আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বিবিধ ধারা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বিবিধ ধারা
![কাউন্সিল অধিবেশনে বিবিধ ধারা [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 2 বিবিধ ধারা](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2007/01/আওয়ামী-লীগ01.jpg)
৬৩। জিলা, সিটি, ওয়ার্ড, মহকমা, থানা, মিউনিসিপ্যালিটি, ইউনিয়ন বা পঞ্চায়েত আওয়ামী লীগ বৎসরে অন্তত দুইবার কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করিবে। ইহা ছাড়াও অংশ সদস্যের লিখিত রিকুইজিশন পত্র সম্পাদকের নিকট দাখিল করিবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সম্পাদক অধিবেশন আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় ৩০ (খ) ধারা অনুসারে রিকুইজিশন কারী সদস্যগণ ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে পারিবেন।
৬৪। জিলা, সিটি, ওয়ার্ড, মহকুমা, থানা, মিউনিসিপ্যালিটি ইউনিয়ন বা পঞ্চায়েত আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভা অন্ততঃপক্ষে মাসে একবার আহ্বান করিতেই হইবে। এতদ্ভিন্ন ১০ জন সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত রিকুইজিশন পত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সম্পাদক সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন অন্যথায় রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ ৬৫ ধারায় বর্ণিত কর্মপন্থা অবলম্বন করিতে পারিবেন।
৬৫। পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহ্বানের জন্য ১৯ জন সদস্য রিকুইজিশনপত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। রিকুইজিশন পত্র সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নিকট এক কপি দিতে হইবে। রিকুইজিশন পত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতি সভা আহ্বান না করিলে রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ নিজেরাই ৭ দিনের নোটিশ প্রদান করিয়া সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।
৬৬। রাষ্ট্র প্রধান, বড় লাট, প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক লাট, রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার, ডেপুটী হাই কমিশনার, ট্রেড কমিশনার, কন্সাল, আইন সভা বা পরিষদের সভাপতি বা সহ সভাপতি, মন্ত্রী, স্টেট মন্ত্রী, ডেপুটি মন্ত্রী, পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী, পলিটিক্যাল সেক্রেটারী, সরকারী দলের চীপ হুইপ বা হুইপ এডভোকেট জেনারেল বা উক্ত পদসমূহের অনুরূপ কোন সরকারী চাকুরী বা পদ গ্রহণ করার পর প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্য গঠনতন্ত্রের ২০, ৪৫ ও ৫০ ধারায় বর্ণিত কোন কর্মকর্তা থাকিতে পারিবেন না।
আওয়ামী লীগের কোন কর্মকর্তা যদি উপরোক্ত পদ সমূহের কোন একটি গ্রহণ করেন তবে উক্তপদ প্রাপ্তির ১ মাসের মধ্যে তিনি অওয়ামী লীগ কর্মকর্তার পদ ত্যাগ করিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাহার দায়িত্বভার বুঝাইয়া দিবেন অন্যথায় ১ মাস পরেউক্ত কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠানের পদ আপনা আপনি শূন্য বলিয়া অবশ্য গণ্য হইবে।
৬৭। আওয়ামী লীগের কোন সদস্য অন্য কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হইতে পারিবেন না বা অন্য কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সহিত পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির অনুমতি ব্যতিরেকে কোনরূপ রাজনৈতিক সম্পর্কও রাখিতে পারিবেন না।
৬৮। অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কোন ভূতপূর্ব বা বর্তমান সদস্য আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভূক্ত হইতে চাহিলে তিনি তাহার নিজের জিলার জিলা আওয়ামী লীগের অনুমতি চাহিয়া জিলা আওয়ামী লীগ সম্পাদকের নিকট পত্র দিবেন। উক্ত জিলা আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির অনুমতি ব্যতীত উপরোক্ত রূপ কোন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভূক্ত করা যাইবে না।
তবে জিলা আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপরোক্ত ব্যক্তির মনঃপুত না হইলে তিনি পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির নিকট উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করিতে পারিবেন এবং পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে। পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি ইচ্ছা করিলে সরাসরি ভাবেও যে কোন ব্যক্তিকে প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভূক্ত হইবার অনুমতি দিতে পারিবে।
৬৯।(ক) পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নির্বাচনী সাধারণ বা বিশেষ অধিবেশনে সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে উপস্থিত সভ্যের অংশের ভোটাধিক্যে অত্র গঠনতন্ত্রের বিধানসমূহ বা যে কোন বিধান বা তাহার অংশ বিশেষ পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করা চলিবে।
(খ) গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করিবার উদ্দেশ্যেই যদি কাউন্সিল সভা আহ্বান করা হয় তবে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাধিক্যের ভোটে উহা করা চলিবে।
(গ) কাউন্সিলের নির্বাচনী, সাধারণ বা বিশেষ অধিবেশনকে উপরোক্ত উপধারায় উল্লিখিত কাউন্সিলহিসাবে গণ্য করিতে হইলে কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বানের নোটিশে উক্ত বিষয় কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত করিতে হইবে।
![কাউন্সিল অধিবেশনে বিবিধ ধারা [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 3 বিবিধ ধারা](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2007/01/আওয়ামী-লীগ.jpg)
৭০। (ক) পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের যে কোন কর্মকর্তা বা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য এবং পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারী পার্টির যে কোন সদস্য পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের নিম্নস্থ যে কোন শাখার যে কোন সভায় বা অধিবেশনে যোগদান করিয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না ।
(খ) প্রত্যেক জিলা, সিটি, মহকুমা বা থানা আওয়ামী লীগের যে কোন কর্মকর্তা বা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য নিম্নস্থ যে কোন শাখার যে কোন সভা বা অধিবেশনে যোগাদান করিয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন। কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না।
৭১। যে সমস্ত বিষয় অত্র গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নাই সেই সব বিষয় উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা পূর্ব পাক আওয়ামীলীগ ওয়ার্কিং কমিটির থাকিবে।
![কাউন্সিল অধিবেশনে বিবিধ ধারা [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 1 বিবিধ ধারা](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2023/05/বিবিধ-ধারা-1.png)