তা বিশ্বাস করে।

৩ নভেম্বর থেকে সেনানিবাসগুলোতে খালেদকে ‘ভারতের দালাল’ হিসেবে যাঁরা প্রচার করেছিলেন, তাঁরা ছিলেন জিয়ার পক্ষের লোক তাঁদের মধ্যে প্রধান ভূমিকা ছিল কর্নেল তাহেরের। এ সময় জাসদ গণবাহিনী ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নামে সেনানিবাসগুলোতে ভারতের দালাল ও বিশ্বাসঘাতক খালেন মোশাররফ চক্রকে উৎখাত করার আহ্বান সংবলিত প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

কর্নেল তাহের ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, ঐ দিনের অভ্যুত্থানে উল্লসিত হন এবং বঙ্গভবনে গিয়ে শুনি মেজরদের অভিনন্দন জানান। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও গণবাহিনীর কর্ণধার হিসেবে তাহের ১৯৭৩ সাল থেকেই সেনাবাহিনীতে গোপন তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। জিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। মোশতাককে পরিবর্তন করে তাহের জিয়াকে রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন।

১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকারীদের সঙ্গে ঐদিন থেকেই তিনি যোগাযোগ রাখতেন। জিয়া ছিলেন চরম উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালিপ্স। তিনি তাহেরকে ব্যবহার করেন। খালেন মোশাররফের অভ্যুত্থানের পর, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কর্নেল তাহের, বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, গণবাহিনী এবং জাসদকে নিয়ে ৬ নভেম্বর গভীর রাতে আরেকটি অভ্যুত্থান সংঘটিত করেন। জিয়াকে মুক্ত করে এনে পুনরায় সেনাবাহিনীর প্রধান পদে বসানো হয়।

৭ নভেম্বর ভোরে তাহের ও জিয়ার অনুগত সেনা অফিসার ও জোয়ানদের হাতে শেরে বাংলা নগর সেনা ছাউনিতে খালেন মোশাররফ ও তার দুই সহকর্মী কর্নেল হায়দার ও কর্নেল হুদা নিহত হন। ৭ নভেম্বর ও তার পরের দিন ৮ নভেম্বর রাতে ক্যান্টনমেন্টে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও গণবাহিনীর জোয়ানরা সেনাবাহিনীর অফিসারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালায়। তারা সেনা অফিসার, তাদের স্ত্রী ও পরিবারের অনেক সদস্যকে হত্যা করে।

এই চরম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে জিয়া দ্রুততার সঙ্গে তার অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জিয়ার সঙ্গে তাহেরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তাহের জিয়াকে সামনে রেখে যে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছিলেন অচিরেই সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তাহের জিয়াকে ‘ব্রিট্রেয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেন। ৮ থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে জাসদ নেতারা (মেজর জলিল, আ. স. ম রব প্রমুখ) জেল থেকে মুক্ত হয়ে আসলেও ২৩ ও ২৪ নভেম্বর মেজর জলিল, হাসানুল হক ইনু ও কর্নেল তাহেরসহ গণবাহিনীর সদস্যদের পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।

২৬ নভেম্বর গণবাহিনীর ঢাকার কমান্ডার কর্নেল তাহেরের ভাই আনোয়ার হোসেনের (পরবর্তীকালে আওয়ামী। লীগপন্থি শিক্ষক নেতা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য) নির্দেশে ৬ জনের একটি দল ধানমন্ডি ২নং রোডস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন অফিসে হাই কমিশনার সমর সেনকে জিম্মি করার অভিযান চালায়। সমর সেনকে জিম্মি করে কর্নেল তাহেরকে মুক্ত করাই ছিল তাদের লক্ষা। কিন্তু সেখানে ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের প্রতিরোধের মুখে ৬ জনের ৪ জন তরুণ নিহত হন।

 

অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ
অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

 

