আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় – দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন : শেখ হাসিনার তৃতীয় সরকার
২০১২ সালের শেষার্ধ্ব এবং ২০১৩ সালটি ছিল বিরোধী দলের আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের লক্ষ্যে জামাত-বিএনপি-হেফাজতে ইসলাম প্রভৃতি ধর্ম ব্যবসায়ী দল ও সংগঠনের হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা এবং ধর্মর উন্মাদনায় টালমাটাল একটি বছর। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ পল্লিতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন সংঘটিত হয়।একই ধরনের ঘটনা দেশের আরও কয়েকটি স্থানেও ঘটে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন : শেখ হাসিনার তৃতীয় সরকার
২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। এই রায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী এবং বিশেষ করে তরুণদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে এবং কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আকস্মিকভাবেই প্রতিবাদী তারুণ্যের অভূতপূর্ব জাগরণের সূচনা হয়। স্বত্ত্বঃস্ফূর্তভাবেই গড়ে ওঠে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’।
শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে চলে টানা মাসাধিককালের অবস্থান। অবস্থান চলাকালে গণজাগরণ মঞ্চের ৫ দফা দাবিতে একাধিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ মানুষ এসব মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের টানা শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে লক্ষ তরুণের প্রাণোজ্জ্বল জাগরণ ছিল নজিরবিহীন।
আওয়ামী লীগ প্রথম থেকেই তারুণ্যের এই জাগরণের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলি গণজাগরণ মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারও শাহবাগে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের নিরাপত্তা বিধান এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে একতরফা আসামিদের আপিলের বিধানের পরিবর্তন করে অভিযুক্ত ও রাষ্ট্রপক্ষ উভয়েরই আপিলের সমান সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারের এই পদক্ষেপ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। এটি ছিল গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের ইতিবাচক ফল গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের এই বিজয়ের পর উচিত ছিল আন্দোলনের প্রতি দেশবাসীর সমর্থন ও সহানুভূতি থাকা অবস্থায়ই লাগাতার অবস্থানের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আন্দোলনের নতুন কৌশল গ্রহণ করা।

১৫ ফেব্রুয়ারি লাগাতার অবস্থান স্থগিতের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐদিন রাতেই মিরপুরে আসিফ মহিউদ্দিন নামে একজন বাগাৱকে মৌলবাদী দুর্বৃত্তরা হত্যা করার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। লাগাতার অবস্থান চলতে থাকে। সবাই আশা করেছিল ২১শে ফেব্রুয়ারির পর লাগাতার অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হবে। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনকে সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বাস্তবতা বিবর্জিত কতিপয় বাম সংগঠন, এনজিও ও স্বনিয়োজিত উদ্যোগী বুদ্ধিজীবী তাদের লাগাতার কর্মসূচিকে প্রলম্বিত করার আত্মঘাতী পথে ঠেলে দেয়।
সাধারণ মানুষ ও তরুণদের প্রধান অংশটি এই আন্দোলনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। অযৌক্তিক ও হঠকারী নানা কর্মসূচি গ্রহণের কারণে আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র-তরুণ ও গণমানুষের অংশগ্রহণ কমে যায়। গণজাগরণ মঞ্চের সাথে যুক্ত ছাত্র সংগঠন সাংস্কৃতিক বলয়ের বিভেদ সৃষ্টি হয় দু’তিনটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের বিভ্রান্ত নেতৃত্বের হঠকারিতার সুযোগ গ্রহণ করে জামাত, বিএনপি ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন ধর্মার্থ হেফাজতে ইসলাম।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে ফাঁসির আদেশ দেন। সাঈদীর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে নেওয়া হয়। সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে জামাত-বিএনপির পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত ধর্মীয় উন্নয়তা সৃষ্টি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ হত্যা, হাজার হাজার বৃক্ষ নিধন প্রভৃতি ঘটনা দেশকে এক মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দেয়। ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার উচ্চ আদালতে আপিলের রায়ে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। অব্যাহত থাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
