১৯৫৪ সনের বন্যা [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –১৯৫৪ সনের বন্যা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ। ১৯৫৪ সালের ২ আগস্ট ঢাকা শহর পানির তলে নিমজ্জিত হয়। ১ আগস্ট সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৪.২২ মিটার এবং ৩০ আগস্ট হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে গঙ্গা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৪.৯১ মিটার। ১৯৫৫ সালে ঢাকা জেলার ৩০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। বুড়িগঙ্গা ১৯৫৪ সালের সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে যায়।

১৯৫৪ সনের বন্যা

 

১৯৫৪ সনের বন্যা

 

দেশ যখন এইরূপ রাজনৈতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত তখন আর এক প্রাকৃতিক-দুর্যোগ দেখা দিল। সর্বগ্রাসী বন্যার তাণ্ডব লীলায় প্রায় সারা পূর্ববাংলা ধ্বংসোন্মুখ। এই সময় আমাদের সহসভাপতি জনাব আতাউর রহমাণ খান জনসাধারণকে সাহায্য দেওয়ার জন্য সরকারকে ও দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে আকুল আবেদন জানান।কিন্তু জনাব হক সেই সময় রাজণীতি হতে অবসর গ্রহণ করলেও একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবেও বন্যাপীড়িত জনসাধারণকে সাহায্য দানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারতেন।

 

কিন্তু জনগণের এই চরম বিপদের দিনে জনাব হকের নীরব ভূমিকা সত্যিই বেদনা দায়ক।যে জনাব হক বন্যার মাত্র কয়েক মাস পূর্বে জনগণকে সেবার প্রতিশ্রুত [প্রতিশ্রুতি] দিয়ে জনগণের ভোট সংগ্রহ করেছিলেন, তিনি সামান্য ৯২-ক ধারার এক ধাক্কায় সেই দুঃস্থ জনতার কথা ভুলে গিয়ে “আত্মজীবণী” লেখায় ব্যাপৃত হলেন বলে জানা গেল । এটা বড়ই মর্মান্তিক।

 

১৯৫৪ সনের বন্যা

১৯৫৪ এবং ১৯৫৫ সালের উপর্যপরি ভয়াবহ বন্যার পর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানের লক্ষ্যে ১৯৫৭ সনে জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ক্রগ মিশনএর সুপারিশক্রমে এতদঞ্চলের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষে ১৯৫৯ সনে পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠন করা হয়। বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইপিওয়াপদা এর পানি উইং হিসেবে দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রধান সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম আরম্ভ করে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সনের মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং: ৫৯ মোতাবেক ইপিওয়াপদা এর পানি অংশ একই ম্যান্ডেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অত:পর সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাপাউবো আইন, ২০০০ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় মাননীয় মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পানি পরিষদের মাধ্যমে বোর্ডের শীর্ষ নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে।

Leave a Comment