কর্নেল তাহেরের ছোট ভাই বেলাল (ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, নবম ও দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ) ও অন্য একজন গুরুতর আহত অবস্থায় ধৃত হয়। জাসদ গণবাহিনীর এসব হঠকারী কার্যকলাপ তাদের জনবিচ্ছিন্ন করে তোলে ও তারা জিয়ার হিংস্র আক্রমণের শিকার হন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ১৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেরই প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এএইচএম কামারুজ্জামান যেমন মাথা নত করেন নি, তেমনি তাজউদ্দিন আহমদ ও এম মনসুর আলীর মতো নেতারা যেমন মোশতাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার মতো সাহস দেখানঃ পক্ষান্তরে যদিও গান পয়েন্টে, তবুও বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্য মন্ত্রিত্বের শপথ গ্রহণ করে কাপুরুষতার পরিচয় দেন।

এমনকি সে সময়ের স্পিকার ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক উকিল লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু হত্যার নিন্দা প্রতিবাদ জানান নি বরং নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন। আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ১৯৭৬ সালে যিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সেই মহিউদ্দিন আহমেদ খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত হিসেবে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেন।

একদা ছাত্রলীগের ডাকসাইটে নেতা এবং আওয়ামী লীগের নেতা কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুর রৌফ ও রাফিয়া আক্তার ডলি প্রমুখ মোশতাকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। মালেক উকিল, মহিউদ্দিন আহমেদ পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ফিরে এলেও শেষোক্তগণ (আবদুর রৌফ ছাড়া) চিরদিনের জন্য আওয়ামী লীগ ছেড়ে যান।

জেনারেল জিয়া ধীরে ধীরে তার শাসনকে সংহত করতে সচেষ্ট হন। সামরিক শাসনের স্টিম রোলার চাপিয়ে এক রক্তাত পথে সময় সশস্ত্র বাহিনীর ওপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের ক্ষমতা নিষ্কণ্টক ও সংহত করতে জিয়া বিমান বাহিনীর ৫৬৫ জন অফিসার ও সেনাবাহিনীর প্রায় ২ সহস্রাধিক অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করেন। অন্যদিকে প্রতিটি মহকুমায় সামরিক আদালত বসিয়ে বিচারের নামে শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি অনুগত বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ছাত্র নেতাদের গ্রেফতার ও সাজা প্রদান করেন।

জিয়ার সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী অপকর্ম হলো সামরিক ফরমান বলে সংবিধান সংশোধন করা জিয়া ভাবাদর্শগতভাবে এবং চরিত্রের দিক থেকে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মডেলে একটি ধর্মাশ্রয়ী সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে একে একে নতুন নতুন সামরিক ফরমান জারি করতে থাকেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমান দালাল আইন রহিত করেন এবং বিচারাধীন সকল যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেন।

ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্থলাভিষিত করেন ধর্মাশ্রয়ী বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্জনসমূহে ধ্বংশ সাধন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রাষ্ট্র ও সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্র থেকে নির্বাসিত করার জন্য নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও মেরুকরণের পথে পা বাড়ান। ১৯৭৬ সালের ৩ মে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ধর্মভিতি রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতি প্রদান করেন।

১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই রাজনৈতিক দল বিধি জারি করা হয়। রাজনৈতিক দলবিধির শর্তাধীনে রাজনৈতিক দল গঠন এবং ৩০ জুলাই থেকে ঘরোয়া রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়।

 

অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ
অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

 

প্রচন্ড ও হিংস্র দমননীতির শিকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই সীমিত গণতান্ত্রিক সুযোগ গ্রহণ করার সুযোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। দল পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে ২৫ আগস্ট ঢাকার দলের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদসহ নেতৃবৃন্দের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় ৩১ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে দল পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল বিধি অনুসারে দলের মেনিফেস্টো ও গঠনতন্ত্র অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হবে। ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করে।