এই সময়ে বিএনপি- জামাতের এই তাণ্ডবের সাথে যুক্ত হয় হেফাজতি তাণ্ডব। জামাত-বিএনপি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এই অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনটিকে তাদের অসৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
‘হেফাজতে ইসলাম’ নামে সংগঠনটি ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের প্রায় ১০০টি কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রবীণ পরিচালক শাহ আহমদ শফী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ইজহারুল ইসলাম এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষানীতি বাতিল এবং ২০১১ সালে প্রগতিশীল নারীনীতি বাতিলের দাবি করে সংগঠনটি দৃশ্যপটে আসে।
চরম ধর্মান্ধ এবং নারীবিদ্বেষী এই সংগঠনের সঙ্গে জামাত এবং আন্তর্জাতিক নানা মৌলবাদী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণজাগরণের একপর্যায়ে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও রাসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ এনে তাদের ফাঁসির দাবিতে হঠাৎ করেই হেফাজতে ইসলাম সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা একটি ১৩-দফা কর্মসূচি দেয়। এই ১৩ দফা ছিল বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ বিরোধী ও চরম রক্ষণশীল। হেফাজতিরা তাদের দাবিতে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ ও মতিঝিল শাপলা চরে সমাবেশ করে।

হেফাজতে ইসলাম ৬ এপ্রিল ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে একবার শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করায় সরকার কোনো বাধা দেয়নি। ঐদিন শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে ও মহানগরীর কয়েকটি স্থানে হেফাজতিরা হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সরকার সহিষ্ণু নীতি গ্রহণ করে। কিন্তু সরকারের সহিষ্ণুতাকে দুর্বলতা মনে করে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত প্রথমে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দেয়। পরে শান্তিপূর্ণ অবরোধ শেষে ঐদিন অপরাহ্নে আকস্মিকভাবেই শাপলা চত্বরে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে তারা শাপলা চত্বরে সমবেত হতে শুরু করে।
সময় মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টন ও নর্থসাউথ রোড অঞ্চলে দিনব্যাপী হেফাজতের অনুসারী এবং বিএনপি-জামাতের ক্যাডাররা নজিরবিহীন সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালায়। বায়তুল মোকাররমে ঢুকে জায়নামাজে এবং আশপাশের ধর্মীয় পুস্তকের দোকানের কোরআন-হাদিসে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাট, ব্যাংক অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং আইল্যান্ডের শত শত বৃক্ষ নিধন করে। পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে কয়েকজন নিহত হয়। এদিকে শাপলা চত্বরে হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্র জমায়েত হয়।
তারা সারারাত ও পরের দিনসহ অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থানের সংকল্প ঘোষণা করে। বিএনপি নেতারা শাপলা চত্বরে গিয়ে সংহতি জানায়। বস্তুত বিএনপি-জামাতের পরিকল্পনা ছিল হেফাজতিদের নিয়ে এমন একটা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে সেনা-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকার উৎখাত করা যায়। খালেদা জিয়া ৫ মে’র কর্মসূচির কথা মনে রেখেই ২ মে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং ৪ মে ১৮ দলের উদ্যোগে শাপলা চত্বরে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘অন্যথায় পালাবারও পথ পাবেন না।
কিন্তু ৫ মে’র এই অতন্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় নি। সরকারের নির্দেশে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খ হেফাজতযুক্ত হয় এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। অতঃপর হেফাজতিদের আর মথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। বিএনপি-জামাতচক্র তাদের তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এবং নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে লাগাতার অবরোধসহ কর্মসূচি দেয়। গাড়িতে পেট্রল ঢেলে নিরীহ মানুষ হত্যা, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রম তাদের আগুনে পুড়িয়ে মারাসহ যেন কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই যা তারা করেনি।
