আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় – শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় সরকারঃ দিনবদলের সংগ্রাম
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে। বিএনপি-জামাত জোটের পাঁচ বছরের দুঃশাসন এবং অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের অপরিণামদর্শী শাসনামলে সৃষ্ট পুঞ্জিভূত সমস্যা জাতীয় জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছিল ভয়াবহ সংকট । অমিত সম্ভাবনার এই বাংলাদেশে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সকল সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তরুণ প্রজন্মসহ এ দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছিল।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় সরকারঃ দিনবদলের সংগ্রাম
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভেতর দিয়ে জাতি তার সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সেই সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করে। নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতির সামনে ‘দিনবদলের সনদ’ তুলে ধরে।
২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীকে সামনে রেখে এই দিনবদলের সনদ তথা নির্বাচনী ইশতেহারে কেবল পাঁচ বছরের নয়, আগামী ২০২১ সালে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তার একটি রূপকল্প তুলে ধরা হয়। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত এই রূপকল্প বা ভিশন-২০২১ সমগ্র দেশবাসীকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশায় প্রবলভাবে উজ্জীবিত করে। বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার পাঁচ বছর মেয়াদে সেই স্বপ্ন রূপায়নের দুরূহ কর্তব্য পালন করে।

কিন্তু পরাজিত শত্রুরা বসে ছিল না। জনগণের এই বিজয়কে নস্যাৎ করা এবং দেশকে অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই চালিয়ে যায় একের পর এক ষড়যন্ত্র। সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র ৪৯ দিনের মাথায় ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিডিআর হেডকোয়ার্টারে বিদ্রোহ সংঘটিত করে আমাদের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করা হয়। দেশকে ভ্রাতৃঘাতী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা, সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ এবং অপরিসীম ধৈর্য ও সাহস দেশকে এক অনিবার্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয় ।
রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং জরুরি অবস্থা প্রভৃতি কারণে ২০০২ সালের পর যথাসময়ে ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠ ২০০১ সালের ২৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অষ্টাদশ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গছে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে। কাউন্সিলে পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে নতুন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়।
গঠনতন্ত্রেও সামান্য সংশোধনী গৃহীত হয়। কাউন্সিলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং দিনবদলের কর্ম বাস্তবায়নের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ।

কাউন্সিলে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কয়েকদিনের মধ্যে শেখ হাসিনা নিম্নলিখিত কার্যনির্ব সংসদ গঠন করেন-
সভাপতি
১. শেখ হাসিনা এমপি
সভাপতিমণ্ডলী
২. সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন
৩. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি
৪. অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন
৫. কোম মতিয়া চৌধুরী এমপি
৬. শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি
৭. ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি
৮. কাজী জাফ উল্লাহ
৯. রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু এমপি
১০. আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এমপি
১১. সতীশ চন্দ্র রায়
১২. অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি
১৩. ওবায়দুল কাদের এমপি
১৪. আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপি।
(* আতাউর রহমান খান কায়সারের মৃত্যুজনিত শূন্য পদে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপি স্থলাভিষিক্ত হন।)
সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১৫. সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি – সাধারণ সম্পাদক
১৬. মাহবুব-উল-আলম হানিফ – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১৭. ডা. দীপু মণি এমপি – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১৮. জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (প্রথমে পদটি শূন্য ছিল। বৎসরাধিক পরে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পিত।)

পদের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী
১৯.আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি – অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক
২০. সৈয়দ আবুল হোসেন এমপি – আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
২১.অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি – আইন বিষয়ক সম্পাদক
২২. ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি – কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক
২৩. অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন – তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
২৪. ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি – ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক
২৫. অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এমপি – দফতর সম্পাদক
২৬. আলহাজ অ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ – ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক
২৭. নূহ-উল-আলম লেনিন – প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
২৮. ড. হাসান মাহমুদ এমপি – বন ও পরিবেশ সম্পাদক
২৯. স্থপতি ইয়াফেস ওসমান – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
৩০. ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি – মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
৩১. ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম (অব.) এমপি – মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক
৩২. দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল – যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক
৩৩. নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি – শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক
৩৪. লে. কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি (অব.) – শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক
৩৫. হাবিবুর রহমান সিরাজ – শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক
৩৬. আসাদুজ্জামান নূর এমপি – সাংস্কৃতিক সম্পাদক
৩৭. ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু – স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক
৩৮. আহমদ হোসেন – সাংগঠনিক সম্পাদক
৩৯. মো মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ অ্যাড. – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪০. বি এম মোজাম্মেল হক এমপি – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪১. আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪২. আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪৩. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪৪. বীর বাহাদুর এমপি – সাংগঠনিক সম্পাদক (জাহাঙ্গীর কবির নানকের স্থলাভিষিক্ত)
৪৫. মৃণাল কান্তি দাস – উপ-দফতর সম্পাদক
৪৬. অসীম কুমার উকিল – উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
৪৭. এইচএন আশিকুর রহমান এমপি – কোষাধ্যক্ষ
সদস্য
৪৮. মোহাম্মদ নাসিম ৪৯, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ৫০, মো. আলতাফ হোসেন ৫১, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি ৫২. ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন এমপি ৫৩, শেখ হারুন অর রশিদ ৫৪ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ৫৫ নো একেএম রহমতউল্লাহ এমপি ৫৬. সৈয়দা জেবুন্নেছা হক এমপি ৫৭, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি ৫৮ খায়রুজ্জামান লিটন ৫৯. অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী এমপি ৬০ শ্রী বিপুল ঘোষ ৬১ আবদুর রহমান এমপি ৬২. আখতারউজ্জামান ৬৩. টিপু মুন্সী এমপি ৬৪. মোস্তফা ফারুখ মোহাম্মদ এমপি ৬৫ এমএ মান্নান এমপি ৩৬. মজিবর রহমান মজনু ৬৭. মির্জা আজম এমপি ৬৮ অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদী ৬৯. আখতার জাহান ৭০. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি ৭১, শ্রী সুজিত রায় নন্দী ৭২. আমিনুল ইসলাম আমিন ৭৩. একেএম এনামুল হক শামীম।