২৫ আগস্টের বর্ধিত সভায় আরও সিদ্ধা দলের পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল সাপেক্ষে ১৯৭৫ সালের ৬ জুন যে কার্যনির্বাহী সংসদ ছিল, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব মহীউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন সেই সংসদ ও জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত প্রস্তুত কমিটি একযোগে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাবে।” (দৈনিক সংবাদ, ২৬ আগস্ট ১৯৭৬)। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে গঠিত নির্বাহী সংসদের সভাপতি এএইচএম কামারুজ্জামান ৩ নভেম্বর ৭৫ নিহত হন।

সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ তখন কারাবন্দি। এমতাবস্থায় সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

উচ্চাভিলাষী জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি সায়েমের হাত থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব কেড়ে নেন। বিচারপতি সারেম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতি হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ছিল সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল জিয়ার হাতে। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েমকে পদচ্যুত করে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জিয়া।

তিনি যে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নীলনকশা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন, অচিরেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জিয়া তাঁর ক্ষমতাকে বৈধতার ছাপ মারার জন্য ১৯৭৭ সালের ৩০ মে দেশব্যাপী গণভোটের আয়োজন করেন। ‘হ্যাঁ/না’ ভোট এই গণভোটে জিয়ার পক্ষে ‘হাঁ’ ভোট পড়ে ৯৮.৮৭ শতাংশ এবং ‘না’ সূচক ভোট মাত্র ১.১৩ শতাংশ। আওয়ামী লীগ গণভোট বর্জন করে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং আওয়ামী লীগের মিত্র দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ (মোজাফ্ফর) সক্রিয়ভাবে না হলেও গণভোটে অংশগ্রহণ’ এবং ‘ইি ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তৎকালীন ঢাকাস্থ ও পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতনের ইঙ্গিতে (?) সিপিবি-ন্যাপ ‘হাঁ’ ভোটে অংশ নেয়। সিপিবি ময়মনসিংহে পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ খননে জিয়ার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সিপিবি জিয়াকে সার্বিক বিবেচনায় তখন দক্ষিণপন্থি ও প্রতিক্রিয়াশীল বলে মনে করেনি।

সিপিবি তখন জিয়া সরকারকে ‘সীমাবদ্ধ হইলেও মূলতঃ দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করে সংজ্ঞা হাজির করে। যদিও পরে এই সংজ্ঞা যথাযথ হয়নি বলে মনে হয়েছে। (তথ্যসূত্র পার্টির (কমিউনিস্ট) দ্বিতীয় কংগ্রেসের সময় হইতে কেন্দ্রীয় কমিটির মূল মূল নীতি ও কার্যাবলী পর্যালোচনা, ২৮/৯/৭৯, পৃ. ১৮-১৯/ মর্তব্য যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সিপিবি এবং সিপিবি প্রভাবিত ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য গণসংগঠন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে সাহসী ভূমিকা রাখে।

এমনকি সিপিবি সশস্ত্র সংঘামের প্রস্তুতি গ্রহণেরও লাইন নেয়। তখন ভারতে অবস্থানকারী কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করে। সামরিক জান্তা বিরোধী তৎপরতার জন্য সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়নের অনেক নেতাকর্মী কারা- নির্যাতন পর্যন্ত ভোগ করেন।

জিয়াকে সীমাবদ্ধভাবে হইলেও মূলতঃ দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী’ সংজ্ঞা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সিপিবি জিয়ার অনুরোধ থেকে বাঁচতে পারে নি। ১৯৭৭ সালের ১ অক্টোবর ঢাকা বিমানবন্দরে জাপানি বিমান ছিনতাই এবং ২ অক্টোবর ঢাকা ও বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গুলিবিনিময় এবং ঢাকা বিমানবন্দরে কর্তব্যরত বিমান বাহিনীর ১১ জন ও সেনাবাহিনীর ১০ জন অফিসার নিহত হয়।

 

অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ
অসাংবিধানিক ধারা প্রতিক্রিয়ার যুগ

 