কিন্তু এসব কাজ করতে গিয়ে তারা আর বেশি করে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন নির্বাচনে যাতে বিএ অংগ্রহণ করে। সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান ছিল আওয়ামী লীগের অভিষ্ট। সংবিধানের আওতায় সংসদের সকল দলকে নিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এমনকি সর্বন সরকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকসহ যে কোনো মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু বিএনপি এ প্রস্তাবও প্রতার করে। বিএনপিকে বাদ দিয়েই অন্তর্বর্তী সর্বদলীয় সরকার গঠিত হয়। নির্বাচন প্রতিহত করার কর্মসূচি দিলেও ৫ জানু বিএনপি-জামাত জোট রাজধানীতে মাঠে নামে নি। কয়েকটি জেলায় সহিংসতা করে প্রাণহানি ঘটালেও নির্বাচন ঠেকাতে যা হয়। সর্বদলীয় সরকারের অধীনেই ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নির্বাচনে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা ১৫৩টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। এই নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হল দিকে নানা প্রশ্ন ও বিরূপতা ছিল। কিন্তু সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এর যে কোনো বিকল্প ছিল ন পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি যে তুল করেছে, সেটিও নানাভাবে আলোচনায় আসে।

নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর সংসদ সদস্যগণ গ্রহণ করেন। অতঃপর ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তৃতীয় মেয়াদের জন্য শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। মন্ত্রিসভা সদস্যরা হলেন-
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৃতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভা ২০১৪
| ক্রমিক | নাম | পদবি | মন্ত্রণালয়/বিভাগ |
| ১ | শেখ হাসিনা | প্রধানমন্ত্রী | মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ |
| ২ | আবুল মাল আবদুল মুহিত | মন্ত্রী | অর্থ |
| ৩ | আমির হোসেন আমু | মন্ত্রী | শিল্প |
| ৪ | তোফায়েল হোসেন | মন্ত্রী | বাণিজ্য |
| ৫ | বেগম মতিয়া চৌধুরী | মন্ত্রী | কৃষি |
| ৬ | আবদুল লতিফ সিদ্দিকী | মন্ত্রী | ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় |
| ৭ | মোহাম্মদ নাসিম | মন্ত্রী | স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ |
| ৮ | সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম | মন্ত্রী | স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় |
| ৯ | খন্দকার মোশাররফ হোসেন | মন্ত্রী | প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান |
| ১০ | রাশেদ খান মেনন | মন্ত্রী | বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন |
| ১১ | অধ্যক্ষ মতিউর রহমান | মন্ত্রী | ধর্ম বিষয়ক |
| ১২ | ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন | মন্ত্রী | মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক |
| ১৩ | মোহাম্মদ ছায়েদুল হক | মন্ত্রী | মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ |
| ১৪ | মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক | মন্ত্রী | বস্ত্র ও পাট |
| ১৫ | ওবায়দুল কাদের | মন্ত্রী | সড়ক পরিবহন ও সেতু |
| ১৬ | হাসানুল হক ইনু | মন্ত্রী | তথ্য |
| ১৭ | আনিসুল ইসলাম মাহমুদ | মন্ত্রী | পানিসম্পদ |
| ১৮ | আনোয়ার হোসেন | মন্ত্রী | পরিবেশ ও বন |
| ১৯ | নুরুল ইসলাম নাহিদ | মন্ত্রী | শিক্ষা |
| ২০ | শাজাহান খান | মন্ত্রী | নৌপরিবহন |
| ২১ | আনিসুল হক | মন্ত্রী | আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক |
| ২২ | মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম | মন্ত্রী | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা |
| ২৩ | আবুল হাসান মাহমুদ আলী | মন্ত্রী | পররাষ্ট্র |
| ২৪ | মো. মুজিবুল হক | মন্ত্রী | রেলপথ |
| ২৫ | আ হ ম মুস্তফা কামাল | মন্ত্রী | পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় |
| ২৬ | মোস্তাফিজুর রহমান | মন্ত্রী | প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় |
| ২৭ | আসাদুজ্জামান নূর | মন্ত্রী | সংস্কৃতি বিষয়ক |
| ২৮ | সৈয়দ মহসিন আলী | মন্ত্রী | সমাজকল্যাণ |
| ২৯ | শামসুর রহমান শরীফ | মন্ত্রী | ভূমি |
| ৩০ | মো. কামরুল ইসলাম | মন্ত্রী | খাদ্য |
| ৩১ | মো. মুজিবুল হক (চুন্নু) | প্রতিমন্ত্রী | শ্রম ও কর্মসংস্থান |
| ৩২ | স্থপতি ইয়াফেস ওসমান | প্রতিমন্ত্রী | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি |
| ৩৩ | এমএ মান্নান | প্রতিমন্ত্রী | অর্থ, পরিকল্পনা |
