আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিল । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিল

২২। নিম্নলিখিত নিয়মানুসারে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবেঃ ক) প্রতি দুই বৎসর অন্তর জিলা আওয়ামী লীগসমূহ দ্বারা নির্দিষ্টসংখ্যক নির্বাচিত কাউন্সিলার সমাবায়ে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে। জিলা আওয়ামী লীগসমূহ, পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আহুত দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় নির্দ্দিষ্ট তারিখের পূর্বে এবং পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি কর্তৃক নিৰ্দ্দিষ্ট তারিখের মধ্যে, তাহাদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল সভায় তাহাদের নিজস্ব কর্মকর্তা ও তাহাদের জেলা হইতে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নির্বাচন করিয়া তাহাদের পূর্ণ ঠিকানাসহ নাম তালিকা পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে অবশ্যই প্রেরণ করিবে।
খ) প্রত্যেক জিলা হইতে ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) জনসংখ্যার হারে একজন করিয়া পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হইবে। সিটি আওয়ামী লীগ হইতে প্রতি ১৫ (পনের) হাজার জনসংখ্যায় একজন করিয়া পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হইবে। ভগ্নাংশের বেলায় জিলা সমূহ প্রতি ২৫ (পঁচিশ) হাজার বা তদূর্ধ্ব সংখ্যার জন্য একজন এবং সিটি সমূহ প্রতি ৭: (সাড়ে সাত হাজার জনসংখ্যা বা তদুর্ধ্ব সংখ্যার জন্য একজন কাউন্সিলার নির্বাচন করিবে।
গ) কোন জিলা বা সিটি আওয়ামী লীগ কোন কারণবশতঃ যদি পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক কাউন্সিলার ও তাহাদের নিজস্ব কৰ্ম্মকৰ্ত্তা প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র ও নিয়মাবলী অনুসারে নির্বাচন করিতে না পারে তাহা হইলে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি উক্ত জিলা বা সিটির জন্য পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক কাউন্সিলার মনোনয়ন দান করিতে পারিবে।
ঘ) উপরোক্ত নির্বাচিত বা মনোনীত কাউন্সিলারগণ পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আহুত দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সভার প্রথম অধিবেশনে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের যে কোন শাখায় প্রাথমিক সদস্যভূক্ত ২৫ (পঁচিশ) জন সদস্যকে কো-অপ্ট করিয়া পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্যভুক্ত করিয়া লইবেন।
২৩। ২২ (গ) ধারায় উল্লিখিত মনোনীত কাউন্সিলারগণ নির্বাচিত কাউন্সিলারদের সর্বপ্রকার অধিকার ভোগ করিবেন। কিন্তু মনোনয়নের পরবর্ত্তী তিনমাসের মধ্যে ঐসব জিলা বা সিটি আওয়ামী লীগের নির্ব্বাচনের ব্যবস্থা পূর্ব পাক আওয়ামী লীগকে করিতে হইবে। উক্ত জিলা বা সিটি উহার নিজস্ব কর্মকর্তা ও পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নির্বাচন করার পর নির্বাচিত সদস্যগণ, উক্ত জিলা বা সিটি পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কর্তৃক মঞ্জুরী প্রাপ্ত হওয়ার পর, আপনা আপনি মনোনীত কাউন্সিলারদের স্থলাভিষিক্ত হইবেন। মনোনয়ন দান হইতে নূতন নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী কালের জন্য পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি উক্ত জিলা বা সিটির পূর্ববর্তী কমিটিকে বা তদস্থলে এড-হক কমিটি গঠন করিয়া দৈনন্দিন কার্য চালাইয়া যাওয়ার নির্দ্দেশ দিতে পারিবে।

২৪। মনোনয়ন, কো-অপসন বা কোন শাখা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ত্রুটি বিচ্যুতির অজুহাতে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ অন্যায় রূপে গঠিত হইয়াছে বলিয়া অভিযোগ করা চলিবে না এবং কাউন্সিলের কোন কার্য বা সিদ্ধান্ত ঐ কারণে রদ, বাতিল, বেআইনী বা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত বলিয়া বিবেচিত হইবে না ।
২৫। পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের নির্বাচিত, কো-অপ্টকরা বা মনোনীত কাউন্সিলারগণ কাউন্সিল সভায় যোগদান করিবার পূর্বে দ্বিবার্ষিক ২. (দুই) টাকা চাঁদা পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান না করিলে কাউন্সিল সভায় যোগদান করিতে পারিবেন না ।
২৬। পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের কোন কাউন্সিলার যদি তাহার নির্বাচনের প্রথম ৪ মাসের মধ্যে তাহার দেয় দ্বিবার্ষিক ২. (দুই) টাকা চাঁদা পরিশোধ না করেন তবে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি তাহার কাউন্সিল সদস্য পদ খারিজ করিয়া তদস্থলে নূতন কাউন্সিলার মনোনীত করিতে পারিবে; তবে সদস্য পদ খারিজ করার পূর্বে উক্ত সদস্যকে নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে দেয় চাঁদা পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দিয়া পোষ্টাল রেজিস্ট্রেশন যোগে নোটিশ দিতে হইবে।
