আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ঘোষিত ঐতিহাসিক ২১ দফা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ঘোষিত ঐতিহাসিক ২১ দফা

১.ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব অনুসারে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আদায় করা হবে এবং প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও মুদ্রাব্যবস্থা কেন্দ্রের হাতে ছেড়ে অন্য সকল বিষয় ইউনিট সরকারের অধীনে আনয়ন করা হবে। নৌবাহিনীর সদর দপ্তর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন এবং পূর্ব পাকিস্তানকে সামরিক দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তান অস্ত্র নির্মাণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে। আনসার বাহিনীকে একটি পূর্ণাঙ্গ মিলিশিয়ায় রূপান্তরিত করে অস্ত্রসজ্জিত করা হবে।
২.বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
৩.সকল নিরাপত্তা ও নিবর্তনমূলক আটক আইন বাতিল করা হবে এবং বিনা বিচারে সকল বন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ব্যক্তিদের উন্মুক্ত আদালতে বিচার করা হবে।
৪. বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা হবে।
৫. বিনা খেসারতে জমিদারী ও জমিতে সকল খাজনাভোগী স্বার্থ বিলোপ করা হবে। উদ্বৃত্ত জমি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং খাজনা হ্রাস করে ন্যায্য স্তরে নামিয়ে আনা হবে ও খাজনা আদায়ের সার্টিফিকেট প্রথা বিলোপ করা হবে। এবং সরকারী সাহায্যে কুটির শিল্পের পূর্ণ বিকাশ সাধন করা হবে।
৬. সমবায় কৃষি খামার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
৭. পূর্ব বঙ্গকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে শিল্পায়িত করে এবং কৃষিকে আধুনিক যুগোপযোগী করে শিল্পে ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা হবে।
৮.সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে এবং দেশকে বন্যা ও দুর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচানো হবে।
৯. পাট ব্যবসা জাতীয়করণ করে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন করা হবে ও পাট উৎপাদনের জন্য ন্যায্যমূল্য আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে।
১০. পূর্ব বঙ্গকে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য সমুদ্র উপকূলে কুটির শিল্প ও বৃহদায়তন শিল্প উভয় আকারে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং মুসলিম লীগ আমলে লবণ অব্যবস্থার জন্য দায়ী অপরাধীদের শাস্তিদান করা হবে ।
১১. অবিলম্বে মোহাজেরদের পুনর্বাসন করা হবে। ১২. বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা হবে এবং শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা করা হবে ।
১৩. সরকারী ও বেসরকারী বিদ্যালয়সমূহের মধ্যে পার্থক্যের অবসান করে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার প্রবর্তন করা হবে ।
১৪. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কালাকানুন বিলোপ করা হবে। শিক্ষাকে জনসাধারণের কাছে আরো সহজলভ্য করে তোলা হবে এবং ছাত্রদের জন্য স্বল্প খরচে আবাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৫. দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি নির্মূল করা হবে এবং এ উদ্দেশ্যে সকল কর্মচারী ও ব্যবসায়ীর ১৯৪০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অর্জিত সম্পত্তির হিসাব গ্রহণ করা হবে, যে সম্পত্তি অর্জনের উপায় সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যাত হবে না সে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।
১৬. প্রশাসন ব্যবস্থার ব্যয় হ্রাস করতে হবে, উচ্চ ও নিঃবেতনভুক সরকারী কর্মচারীদের বেতনের হার যৌক্তিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। মন্ত্রীরা তাদের মাসিক বেতন এক হাজার টাকার বেশি গ্রহণ করবেন না ।
১৭. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হবে।
১৮. ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মৃতিকে অমর করার জন্য তাঁদের একটি মিনার নির্মাণ করা হবে এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিজনকে ক্ষতিপূরণ দান করা হবে। কবরের উপর।

১৯. ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সাধারণ ছুটির দিন বলে ঘোষণা করা হবে।
২০. পূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রিসভা কোনক্রমে আইন পরিষদের আয়ু বৃদ্ধি করবে না এবং স্বাধীন ও অবাধ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সাধারণ নির্বাচনের ৬ মাস পূর্বে পদত্যাগ করবেন।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে ৩ মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে শূন্যতা পূরণ করতে হবে। পরপর ৩টি উপ- নির্বাচনে মন্ত্রিসভার মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হলে মন্ত্রিসভা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন ।