| ৩৪ | মির্জা আজম | প্রতিমন্ত্রী | বস্ত্র ও পাট |
| ৩৫ | প্রমোদ মানকিন | প্রতিমন্ত্রী | সমাজকল্যাণ |
| ৩৬ | বীর বাহাদুর উ শৈ সিং | প্রতিমন্ত্রী | পার্বত্য চট্টগ্রাম |
| ৩৭ | শ্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ | প্রতিমন্ত্রী | মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ |
| ৩৮ | শ্রী বীরেন শিকদার | প্রতিমন্ত্রী | যুব ও ক্রীড়া |
| ৩৯ | আসাদুজ্জামান খান | প্রতিমন্ত্রী | স্বরাষ্ট্র |
| ৪০ | সাইফুজ্জামান চৌধুরী | প্রতিমন্ত্রী | ভূমি |
| ৪১ | বেগম ইসমাত আরা সাদেক | প্রতিমন্ত্রী | জনপ্রশাসন |
| ৪২ | বেগম মেহের আফরোজ | প্রতিমন্ত্রী | মহিলা ও শিশু বিষয়ক |
| ৪৩ | মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম | প্রতিমন্ত্রী | পানিসম্পদ |
| ৪৪ | মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা | প্রতিমন্ত্রী | পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ |
| ৪৫ | মো. শাহরিয়ার আলম | প্রতিমন্ত্রী | পররাষ্ট্র |
| ৪৬ | জাহিদ মালেক | প্রতিমন্ত্রী | স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ |
| ৪৭ | নসরুল হামিদ | প্রতিমন্ত্রী | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ |
| ৪৮ | জুনাইদ আহমেদ পলক | প্রতিমন্ত্রী | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ |
| ৪৯ | আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব | উপ-মন্ত্রী | পরিবেশ ও বন |
| ৫০ | আরিফ খান জয় | উপ-মন্ত্রী | যুব ও ক্রীড়া |
- আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ২০১৫ এর অক্টোবরে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়।
২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত শেখ হাসিনার সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়। এ সরকার কার্যত পূর্বতন সরকারেরই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে ২০১৩ সালটি ছিল চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার এসব কারণে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ ব্যাহত হয়।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠান ও নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। সরকার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আন্দোলনের নামে সংঘটিত নাশকতার ক্ষত মুছে দেশে উন্নয়নের গতিবেগ সঞ্চারিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। ফলে নির্বাচনোত্তর এক বছরে একদিকে যেমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে তেমনি অন্যদিকে উন্নয়ন-অর্থনীতিতে বাংলাদেশ নবতর সাফল্যের পথে পা বাড়িয়েছে।
দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, জিডিপি বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এবং রেমিটেন্সের ক্ষেত্রেও উধধগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দের পরিমাণও ক্রমবর্ধমান। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত আছে। ভারতে সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাংলাদেশ তার ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত আছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৩ যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই এক বছরে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারপারসন এবং সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ((আইপিইউ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক দেশ না হলে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন সম্ভব হতো না।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৃতীয় সরকার তার মেয়াদের মাত্র এক বছর পার করেছে। এত অল্প সময়ের কর্মকাণ্ড দিয়ে একটি সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়। তবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা চলে যে, সীমিত সম্পদ, বিপুল জনসংখ্যা এবং পশ্চাৎপদতার ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত একটি দেশ, কেবল যে টিকেই আছে তা নয়, বরং তার মিরাক্যাল অর্থনীতি বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
১৯৭১-এ বাংলাদেশ ‘বিস্ময়কর’ স্বাধীনতা অর্জন করে যেমন বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল, তেমনি দারিদ্র্য, পশ্চাৎপদতা এবং বহুধাবিভক্ত সামাজিক-রাজনৈতিক-ভাবাদর্শগত বিরোধে সমাকীর্ণ একটি দেশ যোগ্য নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দল পেলে যে অসাধ্য সাধন করতে পারে, বিস্ময় জাগাতে পারে: বাংলাদেশ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