জিয়া এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক আদালতে বিচারের নামে বিমান বাহিনীর ৫৬৫ জন কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাত সংখ্যক সেনা সদস্যকে হত্যা করেন। এই সেনা অভ্যুত্থানের পেছনে বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদ- ফারুকদের কারসাজি ছিল বলে পরবর্তীকালে জানা সত্ত্বেও জিয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪ অক্টোবর সিপিবি, জাসন ও মোশতাকের ডেমোক্রেটিক লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সিপিবি সভাপতি মণিসিংহ ও মোহাম্মদ ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়।

এই অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেই আওয়ামী লীগ দলকে পুনরায় সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়। ভয়-ভীতি ও নির্যাতন উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। ১৯৭৭ সালের ৩ ও ৪ এপ্রিল ঢাকার হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কাউন্সিলের আগেই দলের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যের অভাব প্রকাশ্য দলাদলির আকার ধারণ করে। কাউন্সিল প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী দলের সভাপতি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু দলের মূলধারার নেতাকর্মীরা মিজান চৌধুরীর নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না।

৩ ও ৪ এপ্রিল হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলেও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হয় নি। দলের গুরুত্বপূর্ণ বহুসংখ্যক নেতা কারারুদ্ধ থাকায়। এই কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয় আপাতত পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তাকে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ- আলোচনা ১০ দিনের মধ্যে ৪৪ সদস্য বিশিষ্ট সাংগঠনিক কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় এই ৪৪ জন ছাড়াও কারারুদ্ধ নেতারা মুক্তি লাভের পর কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন ১৫ এপ্রিল সাংগঠনিক কমিটির সদস্যগণের নাম ঘোষণা করেন।

 

 

 

সাংগঠনিক কমিটির সদস্যদের তালিকা-

১ সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন- আহ্বায়ক, সদস্য

২. মোল্লা জালাল উদ্দীন আহমদ

৩. ফণীভূষণ মজুমদার

৪. কাজী জহিরুল কাইয়ুম

৫. মতিউর রহমান

৬. মিজানুর রহমান চৌধুরী

৭. আবদুল মান্নান

৮. আবদুল মোমিন

৯. সোহরাব হোসেন

১০. আসাদুজ্জামান খান

১১. মনোরঞ্জন ধর

১২. দেওয়ান ফরিদ গাজী

১৩. অধ্যাপক নূরুল ইসলাম চৌধুরী

১৪. ডা ক্ষীতিশ চন্দ্র মণ্ডল

১৫. মো. ময়েজুদ্দিন আহমদ (ঢাকা)

১৬. মফিজুল ইসলাম খান কামাল

১৭. ফজলুল করিম

১৮. মোহাম্মদ হানিফ

১৯. আনসার আলী

২০. ওমর আলী

২১. শামসুর রহমান খান (টাঙ্গাইল)

২২. ব্যারিস্টার শওকত আলী

২৩. মহিউদ্দিন আহমদ (বরিশাল)

২৪. আহম্মদ আলী (কুমিল্লা)

২৫. আলী আজম ভূঁইয়া

২৬. নূরুল ইসলাম

২৭. এবিএম তালেব আলী (ফেনী)

২৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ হানিফ (নোয়াখালী)

২৯. আবদুল হাকিম (ময়মনসিংহ)

৩০. খন্দকার আবুল কাশেম (পটুয়াখালী)

৩১. কামারুজ্জামান (যশোর)

৩২. হাদিউজ্জামান

৩৩. আজিজুর রহমান আক্কাছ (কুষ্টিয়া)

৩৪. খন্দকার আবু তালেব (পাবনা)

৩৫. ডা. আলাউদ্দিন (রাজশাহী)

৩৬. একে মুজিবুর রহমান (বগুড়া)

৩৭. লুৎফর রহমান (রংপুর)

৩৮. আবদুর রহিম (দিনাজপুর)

৩৯. সিরাজুল ইসলাম

৪০. মোহাম্মদ মহসিন (খুলনা)

৪১. সৈয়দ কামাল বখত

৪২. নূরুন্নবী (ফরিদপুর)

