আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও নিয়মাবিলীর নীতি ও উদ্দেশ্য। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
“নীতি ও উদ্দেশ্য”

১। এই প্রতিষ্ঠানের নাম পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ হইবে এবং সংক্ষেপে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ নামে কথিত হইবে।
২। এই প্রতিষ্ঠান ইহার গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচির স্বীকৃতির ভিত্তিতে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাকিস্তান আঞ্চলিক শাখা হিসাবে গণ্য হইবে।
৩। গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচিত হইবে। কোরাণ ও সুন্নার মূলনীতির বিরুদ্ধে কোন আইন
রচিত হইতে পারিবে না।
৪। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, মর্য্যাদা, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের উভয় অংশে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
৫।বাংলা ও উর্দু ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করা।
৬। জাতি ধৰ্ম্ম নির্বিশেষে সকল পাকিস্তানী নাগরিকের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষাবিষয়ক ও অর্থনৈতিক উন্নতি বিধান করা।
91 সকল নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ন্যায় সঙ্গত উপার্জ্জনের ব্যবস্থা করা।
৮। জনসাধারণের অবস্থার ও জীবন ধারণের মানের উন্নতি করা ও পরিশ্রমের উপযুক্ত মর্য্যাদা ও ন্যায্যমূল্য প্রদানের ব্যবস্থা করা ।
৯। দারিদ্র্য মোচন, জ্ঞান বিস্তার, সাম্য ও সুবিচার কায়েম করা; উৎপীড়ন ও শোষণ বন্ধ করা, ঘুষ রেশওয়াৎ প্রভৃতি দুর্নীতি দমন করা এবং মানুষের চরিত্র গঠন ও উন্নত করা।
১০। পাকিস্তানে সর্বপ্রকার শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
১১। সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা করা।
১২। দুনিয়ার অন্যান্য দেশ ও জাতির সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্পর্ক স্থাপন ও দৃঢ় করা।
১৩। আন্তর্জাতিক জগতে শান্তি স্থাপন করা।
১৪। দেশ শাসন ব্যবস্থায় মিতব্যয়ি শান্তি স্থাপন তা প্রবর্তনের দ্বারা জাতীয় আয়কে গঠন মূলক কাজে নিয়োজিত করা।
১৫। বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ হইতে পৃথক করা এবং স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ন্যায় বিচার প্রবর্তনের ব্যবস্থা করা।
১৬। পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলের সর্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ত্ব ও সৌহার্দ্যমূলক স্থাপন করা এবং উভয় অঞ্চলের মধ্যে দ্রুত ও অল্পব্যয়ে যাতায়াত, মেলামেশার সুব্যবস্থা, পারস্পরিক ভাব ও ভাষার আদান প্রদানের সুব্যবস্থা করা।