৪৩. এমএ ওয়াহার (চট্টগ্রাম)

৪৪. বেগম মাহমুদা চৌধুরী (ঢাকা)

৪৫. রওশন আরা মুস্তাফিজ (রংপুর)।

সাংগঠনিক কমিটি দেশব্যাপী ব্যাপক সফর করে দলকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়। ফলে আওয়ামী লীগে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। একই সময়ে সামরিক আইন প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতেও আওয়ামী লী প্রচারাভিযান চালাতে থাকে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ব্যাপী এক দীর্ঘ ভাষণে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এই বক্তৃতায় তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ও ফ্রন্ট গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইঙ্গিত দেন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ৯৫৩ জন রাজনৈতিক ও বিচারাধীন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও কর্মী কারাগার থেকে মুক্তি করেন।

১৯৭৮ সালের ৩, ৪ ও ৫ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ৫২ কাউন্সিলের শেষ দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিম্নলিখিত কমিটি গঠিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনের শেষ দিন (৫ মার্চ ১৯৭৮) আবদুল মালেক উকিলকে সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

সভাপতি

১. আবদুল মালেক উকিল

সহ-সভাপতি

২. সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন

৩. মতিউর রহমান

8. আবদুল মান্নান

৫. রফিক উদ্দিন ভূঞা

৬. মহিউদ্দিন আহমদ

৭. আবদুল মমিন তালুকদার

সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক

৮ আবদুর রাজ্জাক – সাধারণ সম্পাদক

৯. বেগম সাজেদা চৌধুরী – যুগ্ম সম্পাদক

১০. সালাহউদ্দিন ইউসুফ – যুগ্ম সম্পাদক

১১. তোফায়েল আহমদ – সাংগঠনিক সম্পাদক

১২. সরদার আমজাদ হোসেন – প্রচার সম্পাদক

১৩. সৈয়দ আহমদ – দফতর সম্পাদক

১৪. কাজী মোজাম্মেল হক – শ্রম সম্পাদক

১৫. মানিক চৌধুরী – কৃষি সম্পাদক

১৬. এসএম ইউসুফ – শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক

১৭. ইয়াহিয়া চৌধুরী পিন্টু – সমাজকল্যাণ সম্পাদক

১৮. বেগম আইভি রহমান – মহিলা সম্পাদিকা

১৯. আমির হোসেন আমু – যুব সম্পাদক

২০. ফজলুল করিম – কোষাধ্যক্ষ (অসম্পূর্ণ)

দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল ১৯ দফা নীতিও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জিয়ার এই ১৯-দফা-ই পরবর্তীসময়ে তার রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে পরিণত হয় ।

জিয়াউর রহমান ৩ জুন ১৯৭৮ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে কোন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নতুন মেরুকরণ ঘটতে শুরু করে। নির্বাচনে জিয়াউর রহমান নিজের প্রার্থিতা ে করেন। সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে জিয়া নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮-এর ৯ এপ্রিল জিয়া ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদলে যোগদানের ঘোষণা করেন।

আওয়ামী লীগ জিয়াকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে না দেওয়া এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমত গঠনের সুযোগ নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও জেনারেল ওসমানীর জনতা পার্টির সঙ্গে ঐকমত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ওসমানীর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেনারেল ওসমানীকে জিয়ার বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়।

সমমনা দলগুলোকে নিয়ে ২ মে গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট’ গঠন করা হয়। গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের শরীক দলগুলো হলো ১ আওয়ামী লীগ ২. ন্যাপ (মোজাফ্ফর) ও জাতীয় জনতা পার্টি ৪ গণআজাদী লীগ ও ৫ বাংলাদেশ পিপলস লীগ। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকার সিপিবি অনানুষ্ঠাকিভাবে এই জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণপন্থি নানা দল উপদল এবং সাবেক চীনাপন্থি-ভাসানিপন্থিদের একটি অংশকে নিয়ে গঠিত হয় ৬-দলীয় জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট। জিয়া এই ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি প্রার্থী। ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ফল যা হবার তাই হয়, “বিপুল ভোটে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১২ জুন দয়া “নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সামরিক ফরমান বলে আংশিকভাবে সংবিধান চালু হলেও, তখন পর্যন্ত দেশে সামরিক শাসন অব্যাহত থাকে।

মিজানুর রহমান চৌধুরী পুনরায় আওয়ামী লীগের বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই এ ব্যাপারে সামরিক শাসকদের সঙ্গে তার গোপন সমঝোতা হয়।

“হঠাৎ করে ১৯৭৮ সালের ১১ আগস্ট জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরী সম্পূর্ণরূপে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাঁর বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বান করে, তাতে সম্পূর্ণ ভিন্ন মতাদর্শে অবৈধভাবে গঠিত এক আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করেন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগদল জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বিলুপ্ত করে জিয়াউর রহমান নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি গঠন করেন। শুরু হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া।

 

১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ২৭ জানুয়ারি ১৯৭৯ ঘোষিত তারিখে নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলো আপত্তি জানায়। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের বাইরে আতাউর রহমান খানের বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ইউপিপি, জাসদসহ একটি ১০-দলীয় জোট গড়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, সিপিবি এবং ১০ দল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং সভা-সমাবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ বেশ কিছু দাবি জানায়।

তাদের দাবি পূরণ না হলে ১০ দল নির্বাচন বর্জনেরও ঘোষণা দেয়। এ প্রসঙ্গে ২৫ ডিসেম্বর ১০ দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি জিয়ার আলোচনা ব্যর্থ হয়। অবশ্য সরকার পরের দিনই নির্বাচনের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯, সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ আরও কিছু দাবি মেনে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, সিপিবি, মিজান লীগ এবং খণ্ডিত ১০ দিল নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়।

সামরিক শাসন প্রত্যাহার না করলেও জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ ডিসেম্বর নিজেকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে চিক অব স্টাফ এর দায়িত্ব নেওয়া হয়।

সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থের যথেচ্ছ ব্যবহার করে ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী করা হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন এবং ৪১ ১৬ শতাংশ ভোট এবং আওয়ামী ৩৯টি আসন এবং ২৪.৫৫ শতাংশ ভোট পায় ।

বলাবাহুল্য এটা জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ছিল না। দৃশ্যত শান্তিপূর্ণ হলেও নির্বাচনের ফল ছিল পূর্ব নির্ধারিত। দেশ থেকে সামরিক শাসনের অবলা এবং পু আওয়ামী লীগ সংসদের ভিতরে-বাইরে সংগ্রামের কৌশল গ্রহণ করে। জাসদ আমীন বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

৩১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের প্রতার বিরোধিতাকারী শাহ গোলাম হাফিজকে স্পিকার নিযুক্ত করা হয়। ২ এপ্রিল দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় মনে সাময়িক শাসন ও সামরিক ফরমান বলে সংবিধান সংশোধনকে বৈধতাদান করে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী পাস করা হয় সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয় পরের দিন, ৬ এপ্রিল ১৯৭৯ ।

সামরিক আইন প্রত্যাহারের ফলে দেশে অপেক্ষাকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসে। সরকারের গণবিকে কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিক অসন্তোষ এবং দলীয়করণের বিরু সংসদের ভিতরে-বাইরে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো কখনও এককভাবে এবং কখনও ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দে সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মসূচি পালন করে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সালের মে মাস পর্যন্ত আওয়ামী লীগে। আহ্বানে বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ কয়েক দিন সফল হরতাল পালিত হয়। আন্দোলন মোকাবিলায় সরকার দমননীি আশ্রয় গ্রহণ অব্যাহত রাখে। জিয়ার বেসামরিক সরকারের আমলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে উপর্যুপ গ্রেফতার-নির্যাতন ভোগ করতে হয়।

১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে, আওয়ামী লীগের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই কাউন্সিলে দলে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ এবং নগরে অধিকতর শক্তিশালী ও সংহত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন। এই কাউন্সিলেই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশেষ করে সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক সভাপতিমণ্ডলী গঠিত হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলে নিম্নলিখিত নেতৃবৰ্গকে নিঃ আওয়ামী লীগের নতুন কার্যনির্বাহী সংসদ গঠিত হয়।

সভাপতি

১. শেখ হাসিনা

সভাপতিমণ্ডলী

২. আবদুল মালেক উকিল ৩. সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন ৪. ডক্টর কামাল হোসেন ৫. আবদুল মান্নান ৬. কোরবান আলী ৭. জিল্লুর রহমান ৮. আবদুস সামাদ আজাদ ৯. মহিউদ্দীন আহমদ ১০. আবদুল মমিন তালুকদার ১১. ফণীভূষণ মজুমদার

সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক

১২. আবদুর রাজ্জাক – সাধারণ সম্পাদক

১৩. বেগম সাজেদা চৌধুরী – যুগ্ম সম্পাদক

১৪. আমির হোসেন আমু – যুগ্ম সম্পাদক

সম্পাদকমণ্ডলী

১৫. তোফায়েল আহমদ – সাংগঠনিক সম্পাদক

১৬. সরদার আমজাদ হোসেন – প্রচার সম্পাদক

১৭. সৈয়দ আহমদ – দফতর সম্পাদক

১৮. এসএম ইউসুফ – শিক্ষা ও গবেষণা

১৯. মফিজুল ইসলাম কামাল – সমাজকল্যাণ

২০. বেগম আইভি রহমান – মহিলা সম্পাদিকা

২১. এবিএম তালেব আলী – শ্রম সম্পাদক

২২. অধ্যাপক মো হানিফ – কৃষি সম্পাদক

২৩. মো. নাসিম – যুব সম্পাদক

২৪ . আবদুল জলিল – আন্তর্জাতিক সম্পাদক

২৫. শফিকুল আজিজ মুকুল – সাংস্কৃতিক সম্পাদক

২৬. ফজলুল করিম – কোষাধ্যক্ষ

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘদিন শেখ হাসিনাকে বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে হয়। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মানেই তিনি ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। প্রবাসে অবস্থানকালেও তিনি স্বদেশের সঙ্গে, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। দলের সভাপতির দায়িত্বতার অর্পিত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। সেদিন বৃষ্টিমুখর দিনে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভ্যলীগ কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় নতুন তার এবং বিপুল উদ্দীপনা।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র কয়েকদিন পর ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেনারেল জিয়া বিদ্রোহী সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হন। উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চট্টগ্রামে সেনা বিদ্রোহের নায়ক ও জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুর ১ জুন গ্রেফতার ও সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হন।

এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন এবং দলের হাল ধরেন। সেনা বিদ্রোহে জিয়ার মৃত্যুতে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শুরুতেই তাকে হোঁচট খেতে হয়। বিচারপতি সাত্তার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ড. কামাল হোসেনকে দলীয় প্রার্থী করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বিচারপতি সাত্তার। ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিচারপতি সাত্তার জয়লাভ করেন।

জিয়া হত্যা থেকে শুরু করে বিচারপতি সাত্তারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যন্ত পুরো ব্যাপারটাই ছিল রহস্যপূর্ণ এবং সাজানো নাটক। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শাসনকাল টিকে ছিল মাত্র চার মাস। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এরশাদ। সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর আগে থেকেই প্রকাশ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় সেনাবাহিনীর অংশীদারিত্ব দাবি করে আসছিলেন।

১৯৮২ সালের ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে চেয়ারম্যান করে সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিকে নিয়ে ‘জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠিত হয়। কিন্তু এর ফলে অভিনব কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হন। রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে অপসারণ করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। সামরিক আইন জারি হয়। এরশাদ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। সংবিধান স্থগিত, মন্ত্রিসভা ও সংসদ বাতিল ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

Leave a Comment